আজ : ০৫:৩১, অগাস্ট ২০ , ২০১৮, ৪ ভাদ্র, ১৪২৫
শিরোনাম :

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সমন্বিত চিন্তায় আমার ভিন্নমাত্রা


আপডেট:০৩:০৯, জুন ৯ , ২০১৮
photo
রোমান বখত চৌধুরীঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের একটি লেখা পড়লাম। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হয়ে একটি সমন্বিত পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থী বের করা হবে। বড় সুবিধাটি হবে শিক্ষার্থীদের বারবার বিভিন্ন যায়গা ঘুরে পরীক্ষা দিতে হবে না। যেমন রাজশাহীর কেউ সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিলেই চলবে। অথবা একজন ছাত্র কোথায় পরীক্ষা দিবে সেটি সেই নির্বাচন করবে। এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কল্যাণমূলক ভাবনা যা তিনি সবসময় করে থাকেন। তবে একজন প্রিয়ভাজন শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর অতিমাত্রায় খোলামেলা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও মতাদর্শগত কারণে তাঁর অনেক লেখা সবার হয়ে উঠে না। উনার ফেসবুক পেজের কমেন্টসের দিকে চোখ রাখলে এর যথার্থতা লক্ষ্য করা যায়। তবে যারা বাজে বকবক করেন তাদেরকে আমি সমর্থন করি না। পারলে যৌক্তিক একটা ব্যাখ্যা দাড় করান কেন আপনি দ্বিমত পোষণ করেন। সবাই তো আর আবদুল্লাহ আবু সায়িদ এর মতো নন। যাক, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা যে অর্থ ও সময় বিশেষ করে দীর্ঘপথে যাতায়াতকালীন সমূহ জীবননাশ ঝুঁকি কমে আসবে এ আমরা সবাই নিশ্চিত। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এর মাধ্যমে সাশ্রয় ও স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করবেন।
শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে ভর্তি পরীক্ষার চাপ কমানোর চিন্তাটি আর সবার মতো আমি সাধারণকেও ভাবায়। কারণ ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পরে ফাঁকা সময়টাতে একটু নিজের মতো কিছু করবে কি, কোচিং আর ভর্তি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় অবলাদের। এক্সট্রা কারিকুলার কিছু কিংবা একটা নতুন স্কিল শিখারতো এটাই সময়। যাক, জাফর স্যারের ভাবনার সাথে ভিন্ন মতামত যুক্ত করতে চাই। আমার কথা হচ্ছে, ছাত্রদের বারবার পরীক্ষায় না ফেলে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা পরীক্ষা হয়ে যাক না। শিক্ষার্থীরাতো ইন্টারমিডিয়েট বা অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষা দিলো। তাদের বারবার পরীক্ষা দেয়ার দরকারটা কি? সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী রেঙ্কিং করলে কেমন হয়? এতে শিক্ষার্থীদের আর এতো ঝামেলা পোহাতে হয় না। তারা শুধু আবেদনটা করবে। কে কোথায় ভর্তি হতে পারবেন তা নির্ধারিত হবে শিক্ষার্থীর বিগত পাবলিক পরীক্ষার গড় ফলাফলের উপর। আমি শুধুমাত্র ইন্টারমিডিয়েটের ফলাফলকে বলছি না। আমি শিক্ষার্থীর তাবৎ পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলকে একটি গ্রেডে নিয়ে আসা কথা বলছি। আর এই গ্রেডটার ফলাফলে দশমিকের পর তিন বা চার ডিজিট পর্যন্ত রাখা হবে যথাযথ এলিমিনেশনের জন্য। সবগুলো পাবলিক পরীক্ষার বিষয়টি এজন্যে আনলাম কারণ কেউ যদি ইন্টারমিডিয়েটে খারাপ করে তাহলে অন্য পরীক্ষার ভালো ফলাফল তাকে কিছুটা এগিয়ে দিবে। তাছাড়া কোন একটি নির্দিষ্ট একটি পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যায় না। সুতরাং সবগুলো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল আমলে নিলে শিক্ষার্থীর মেধার একটা এভারেজ পাওয়া যাবে যা জাস্টিফায়েড মনে হয়।
এবার একজন শিক্ষার্থীর কাজ হবে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ডিটেইলস উল্লেখ করে আবেদন করা। সেটি অনলাইনে হলেই ভালো হয়। নামেমাত্র প্রোসেসিং ফি নেয়া হবে তখনই যখন একজন ভর্তি হবেন। যারা অকৃতকার্য হবেন তাদের থেকে কোন ফি নেয়া উচিৎ হবে না। এই প্রোসেসিং ফি তারাই নিবেন যারা এই ভর্তি পরীক্ষার কাজের সাথে যুক্ত। অন্য কেউ নয়। এভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলে কোচিং নামক গলার কাঁটা বা ফাঁস যাই বলিনা কেন, ব্যবসা বন্ধ করে পালাবে। কারণ তাদের তো আর কিছু করার নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেংকিং হবে দুটো ভাগে। প্রথম ভাগে থাকবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর দ্বিতীয় ভাগে থাকবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক সুবিধা ও অসুবিধা চিহ্নিত করে একটা স্কোর দাড় করানো যেতে পারে। বিশেষত শিক্ষাদান পদ্ধতি, গবেষণা সুবিধা, আন্তর্জাতিক অবদান, চাকরির বাজারে অবস্থান, লোকেশন, আবাসন, কো-কারিকুলার এক্টিভিটি, নিরাপত্তা, সেশনজট, রাজনৈতিক মারামারি, খাবারদাবার ও শপিং সুবিধা, যোগাযোগ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, টিউশন ফি ইত্যাদি নিয়ে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় পর্যায়ে একটি মান নির্ধারণ করা হবে। প্রতি বছর এটি মূল্যায়ন করার পর পজিশন আপডেট করা হবে। এখানে আরেকটি বিষয় যুক্ত করা যেতে পারে ‘পাবলিক ফিডব্যাক’। এই ফিডব্যাককে স্কোরে রুপান্তর করে যুক্ত করা যেতে পারে। এ কাজটি করবেন সরকারের একটি স্বাধীন সংস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনই এই দায়িত্ব নিতে পারেন।
সুযোগ সুবিধা বিবেচনায় শহর ও গ্রামে ভিন্নতা আছে। তাছাড়া পারিবারিক আয়ের সাথেও একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলাফলে সম্পর্ক আছে। একজন শিক্ষার্থী নিজে নির্ধারণ করতে পারেন না তিনি কোথায় জন্মাবেন। আর সরকারও এমন হয়নি যে বাংলাদেশে শহর ও গ্রামের নাগরিক সুবিধা এক তুড়িতে এক করে দেবেন। সুতরাং যেসব শিক্ষার্থী অপেক্ষাকৃত কম সুবিধা, কম আয়, বিবিধ প্রতিবন্ধীত্ব থেকে এসেছেন তাদেরকে বাড়তি কয়েকটা গ্রেস মার্ক দিয়ে রাখতে পারেন। তাতে কম সুবিধাগ্রস্তদের সমান সুযোগের বিষয়টি আমলে নেয়া হবে।
আমাদের দেশে কোথাও ভর্তি বা চাকুরি নিয়ে সার্টিফিকেটের অনুলিপিতে প্রথম শ্রেণীর কোন কর্মকর্তার সত্যায়ন করা লাগে। জানি না এখনো এটি আছে কি না! আমি জানিনা আজকের এই দিনে এসবের কি যথার্থতা? এ কাজটি করতে যেয়ে অযথা সময় ও অর্থের অপচয় হয়। একটা বাড়তি টেনশন নিতে হয়। তাছাড়া অনেক সময় পূর্ব পরিচিত সরকারী কর্মকর্তা পাওয়াও দুষ্কর। পরিচিত না হলে অনেকে দিতে চান না। ঝামেলা পোহাতে অনেকেই দেখেছি সিল ও সই নিজেই মেরে দেন। আর এসব পরীক্ষা করে কখনো দেখা হয় না। এ ঝামেলা পোহাতে প্রযুক্তির এমন উর্বর সময়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পাবলিক পরীক্ষা সহ অন্যান্য কো-কারিকুলার এক্টিভিটিজ নিয়ে সরকারের শিক্ষা বোর্ড বা কোন সরকারী সংস্থা অনলাইন একাউন্ট খুলতে পারে। সেখানে ঐ ছাত্রের সমস্ত ডিটেইল সম্বলিত তার সার্টিফিকেট, কো-কারিকুলার কাজের সার্টিফিকেট, কোর্ট বা অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক অপরাধের সাজা বা ফাইন ইত্যাদির সফট কপি সংরক্ষিত থাকবে। ভর্তি কমিটির বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত এক বা একাধিক ব্যক্তি এই একাউন্টে ঢুকতে পারবেন যাচাই করার জন্যে। বিশেষ নিয়মের মাধ্যমে সমাজ বা রাষ্ট্র বিরোধী কোন শিক্ষার্থীকে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়া যেতে পারে। ফলে সার্টিফিকেট জাল না ঠিক, সন্ধেহ থাকলো না। আর কেউ সে সুযোগও নিতে পারলো না। এই একাউন্ট সিস্টেম থাকলে একজন শিক্ষার্থী প্রাইমারী স্কুল থেকেই নিজেকে চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করবে। ফলে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে ধীরে ধীরে সৎচরিত্র, মেধাবী ও নিষ্ঠাবান লোকেরা যায়গা করে নিবে যা সমাজ ও রাষ্ট্রের মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে।
সুতরাং আমার ধারণা শিক্ষার্থীদের অযথা হয়রানী না করে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের মান নিয়ন্ত্রনে সজাগ হওয়া জরুরী। শিক্ষার্থীরাতো বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা দিয়েই আসছে। সেখানে তারা একটা মান অর্জন করেই চলেছে। ফলে তাদের অর্জন করা ফলাফলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়ার একটা অধিকার তৈরি হয় যে সে কোথায় শিক্ষা নিবে। সামন্তবাদি সমাজ ব্যবস্থা বাংলাদেশে কাগজে কলমে নেই কিন্তু আমাদের মজ্জায় আছে। তাই যিনি সার্ভিস নিবেন তিনি পছন্দ করতে পারবেন না এই বিষয়টি এখনো চলমান কি বিশ্ববিদ্যালয় কি সংসারে! বিষয়টি সবসময় উল্টো না ভেবে বরং এভাবে ভাবি যে, এখন বাছাই করবে শিক্ষার্থীরা, বিশ্ববিদ্যালয় নয়। বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরীক্ষা দেবে তারা মানদণ্ডের কোথায় কে আছে!
চলুন একটু প্র-পাবলিক বা প্র-শিক্ষার্থী চিন্তা শুরু করি। একটু আউট অব বক্স।
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখার লিঙ্কটিঃ https://www.facebook.com/our.zafar.sir/posts/1971291642945403
লেখকঃ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এর সাবেক শিক্ষার্থী।
Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

সড়কে প্রাণ গেল নারী-শিশুসহ ৬ জনের

photo ঢাকা প্রতিনিধি: ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার শাহাবুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ছাগলনাইয়ায় উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জে সুলতানা ফিলিং স্টেশনের

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment