আজ : ০২:৩৭, জুলাই ২২ , ২০১৯, ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর’ করার প্রস্তাব


আপডেট:০৯:২০, ফেব্রুয়ারি ১১ , ২০১৯
photo

ঢাকা প্রতিবেদক: প্রয়াত সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের নামে গড়ে তোলা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে’ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের জন মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রস্তাব এনেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। জাদুঘরটির অবস্থান চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার কাজির দেউড়ি এলাকায়।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নওফেলের এই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন মন্ত্রীসভার প্রায় সব সদস্য। প্রস্তাবে নীতিগত সমর্থন এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে নওফেল এই প্রস্তাব দেন। এতে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর বীরপ্রতীক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহার উশৈসিং এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

সূত্রমতে, বৈঠকে উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ‘যে ভবনটিকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বানানো হয়েছে, সেটি বৃটিশ আমলে নির্মিত। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত একটি ভবন এটি। একসময় সার্কিট হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালে অনেক নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি সেনারা ধরে নিয়ে ওই ভবনে রেখে নির্যাতন করেছিল। সেখানে একটি ইলেকট্রিক চেয়ার ছিল। সেখানে বসিয়ে অকথ্য নির্যাতন করা হতো। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন এই সার্কিট হাউজে এসে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯১ সালে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটিকে আকস্মিকভাবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করেন, যা চট্টগ্রামবাসী এবং আপামর মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নেননি। সেখানে জিয়াউর রহমানের কোনো স্মৃতি নেই। শুধু ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাটি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে যে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রচার হয়েছিল, সেটি এনে সেখানে রাখা হয়েছে। অথচ জিয়াউর রহমানের আগে একই ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে এই ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান। তাহলে শুধু জিয়াউর রহমানের নামে কেন জাদুঘর হবে?’

নওফেল আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী। আদালতের রায়ে তিনি একজন অবৈধ সামরিক শাসক। তার নামে কেন একটি রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এভাবে ব্যবহার করা হবে? তাছাড়া জিয়ার নামে স্থাপনা হওয়ায়, এই দর্শনীয় স্থানটিতে চট্টগ্রামের মানুষ যান না। অথচ এটিকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করে একটি সার্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্ত করলে এটি দেশের সম্পদে পরিণত হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে একটি প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ করেন মন্ত্রীসভার তরুণ সদস্য নওফেল।

নওফেলের বক্তব্যের পর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রথম তাকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি এই বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকেও উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়ে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর বীরপ্রতীক বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের প্রস্তাবে সমর্থন ব্যক্ত করছি।’

জানতে চাইলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘আমি যে এলাকার সংসদ সদস্য, সেই এলাকায় এই জিয়া স্মৃতি জাদুঘর। সেটিকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরের দাবি আছে চট্টগ্রামবাসীর। এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রস্তাব আমি মন্ত্রীসভায় তুলে ধরেছি। মাননীয়ন প্রধানমন্ত্রীও নীতিগতভাবে সমর্থন দিয়েছেন। আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে চিঠি দেব, যাতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং কাজটি দ্রুত শুরু করা হয়।’

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯১৩ সালে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় তৎকালীন বৃটিশ শাসকরা দৃষ্টিনন্দন ভবনটি নির্মাণ করে, যা পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য ব্যবহৃত হত।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সফরে এসে সার্কিট হাউজের চার নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ভোরের দিকে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। ওই বছরের ৩ জুন সার্কিট হাউসকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য সরকারি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এরপর ১৯৯১ সালে জিয়াউর রহমান স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সেই জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়। জাদুঘরে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের নমুনা, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং স্বাধীনতা ঘোষণার ট্রান্সমিটারটি সংরক্ষিত আছে।

নওফেলের পিতা চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিভিন্নসময় ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ নিয়ে কঠোর সমালোচনা এসেছিল। ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে সেটি ভেঙ্গে ফেলারও দাবি উঠেছিল।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নওফেল প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই এই দাবি সামনে এনেছেন এবং মন্ত্রীসভায় পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে নওফেল চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন কর্ণফুলী টানেলকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।



সাম্প্রতিক খবর

কেবিনেট মেম্বার আমিনা আলীর সাথে কেয়ারার্স এসোসিয়েশনেের নেতৃবৃন্দের সভা

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃ একজন কেয়ারারের সপ্তাহে ১২ ঘন্টা কন্ট্রাক্টের আওতায় প্রতিদিন সকালে ১ ঘন্টা, দুপুরে ৩০ মিনিট আবার বিকেলে ৩০ মিনিট কাজ দিয়ে সারাদিন আটকে রেখে কন্ট্রাক্টের অপব্যবহার না করে এজেন্সি গুলোকে কাজে শিফটিং ব্যবস্থা চালু করে এক শিফটের মধ্যে কন্ট্রাক্টের আওয়ার নিয়ে আনা ও অন্যান্য দাবী নিয়ে গত ১৫ জুলাই সোমবার বিকেল ৬ টায় টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের এডাল্টস,

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment