আজ : ০৯:২৪, ফেব্রুয়ারি ২৫ , ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন, ১৪২৪
শিরোনাম :

যুক্তরাজ্য বিএনপি’র বিবৃতি ঃ দুর্নীতি আড়াল করতে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্বে মিথ্যাচার করছে আওয়ামীলীগ


আপডেট:০৭:২৬, জুলাই ২৬ , ২০১৭
photo

লন্ডনবিডিনিউজ২৪: যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালিক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্বে প্রদত্ত মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্ভট সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, শেখ হাসিনাসহ অবৈধ সরকারের নেতারা চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন তা অসত্য ও অপ-আলাপ ছাড়া আর কিছুই নয় বলে উল্লেখ করেন নেতৃবৃন্দ ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিষেদাগার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য নতুন কিছু নয়। দেশে অথবা বাইরে যেখানেই তিনি থাকুন না কেন তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও মিথ্যা অপপ্রচার থাকবেই।

২০১৫ সালের সেপ্টম্বরে যখন চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়া লন্ডন এসেছিলেন তখনও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বক্তব্য দিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা থেকে থেকে শুরু করে সরকারের অবৈধ মন্ত্রী-এমপিসহ সিনিয়র নেতারা।

তারা বলেন দেশ ত্যাগ এবং ষড়যন্ত্র করার উদাহরণ কেবল গণতন্ত্র হত্যাকারী ও দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী আওয়ামী লীগের মধ্যেই রয়েছে। ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় সেটি প্রমাণিতও হয়েছে। তারা বলেন, সেই সময় সেনা সমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকে প্রচন্ড চাপ সত্ত্বেও দেশ ত্যাগ করেননি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এজন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ জিয়ার দুই সন্তান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ও বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর উপরঅমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। দেশের কথা, জনগণের কথা চিন্তা না করে শেখ হাসিনাই তখন বিদেশে চলে দিয়েছিলেন। পরে মঈন-ফখরুদ্দিনদের সাথে আঁতাত করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ ।

বেগম খালেদা জিয়া কখনোই হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। দেশে সংঘটিত বোমা হামলা, খুন, গুম, চাঁদাবাজিসহ সব অনৈতিক কাজের সাথে ভোটারবিহীন সরকারের দলের লোকজনই জড়িত। অবৈধ সরকার তাদের ব্যর্ততা ঢাকতেই দেশনেত্রী বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।

তারা বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ক্ষমতাসীনদের এমন কথাবার্তা হিংসা ও হানাহানির রাজনীতিকে উসকে দিবে। রাজনীতিতে হিংসা, হানাহানি মানুষ পছন্দ করে না কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং অবৈধ মন্ত্রী এমপিরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলতেই রাজনীতিতে হিংসা ও হানাহানি উস্কে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয় ২০০৪ সালের ৪জুন হরতালের আগের দিন শাহবাগে বাসে আগুন দিয়ে ১১ যাত্রীকে শেখ হাসিনার নির্দেশে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম। ২০১৫ সালে একইভাবে শেখ হাসিনা ও জয়ের নির্দেশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডার যারা এখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় কর্মরত তাদের যোগ সাজসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অনেককে তখন হাতেনাতে ধরাও হয়েছে। তাই নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই পাগলের প্রলাপ বকছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশের উন্নতি হয় নাই, উন্নতি হয়েছে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের আর দেশ এখন দুর্নীতির মহাসড়কে । ঢাকা চট্রগ্রামসহ প্রধান শহরের রাস্তাগুলো এখন গাড়ি চলাচলের উপযোগী নয়। রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে এখন ব্রিজ কালবার্ট নির্মিত করে দেশের জনগণের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে শেখ হাসিনার পরিবার।

শেখ হাসিনার পুত্র ‘থ্রি হান্ড্রেড মিলিয়ন ডলার ম্যান’ খ্যাত সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যাংক ডাকাতি ও দুর্নীতি নিয়ে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমেরিকার এফবিআই জয়ের দুর্নীতির তদন্ত করছে। ব্যাংক ডাকাত সরকারের আমলে টাকা পাচার বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। খোদ শেখ হাসিনা, জয় এবং শেখ রেহানা এইসব লুটেরা এবং টাকা পাচারকারীদের প্রধান রক্ষক বলে জনগণ মনে করে। কারণ প্রতিটি ব্যাংক ডাকাতি, লুটপার আর টাকা পাচারের সঙ্গে শেখ হাসিনার পরিবার এবং আওয়ামীলীগের দুর্বৃত্তরা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত। দেশের সরকারি-বেসরকারী ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া বানিয়ে শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লুটেরাদের শত শত কোটি টাকা এখন সুইস ব্যাংকে। সুইস ব্যাংক ছাড়াও শেখ হাসিনার ব্যাংক ডাকাত সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হয়েছে ৬ লাখ কোটি টাকা। সুইস ব্যাংকের টাকা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে হৈ চৈ হলেও পাচার হওয়া ৬ লাখ কোটি টাকা নিয়ে কোন আলোচনা নেই।

শুধু ২০১৪ সালেই বাংলাদেশ থেকে আরো প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ২০১৩ সালে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা। এভাবে গত ১০ বছরে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে ছয় লাখ ছয় হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। অবৈধ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছে, দৃশ্যমান পাচার হওয়া এই টাকার চেয়ে বহুগুণ বেশী টাকার হিসাব আজ দেশের ব্যাংক গুলতে পাওয়া যাচ্ছে না, এটি শুধু পুকুর চুরি নয়- হয়েছে সাগর চুরি। অপরদিকে সরকার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, লুটপাটের টাকা হজম করতে না পারলে ভবিষ্যতে দলের নেতাকর্মীদের বিপদ আছে, বিদেশে পালানো ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮১০ কোটি টাকা লোপাট হয়ে যায় ২০১৬ সালের পাঁচ ফেব্রুয়ারী। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই টাকা লোপাটের ঘটনা সাইবার হ্যাকিং ছিলোনা। এটি ছিল সুইপ্ট কোড ব্যবহার করে ঠান্ডা মাথায় ডিজিটাল উপায়ে ব্যাংক ডাকাতি।

শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে এই কোড নাম্বার জানতেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ফলে ডক্টর আতিয়াররিজার্ভ লুটের ঘটনা অর্থমন্ত্রী আবুল মালকে না জানিয়ে প্রথমেই জানান শেখ হাসিনাকে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতেযুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসে রিজার্ভ লুটের পরিকল্পনা করা হয়। সে বৈঠকে জয়ের সঙ্গে রাকেশ আস্তানাসহ আরও কমপক্ষেতিনজন ছিলেন বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতারা মরিয়া হয়ে প্রপাগান্ডায় লিপ্ত রয়েছে। তারা জানে সহায়ক সরকার এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্যে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি শক্তি বাড়াতে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং পুরাতন সদস্য নবায়ণ করছে। এই নেতাকর্মীরা আগামীতে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি প্রতিরোধে কেন্দ্র পাহারা দেবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৫ ভাগ ভোটারও ভোট দেয়নি। সেদিন মানুষ ভোট দিতে যায়নি, গিয়েছিলো কিছু গরু-ছাগল, কুকুর-বিড়াল। আগামী দিনে যাতে আওয়ামী লীগ এর পুনরাবৃত্তি করতে না পেরে তার জন্য বিএনপি’র সাংগঠনিক তৎপরতা ও ভোট ডাকাতি প্রতিরোধের দৃঢ় মনোবল দেখে আওয়ামী লীগ দিশেহারা। তাই আওয়ামী লীগ অবলিলায় মিথ্যাচার করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তারা দেশের উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি নিয়েও মিথ্যাচার করছে। তাদের দেখানো প্রবৃদ্ধি বাস্তবে ৪.২ ভাগের বেশি নয় । শেখ হাসিনার পরিবার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিজেদের প্রবৃদ্ধি অনেকগুন বৃদ্বি হয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নাই। তাই যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এসব অপপ্রচার ও মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয় এসব মিয়হ্যাচার ও ষড়যন্ত্র বন্দ্ব না হলে প্রবাসী কমিউনিটি ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও ব্যাংক ডাকাত জয় দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিই শুধু ধ্বংস করছে না। বিরোধী মতের নেতা কর্মীরদের গুম খুন করার মাধ্যমে রক্তের হুলি খেলায় মেতে উঠেছে, দেশকে এক জ্বলন্ত কারাগারে পরিণত করেছে। গুম খুনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি কায়েম করে গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গিলে খাচ্ছে। বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য প্রবাসী কমিউনিটিসহ দেশের জনগণের প্রতি আহবান জানানো হয় এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেই গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতি ও দূর্নীতি দুঃশাসনের বিচার অচিরেই দেশের মাটিতে সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।



সাম্প্রতিক খবর

মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

photo শিহাবুজ্জামান কামাল; গত ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের এলএমসি হলে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট টিভি ব্যক্তিত্ব আজমল মাসরুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মানুষের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান ও উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করতে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের দানকৃত প্রয়োজনীয় অর্গান প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শতশত অসুস্থ মানুষের জীবন বাচানো

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment