আজ : ০১:১৫, সেপ্টেম্বর ১৭ , ২০১৯, ২ আশ্বিন, ১৪২৬
শিরোনাম :

শ্রীমঙ্গলের বাইক্কাবিল ও হাইল হাওরে বাড়ছে পর্যটক


আপডেট:০৫:০৮, ফেব্রুয়ারি ১৪ , ২০১৯
photo

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বাইক্কাবিল ও হাইল হাওর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অস্থায়ী হাঁসের বসতি এবং গরু-মহিষের বিশাল চরন ভূমি। শীতের কারণে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বেড়েছে হরেক রকমের অতিথি পাখির আনাগোণা। আর সেই পাখি দেখার জন্য এই বিলে আসতে শুরু করেছেন দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা।

এবছর শীতের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল কম। তবে এখন আবারও জমে উঠতে শুরু করেছে পর্যটন নগরী খ্যাত শ্রীমঙ্গলের পর্যটন স্থান গুলো। এখানকার মনোরম শান্ত স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে এর সাথেই একাত্ম হয়ে যাচ্ছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসুরা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাওর ও বিলে ভরা বর্ষার সেই থই থই দৃশ্য এখন নেই। এখন শীতকাল শুষ্ক মৌসুম চলছে, আর তাই বদলে গেছে হাওরের চিরচেনা রূপ। হাওরের মাঝখানে ও দুই পাড়ের সবুজ অরণ্যজুড়ে ভিড় করেছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখির দল।

হাইল হাওর ও বাইক্কা বিলজুড়ে এখন মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হাতছানি। জলজ আর উভচর প্রাণীর আবাসস্থলের জন্য যেমন হাইল হাওর, তেমনি দেশীয় নানা জাতের মাছ ও পাখির অভয়ারণ্য বাইক্কা বিল। শীত আর গ্রীষ্ম দুই মৌসুমেই এই দুটি স্থানের প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে নতুন রূপে। তবে সারা বছরই পর্যটকদের মুগ্ধ করতে প্রস্তুত থাকে হাওর আর বাইক্কা বিল।

বর্ষা মৌসুমে বিশাল জলরাশির মধ্যখানে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে জেগে ওঠে হিজল, করচ, কলমি আর নয়নকাড়া সবুজ জলজ বনের রাজ্য। শীত মৌসুমে দুচোখ জুড়ে শুধু সবুজ ঘাসের মাঠ, পুরো হাওরজুড়ে গরু-মহিষের চরন ভূমি। আর হাওর ও বিলে খাদ্যের সন্ধানে অবাধ বিচরণ করে নানা জাতের দেশি ও বিদেশি অতিথি পাখি। বিশেষকরে সকাল ও সন্ধ্যায় পাখি দেখতে স্থান দুটিতে সমাগম ঘটে পাখি প্রেমী পর্যটকের। প্রকৃতির টানে এসব স্থানে ছুটে আসেন প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয পিপাসুরা।

জানা যায়, একটু উষ্ণতা আর খাবারের সন্ধানে পুরো শীত মৌসুমে নানা প্রজাতির পাখির দল ঘুরে বেড়ায় হাওরের বিভিন্ন বিলে। গোধূলিলগ্নে পাখিদের ওড়াউড়ি, ডুবসাঁতার, জলকেলি, খুনসুটি, রোদে পালক পোহানো আর খাবার নিয়ে ঝগড়া কিংবা খাবার সংগ্রহের দৃশ্য আগত পর্যটকদের ভিন্ন মাত্রার আনন্দ দিয়ে থাকে ।

অতিথি আর দেশীয় পাখির কলকাকলিতে মুখরিত ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাইক্কা বিল। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, মাছ ও পাখি। এছাড়াও বিলের পাড়ে ঘন সবুজ বন। এমন দৃশ্য খোলা চোখে দেখতে কাদামাটির ভাঙাচোরা রাস্তা মাড়িয়ে এখানে ছুটে আসেন পর্যটকরা।

বাইক্কা বিলে প্রায় ৮০ প্রজাতির মাছ ও শতাধিক প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখির অভয়াশ্রম। বাইক্কা বিল শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের প্রায় ১শ’ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এই বিলকে মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক রকম অতিথি পাখি আর দেশীয় নানা জাতের ছোট-বড় মাছ ও পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এটি। বিলের পাড় ও তীর ঘেঁষে হিজল, করচ, নল খাগরা, ঢোল কলমি আর ফুল ও লতাগুল্মর ছড়াছড়ি। বিলের পানিতে ভাসমান পানা, শাপলা ও পদ্ম, সিংড়া, মাখনা।

বাইক্কা বিলে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ নানা জাতের পাখি। এদের মধ্যে-পানকৌড়ি, কানিবক, ডাহুক, জল মোরগ, ধলাবক, ধুপনি বক, রাঙ্গা বক, মাছরাঙা, গোবক, শঙ্খচিল, ভুবন চিল, পালাসী কুড়া, ঈগল, গুটি ঈগল অন্যতম। কালো লেজ জৌরালি ও দাগিলেজ জৌরালি, লম্বা পায়ের পাখি দলপিপি, নেউপিপি, কুট, পান মুরগি ও বেগুনি কালেম, কালামাথা কাস্তেচরা, গেওয়ালা বাটান, মেটেমাথা টিটি, কালাপাখ ঠেঙ্গী- এই বিলের নিয়মিত অতিথি পাখি। বিপন্ন তালিকায় থাকা পালাশী, কুড়া ঈগল; অন্যান্য পাখির মধ্যে দাগি রাজহাঁস, খয়রা চখাচখি, ল্যাঞ্জাহাঁস, পাকড়া কোকিল, নীললেজ সুইচোর, পাতি আবাবিল, দাগি ঘাসপাখি, সরালি, মরচেরং ভুঁতি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, পাতিচ্যাগা উলে­খযোগ্য। আর মাছের মধ্যে আছে আইড়, মেনি, কাখলে, কই, ফলি, মলা, টেংরা, পুটি, দাড়কিনা, কাশখয়রা, পাবদা, মাগুর, শিং, টাকি, চিতল, কাতলা, বোয়াল, রুই ও গজার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

ওয়াচ টাওয়ারের তদারকির দ্বায়িত্বে নিয়োজিত আহসান হাবিব ও রাজু আহমদ জানান, ‘পাখি ও মাছের নিরাপদ আবাসস্থলের কারণে এখন পর্যটকদের কাছে প্রধান আর্কষণ বাইক্কা বিল।’

সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার পর্যটকরা বেশি আসেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস কোনও পর্যটকের দেখা মেলেনি। তবে এখন আবারও ভিড় বাড়তে শুরু করেছে পর্যটকদের।

বাইক্কা বিলে দেখা হয় ঢাকার ডেমরা থেকে বেড়াতে আসা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা রুমা আহমেদ ও উনার কলেজ পড়ুয়া ছেলে পুলকের সঙ্গে। মা-ছেলে জানান, হরেক রকম প্রজাতির পাখির মেলা দেখে উৎফুল­ তারা।

এছাড়াও কথা হয় বি-বাড়িয়ার ব্যাংক কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ ও তার স্ত্রী পাপিয়া সুলতানা নবদম্পতির সাথে। এক সঙ্গে এতো পাখি আর সবুজ প্রকৃতি দেখে তাদের মুগ্ধতার কথা জানালেন।

বাইক্কা বিলের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকা সংগঠন বড়গাঙ্গিনার সম্পাদক মিন্নত আলী বলেন, ‘হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হাওরে মাছ বৃদ্ধির জন্য বেশি করে গভীর অভয়াশ্রম তৈরি ও পাখির নিরাপদ নিবাসের জন্য বনায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।’

Posted in সিলেট


সাম্প্রতিক খবর

লন্ডনে সফল ভাবে সম্পন্ন হলো গোলাপগঞ্জ উৎসব

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃ দীর্ঘ তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার সফল ভাবে সম্পন্ন হলো গোলাপগঞ্জ উৎসব যুক্তরাজ্য-২০১৯। ব্রিটেনের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো প্রায় ৫০টির মতো সংগঠন ও বিলেতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার গোলাপগঞ্জবাসীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎসব মুখর পরিবেশে পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক ব্রাডি আর্ট সেন্টারে উৎসবটি সম্পন্ন হয়। পূর্ব

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment