টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ৫ জন বিশিষ্ট বাংলাদেশীর নামে বাড়ির নামকরনের ঘোষণা : কমিউনিটিতে প্রতিক্রিয়া
Visitor 571

লন্ডনবিডিনিউজ২৪ : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস হঠাৎ করে টাউন হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ঘোষণা করেছেন যে -
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তি উপলক্ষে তিনি কাউন্সিল নির্মাণাধীন ৫টি বাড়ির নামকরন করবেন ৫ জন বিশিষ্ট বাংলাদেশীর নামে ।তারা হচ্ছেন -কবি সুফিয়া কামাল ,তাসাদ্দুক আহমদ এমবিই ,সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ,সাবেক কাউন্সিলার শাহাব উদ্দিন বেলাল ও বর্নবাদী হামলায় নিহত আলতাব আলী।
সাংবাদিক সম্মেলনে এ ৫জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ঘোষণার পর বিভিন্ন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ প্রতিনিধির কাছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পূর্ব লণ্ডনে বর্নবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা এ কে আজাদ কনর ,রফিক উল্লাহ ,আব্দুন নুর প্রমুখ। তারা বিষয়টি আলোচনার জন্য একটি সভা আহ্বান করবেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন যে - বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির কি অবদান রয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের কল্যানে তারা কি ভূমিকা রেখেছেন ।১৯৭১ সালে বৃটেনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে তাদের কি অবদান ছিল ?
কমিউনিটি নেতৃবৃন্দরা বলেছেন যে - টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এই পাঁচ জনের নাম কাউন্সিলের বাড়ির নামকরন করলে কারো আপত্তি থাকার কথা নয় ।এরা সবাই সম্মানিত ব্যক্তি ।তবে কথা হচ্ছে ,একমাত্র মরহুম তাসাদ্দুক আহমদ এমবিই ছাড়া ১৯৭১ সালে বৃটেনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বা টাওয়ার হ্যামলেটসের কমিউনিটি নেতা হিসাবে তাদের তেমন অবদান ছিল না ।তাদের চেয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসে আরো বহু ত্যাগী নেতা ছিলেন ।তাদের কেন মূল্যায়ন করা হলোনা ? মেয়র জন বিগস ৮ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও আগে কেন এ উদ্যোগ নিলেন না।
কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে -কবি সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের খ্যাতনামা কবি ছিলেন ।সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ও রাজনৈতিক পরিবারের কৃতি সন্তান ছিলেন ।সাংবাদিক শাহাবুদ্দীন বেলাল সাবেক কাউন্সিলার ছিলেন ।আর আলতাব আলী বর্নবাদী হামলার শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন ।তাদের প্রতি সকলের শ্রদ্ধা বোধ আছে ।
তাদের অনেকের নামেই পার্ক ও বাড়ি রয়েছে ।আলতাব আলী পার্ক আছে ।তাসাদ্দুক আহমদ হাউস আছে ।তারপরও তাদের নামে আরো বাড়ির নাম হলে কারো আপত্তি ও বিরোধিতা করার কারন নেই ।কিন্তু এই টাওয়ার হ্যামলেটসে আরো বেশী অবদান রাখার লোকজন রয়েছেন।
যাদের নামে বাড়ি করা হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তি উপলক্ষে তাদের নামে বাড়ির নামকরন করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?
১৯৭১ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে অবদান রেখেছেন- মরহুম তৈয়বুর রহমান ,আলহাজ্ব শামসুর রহমান ,নিছার আলী ,মিম্বর আলী ,হাফিজ মজির উদ্দিন ,শামছদ্দিন আহমদ বন্দাই,আব্দুল মতলিব চৌধুরী ,মতিউর রহমান চৌধুরী ,আলহাজ্ব ছমরু মিয়া ,হাজী তাহির আলী ,খোন্দকার ফরিদ উদ্দিন ,লেখক ও গবেষক নুরুল ইসলাম ,মিনহাজ উদ্দিন ,জাকারিয়া চৌধুরী ,আলহাজ্ব জিল্লুল হক ,মিনহাজ উদ্দিন সহ অনেকে ।বাঙালী সমাজের বড় ত্যাগী নেতা ছিলেন আইয়ুব আলী মাষ্টার ।আহমদ ফখর উদ্দিনও বড় নেতা ছিলেন।
বর্নবাদ বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন -সাবেক কাউন্সিলার রাজন উদ্দিন জালাল ,কমিউনিটি নেতা রফিক উল্লাহ ,সিরাজুল হক সিরাজ ,এ কে আজাদ কনর ,সাবেক কাউন্সিলার সৈয়দ মিজান ,মরহুম আব্দুল বারী ,আব্দুস সালাম , সহ অনেক নেতৃবৃন্দ ।সাবেক মেয়র মনির উদ্দিন আহমদ , মেয়র আব্দুস সালিক ও কাউন্সিলার সাদেক অনেক অবদান রেখে চলে গেছেন।
তাদের নামে কোন বাড়ি ,স্কুল ,রাস্তা বা স্থাপনার নামকরন না করে এই পাঁচজন ব্যাক্তির নামে বাড়ির নামকরনের হঠাৎ ঘোষণার কারন কি?
এ ব্যাপারে আরো কিছু কমিউনিটি নেতা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন যে - মেয়র জন বিগসের উপদেষ্টারা তাঁকে সঠিক তথ্য না দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে ।আবার কেউ কেউ বলছেন -বিগত আট বছর মি জন বিগস টাওয়ার মানুষকে তেমন কিছু দিতে পারেন নি ।তিনি কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি করেছেন ,ওয়ান স্টপ শপ ,ইয়ুথ সেন্টার ,স্টুডেন্ট বারসারী এওয়ারড ,ইএমএ গ্রান্ট ,বাংলা স্কুল ,ফ্রি হোম কেয়ার সার্ভিস ,লান্চ ক্লাব ও অনেক কমিউনিটি গ্রান্ট বন্ধ করেছেন ।রাস্তা বন্ধ করে মানুষের দূর্ভোগ বাড়িয়েছন।
আগামী মে মাসে টাওয়ার হ্যামলেটসে নির্বাচন ।তিনি মেয়র পদে আবার প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন ।তাই বাংলাদেশীদের ভোট নেওয়ার জন্য এই ঘোষণা প্রদান করেছেন ।যাতে বাঙালীরা খুশী হয়ে তাঁকে আবার পুন: নির্বাচিত করে।
এ ব্যাপারে কেউ ধন্যবাদ জানাচ্ছেন আবার কেউ সমালোচনা করছেন।








0 Comments
Add new comment