আজ : ০৮:২৩, মার্চ ২৩ , ২০১৯, ৯ চৈত্র, ১৪২৫
শিরোনাম :

শামীমাকে নিয়ে হল্যান্ড ফিরতে চান তার ডাচ স্বামী


আপডেট:০৯:৪০, মার্চ ৪ , ২০১৯
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইএসে যোগ দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ স্কুলশিক্ষার্থী শামীমা বেগমকে নিয়ে হল্যান্ডে ফিরতে চান তার ডাচ স্বামী। স্ত্রী ও নবজাতক পুত্র সন্তানকে নিয়ে সেখানেই থাকতে চান তিনি। বিবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন শামীমার স্বামী ২৭ বছরের ডাচ নাগরিক ইয়াগো রিডিজক।

২০১৫ সালে আইএসে যোগ দিতে বাসা থেকে পালিয়ে সিরিয়া চলে যান শামীমা। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। সিরিয়া গিয়ে তিনি আইএস জঙ্গি ইয়াগো রিডিজককে বিয়ে করেন। সে সময় রিডিজকের বয়স ছিল ২৩ বছর।

ইয়াগো রিডিজক জানান, সিরিয়ায় তার এক বন্ধু তাকে শামীমার কথা জানান। তাকে বলা হয়, এই তরুণী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে ইচ্ছুক। তবে বয়সের কারণে প্রথমে রাজি না হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি শামীমাকে বিয়ে করতে সম্মতি দেন। শামীমাকে তার কাছে একজন ভালো মনের মানুষ মনে হয়েছিল।

রবিবার বিবিসি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হয়ে লড়াইয়ের কথাও স্বীকার করেছেন রিডিজক। বর্তমানে তিনি সিরিয়ায় কুর্দিদের একটি বন্দিশিবিরে আটক অবস্থায় রয়েছেন। দেশে ফিরলেও আইএসে যোগ দেওয়ার অপরাধে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ইয়াগো রিডিজক বিবিসি’কে বলেন, তিনি আইএস’কে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

রিডিজকের অভিযোগ, নেদারল্যান্ড সরকারের গুপ্তচর মনে করে তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল অন্য আইএস জঙ্গিরা। ফলে তিনি জঙ্গিদের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আইএসের কথিত রাজধানী রাক্কায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে জঙ্গিদের সর্বশেষ ঘাঁটি সিরিয়ার বাঘোজ শহর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন রিডিজক।

সেখান থেকে পালিয়ে সিরীয় যোদ্ধাদের একটি দলের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। স্ত্রী শামীমা বেগম আশ্রয় নেন একটি শরণার্থী শিবিরে। সেখানে তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তবে সম্প্রতি ওই ক্যাম্প থেকে অন্য কোথাও চলে যান শামীমা বেগম। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

বেশ কিছুদিন আগে ব্রিটিশ সরকার শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়। অন্যদিকে সন্ত্রাসী তালিকায় নাম থাকলেও এখনও নেদারল্যান্ডের নাগরিকত্ব বহাল রয়েছে তার স্বামী রিডিজকের। শামীমার বাবা আহমেদ আলী মনে করেন, তার কন্য ভুল করেছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের উচিত তাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া দেওয়া।

আহমেদ আলীর ভাষায়, ব্রিটিশ সরকারের উচিত তাকে ফিরিয়ে আনা। কেননা সে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। কোনও অপরাধ করলে দেশে এনেই তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত।

শামীমা’র সঙ্গে নিজের বিয়ের কথা বলতে গিয়ে রিডিজক বলেন, ‘বিয়েটা ছিল মূলত শামীমার পছন্দে। সে নিজের জন্য একজন সঙ্গী খুঁজছিল এবং এজন্য আমি আমন্ত্রণ পাই। তার বয়স ছিল কম। হয়তো ওই সময়ে তার আরও অপেক্ষা করাটাই শ্রেয় ছিল। কিন্তু সে তা করেনি। সে বিয়ে করতে চেয়েছে এবং আমি বিয়ের জন্য তাকে বেছে নিয়েছি।’

লন্ডনের বেথনেল গ্রিন অ্যাকাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন শামীমা। ২০১৫ সালে আমিরা আবাসে ও খাদিজা সুলতানা নামে আরও দুই কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে আইএসে যোগ দেন তিনি। তারা ঘোষণা দেন জিহাদিদের বিয়ে করে তাদের সন্তানকে যুদ্ধে পাঠাবেন তারা। পরিবারকে একদিনের জন্য বাইরে যাওয়া কথা বলে তুরস্ক সীমান্ত হয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেন ওই তিন কিশোরী।

এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল করে দেয় যুক্তরাজ্য সরকার। তবে দেশটির লেবার পার্টি’র নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, শামীমার জন্ম ব্রিটেনে। তার অবশ্যই দেশে আসার অধিকার রয়েছে। সেজন্য অনেক জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে অবশ্যই। তার আইএসে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে খুবই মারাত্মক কৌশল।

এদিকে বাংলাদেশও শামীমাকে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মা-বাবা বাংলাদেশি হলেও তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেই।



সাম্প্রতিক খবর

এবার চালক-হেলপার মিলে সিকৃবি শিক্ষার্থী ওয়াসিমকে বাসচাপা দিয়ে হত্যা

photo সিলেট প্রতিবেদক: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুরে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে বাসটির চালক ও তার সহকারী।নিহত ছাত্রের নাম ওয়াসিম আফনান। তিনি সিকৃবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বষের ছাত্র। তার বাড়ি হবিগঞ্জে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়ন রুদ্র গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আবু জাহেদ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment