আজ : ০৩:৫৭, অক্টোবর ১৫ , ২০১৮, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫
শিরোনাম :

ব্রিটেনে তৃতীয় প্রজন্মের এক উজ্বল নক্ষত্রের নাম সৈয়দ হোসাইন আহমদ


বিলেতবাসী বাঙ্গালীর জীবন চিত্র

আপডেট:০৮:৫১, এপ্রিল ৪ , ২০১৬
photo

মতিয়ার চৌধুরী: বৃটেনে ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে তৃতীয় প্রজন্মের এক উজ্বল নক্ষত্রের নাম সৈয়দ হোসাইন আহমদ। ইতিমধ্যেই এই তরুন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। গ্রেট বৃটেনে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের সাফল্য গাঁথা নিয়ে আমাদের আয়োজন ‘‘ বিলেতবাসী বাঙ্গালীদের জীবন চিত্র’’ এ পর্বে বাছাই করা হয়েছে সৈয়দ হোসাইন আহমদকে। কে এই সৈয়দ হোসাইন আহমদ আর কেনইবা তাকে নিয়ে আজকের এই আয়োজন তা আমাদের পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো। বৃটেনে বাঙ্গালীর বসতি স্থাপনের ইতিহাস খুব বেশী দিনের না হলেও দুই‘শ বছরের উপরে হবে। এক সময় অন্যান্য মাইগ্রেন্ট কমিউনিটির চেয়ে আমাদের বাঙ্গালীরা এদেশে একটু পিছিয়ে ছিল, এখন কিন্তু আর বাঙ্গালীদের অবস্থান আগের মতো নেই বর্তমানে ব্যবসা-বানিজ্য শিক্ষা- সরকারী চাকুরী এবং রাজনীতিতে বিশেষ করে তৃতীয় প্রজন্মের বাঙ্গালীদের অবদান খাটো করে দেখবার উপায় নেই, ব্রিটিশ ফরেন সার্ভিস সহ স্থায়নীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন সমগ্র দেশ জুড়ে প্রায় শতাধিক বাঙ্গালী, তিনজন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এরা সকলেই তৃতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশী।

পৃথিবী জন্মের পর থেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়া চলে আসছে, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক বানিজ্যিক এবং রাজনৈতিক কারণে মানুষ এক দেশ থেকে অন্যদেশে গিয়ে বসতি সস্থাপন করে আসছে সেই আদিকাল থেকে। বৃটেনে মূলতঃ আমাদের বাঙ্গালীর আগমন ঘটেছিল অর্থনৈতিক কারনে, অনেকেরই ধারনা ছিল স্বচ্ছলতা ফিরে আসলে চলে যাবেন, প্রথম প্রজন্মের অনেকেই চলে গেছেন। এখন কিন্তু সময় বদলেছে। এদেশে ঠিকে থাকতে হলে মুলধারার সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে সেই সাথে নিজের শেকরকে ভূলে গেলে চলবেনা। এমনি একজন শেকড় সন্ধানী ও বিপ্লবী এক তরুনের নাম সৈয়দ হোসাইন আহমদ। এক সময় আমাদের বাঙ্গালীদের ধারনা ছিল বৃটেনে থাকতে হলে লেবার দল ছাড়া বাঙ্গালীদের আর কোন গত্যন্তর নেই, কথাটি কিন্তু সঠিক নয়।

একজন নাগরিক হিসেবে আপননি যেকোন একটি রাজনৈতিক দলকে বেছে নিতে পারেন। হোসাইন আহমদ বাঙ্গালীদের সেই ধারনাকে পাল্টে দিয়েছেন। তিনি যে এলাকায় বসবাস করেন এটি ছিল মূলত লেবার দলের এরিয়া হিসেবে পরিচিত। তার প্রচেষ্টায় এখানে ক্রমান্বয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন রক্ষনশীল দল বেশ সক্রিয় আর একারনেই আমি লিখার শুরুতে তাঁকে বিপ্লবী আখ্যায়িত করেছিলাম আর এটি সম্ভব হয়েছে তার একক প্রচেষ্টার ফলে।


হোসাইন আহমদ শুধু একজন রাজনীতিবিদইন নন একজন সমাজসেবী এবং শেকড় সন্ধানীও বটে। একজন ইয়োথ ওয়ার্কার হিসেবে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই মালটিক্যালচার সোসাইটিতে সেবা করে যাচ্ছেন। একজান ধার্মিক এবং সমাজ হিতৈসী হিসেবে নিউহ্যাম এরিয়ায় তার একটি পরিচিতি রয়েছে। তার প্রচেষ্টায় এই এলকায় গড়ে উঠে মুসলমানদের প্রার্থনা করার জন্যে মসজিদ এবং ইসলামিক সেন্টার বর্তমানে তিনি এই সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন , তিনি এই প্রতিষ্টানের একজন প্রতিষ্টাতা এবং পৃষ্টপোষকও বটে।

তার সতীর্থদের সাথে নিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় গড়ে তোলেন লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমী নামের একটি সেকেন্ডারী স্কুল তিনি এই প্রতিষ্টানের ভাইস চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের ইষ্টলন্ডন কমিটির চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার ওয়েষ্টহ্যাম কনজারভেটিব নিউহ্যাম, সবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান কনজারভেটিভ এসোসিয়েশন নিউহ্যাম, চেয়ারম্যান ভেকটন ইসলামিক এসোসিয়েশন নিউহ্যাম, ২০১০ এবং ২০১৪ সালে নিউহ্যাম কাউন্সিলের ভেকটন ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের একজন সিনিয়র ইয়োথ ওয়ার্কার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


একজন ভ্রমন পিপাসু সৈয়দ হোসাইন আহমদ এশিয়ার ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমন সহ ২০১৪ সালে স্বপরিবারে হজ্ব পালন করেন। টেনেন্ট এসোসিয়েনের সাবেক চেয়ার ও বর্তমানে নিউহ্যামের এলেন উইলকিনসন প্রাইমারী স্কুলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সৈয়দ হোসাইন আহমদের জন্ম ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুরের ইশান কোনা গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম সৈয়দ সেয়দ মন্তাজ আলী ( মন্তু মিয়া) পিতা মহ মরহুর সৈয়দ জরমুদ আলী, নানা একই গ্রামের মরহুম সৈয়দ ইউনুছ আলী। সৈয়দ হোসাইন আহমদ তিনি সহ চার ভাই এবং পাঁচ বোন, তিনি ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয়। তার শিক্ষার হাতে খড়ি সৈয়দপুর মডেল স্কুলে, প্রাথমিক স্কুলে অধ্যয়নকালীন সময় ১৯৮২ সালে মা-বাবার সাথে বৃটেনে আগম করেন। এখানে আসার পর ওল্ডফোর্ড প্রাইমারী স্কুল টাওয়ার হ্যামলেটস পরবর্তিতে সেন্টপল সেকেন্ডারী স্কুল,এর পরবর্তিতে সেন্টপল সিক্সথ ফরম কলেজে অধ্যয়ন করেন।

একই কলেজ থেকে ইয়োথ এন্ড কমিউনিটি বিষয়ে ডিপ্লমা সমাপ্ত করে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অধীন চাকুরী নেন একজন ইয়োথ ওয়ার্কার হিসেবে। বর্তমানে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সিনিয়র ইয়োথ ওয়ার্কার হিসেবে কর্মরত সেই সাথে বিএঅনার্স কোর্স করছেন। হোসাইন আহমদ বিভিন্ন সময় একাধিক সর্ট কোর্স সম্পন্ন করেছেন। চাকুরীর পাশাপশি ব্যবসাও করেছেন, এখন ও চাকুরীর পামাপাশি ব্যবসা বানিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি ১৯৯৫ সালে বৃটেনে বসবাসরত একই উপজেলার সালমা আহমদের সাথে পরিনয় সূত্রে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবনে সৈয়দ হোসাইন আহমদ এক পুত্র ও দুই কন্যার জনক,তার সন্তানেরা হলো সৈয়দ আরিফ আহমদ,সৈয়দা রিয়া আহমদ ও সৈয়দা পারিছা আহমদ। সকলেই বৃটেনের বিভিন্ন স্কুল কলেজে অধ্যয়নরত। শখ সমাজ সেবা আর একারনেই তিনি শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে চাকুরী নেন একজন ইয়োথ ওয়ার্কার হিসেবে। প্রিয় খেলা ফুটবল এবং ¯েœাকার সখ সমাজসেবা প্রীয় ব্যাক্তি মা-বাবা এবং স্ত্রী-সন্তান।


বাংলাদেশের সাথেও রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক শেকড়ের টানে প্রতিবছর যান বাংলাদেশে সেখানে কনজারভেটিব পার্টির চ্যারিটি সংগঠন শাপলার মাধ্যমে শিক্ষা পোর্টস এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করেন তিনি এই সংগঠনের অন্যতম একজন ডনার। একাধিকবার তিনি শাপলার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে ব্রিটিশ এমপি মন্ত্রীদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেন , সফরকারীন সময় সেখানেও রাষ্ট্রপ্রধান সহ সরকারের মন্ত্রী এমপিদের সাথে সাক্ষাত করেন।

একটি বুনেদি পরিবার হিসেবে এলাকায় সৈয়দ পরিবারের একটি আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে তার মাতামহ সৈয়দ ইউনুছ আলী ছিলেন এলাকার একজন স্বনামখ্যাত মানুষ। সৈয়দ হোসাইন আহমদের পিতা মরহুম সৈয়দ মন্তাজ আলী (মন্তু মিয়া) ছিলেন একজন উদার মনের মানুষ, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। সৈয়দ হোসাইন আহমদের মামা সৈয়দ নুরুল ইসলাম দুলু বৃটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে একটি সুপরিচিত নাম। বৃটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এক নামে সৈয়দ নুরুল হিসেবে পরিচিত, এই সৈয়দ নুরুল শুধু একজন কমিউনিটি নেতাই নন একজন ব্রিটিশ রাজনীতিকও বটে তিনি দুবার লিভারেল ডমক্রেট পার্টি থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। তার অন্য মামা সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক একজন সাবেক ছাত্রনেতা বৃটেনে প্রথম সারির জন রাজনীতিবিদ বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সৈয়দ হোসাইন আহমদের বৃটেন এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদের সাথে রয়েছে ব্যাক্তিগত সম্পর্ক। আমরা তার সুস্বাস্থ ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।



সাম্প্রতিক খবর

বাকস্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগে কমিশন সভা বর্জন মাহবুব তালুকদারের

photo ঢাকা সংবাদদাতা: বাকস্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগে নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের সভা বর্জন করেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। আজ কমিশন সভা শুরুর পাঁচ মিনিট পর আনঅফিসিয়াল (ইউও) নোট দিয়ে বের হয়ে আসেন তিনি। বের হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সভা বর্জনের বিষয় নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত কিছু বলেননি। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে কমিশনের ৩৬ তম সভা শুরু হয়। সভায় বাকস্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ তুলে কয়েকটি বিষয়ে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment