আজ : ০১:২৩, অক্টোবর ১৬ , ২০১৮, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫
শিরোনাম :

সরকার নিজেই ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িত: অর্থনৈতিক লুটপাট নিয়ে নিউইয়র্কে সেমিনারে বক্তারা


আপডেট:০৬:২৬, অক্টোবর ১ , ২০১৬
photo

লন্ডনবিডিনিউজ২৪: দেশের ব্যাংক ডাকাতি এবং টাকা পাচার বন্ধে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা ব্যাংিক সেক্টরে বেপরোয়া ডাকাতি, শতশত কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং অর্থনৈতিক লুটপাট তদন্তে বিশেষ কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গত নয় বছরে ব্যাংকিং সেক্টরের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দাবী জানানো হয়ে।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ দাবী জানান। বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচার বিষয়ক ওয়াচ-ডগ ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ’গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি/জিএফআই’ এর সহায়তায় “ইন্টারন্যাশনাল কমিটি এগেইন্সট ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এগেইনস্ট বাংলাদেশ“ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে ’ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইন বাংলাদেশ: মানি লন্ডারিং এন্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ডক্টর শওকত আলী। এ ছাড়াও সেমিনারে ’ইলিসিট মানি ট্রান্সফার ফর্ম বাংলাদেশ: পলিসি রিকমেন্ডশন ফর গভার্মেন্ট’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন “গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি/জিএফআইয়ে‘র চীফ ইকোনোমিস্ট ডক্টর দেব কর।

’ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইন বাংলাদেশ: হাউ উইল ইট ইমপ্যাক্ট অ্যাচিভিং সাসটেইনবল ডেভলপমেন্ট গোল’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অর্থনীতির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান এবং ’স্যোসিও ইকোনোমিক কন্ডিশন অব বাংলাদেশ’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহমুদ রেজা চৌধুরী । ড. শওকত আলী বলেন, বর্তমান সরকার ব্যাংক ডাকাত সরকার।

এই ব্যাংক ডাকাতরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছে, ব্যাংকিং সেক্টরে এতবড় দূর্নীতির ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসেও বিরল। তিনি বলেন, ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাটি আতিউর রহমান জনগনের কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছিলো।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অথচ শেখ হাসিনা সার্টিফাই করে বলেছেন, অতিউর রহমান নাকি দেশের জন্য ভালো কাজ করেছে। এতে বোঝা যায়, এই সরকার ব্যাংক ডাকাতদের পক্ষে এবং প্রতিটি ব্যাংকে ডাকাতির সঙ্গে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জনগন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো একটি সাম্য ও মানাবিক মর্যাদা সম্পন্ন রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের জন্য। শতশত কোটি টাকা বিদেশে পাচারের জন্য নয়। তিনি বলেন, কেবল টাকা পাচারই নয়, শেয়ার বাজার কেলেংকারী, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঋণ খেলাপি হওয়া এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের শতশত কোটি টাকা ঋণ মওকুফ, এভাবে নানাউপায়ে জনগণের টাকা লুটপাট করছে বর্তমান ব্যাংক ডাকাত সরকার।

ডক্টর শওকত আলী বলেন, স্বাধীনতার পর ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে ম্যানুয়ালী, এখন ব্যাংক ডাকাতি হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। জিএফআই এর চীফ ইকোনোমিস্ট ড. দেব কর বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েসিং কিংবা লেস ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করে দেয়ার সুযোগ নিচ্ছে টাকা পাচারকারীরা।

ড. দেব কর বলেন , অর্থপাচারে জিএফআই সম্প্রতি যে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে যে পরিমান অর্থ অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচারের তথ্য দেখানো হয়েছে তার থেকেও বেশি অর্থ পাচার হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাস্টমস ও ব্যাংকিং প্রশাসন সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ।

মাহমুদ রেজা চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে দেশের জনগণ এখন প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই কারণে দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশের মাত্র ১ শতাংশ লোক লুটপাট করে খাচ্ছে।

রাজনীতিবিদরা দেশে বিরোধ বাধিয়ে রাখলেও দেশের টাকায় তাদের সন্তানদের বিদেশে পড়াচ্ছেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘ করেসপনডেন্ট এসোসিয়েশন (ইউএনসিএ) এবং ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন প্রেস সেন্টারের সদস্য ইমরান আনসারী। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশের জনগন এখন স্বদেশী ব্যাংক ডাকাত ও লুটেরাদের কবলে। প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় দেশের কোনো না কোনো ব্যাংক থেকে অর্থ লুট হচ্ছে।

বিভিন্ন নামে বিভিন্ন কায়দায় এই অর্থ লুটপাট চলছে। লুটপাট চলছে ঋণ খেলাপির নামে, শেয়ার বাজার কেলেংকারি মাধ্যমে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে। এক কথায় ব্যাকিং সেক্টরে চলছে ডাকাতি। আর ডাকাতরা জনগণের এইসব অর্থ পাচার করে দিচ্ছে বিদেশে। তিনি বলেন, তাই জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধানে তাই জনগণকেই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। সেমিনার উপস্থাপনা করেন লেখক ও গবেষক কাউসার মুমিন।



সাম্প্রতিক খবর

প্রত্যেকটা উৎসবে সবাই ভাই বোনের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা উদযাপন করে যাই: প্রধানমন্ত্রী

photo ঢাকা সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্থ করে বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে জমি নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। ইতোমধ্যেই সেই সমস্যাটা আমরা সমাধান করে ফেলেছি। বাকী কাজটা আপনাদের ওপরই নির্ভরশীল।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment