আজ : ১০:০৫, ফেব্রুয়ারি ২৫ , ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন, ১৪২৪
শিরোনাম :

ডন ও আমার ছবিগুলো ফটোশপের কারসাজি: সামিরা


আপডেট:০৭:৩১, সেপ্টেম্বর ৯ , ২০১৭
photo

বিনোদন ডেস্ক: ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো সালমান শাহ’র আবির্ভাব| মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। যে রহস্যের জট আজো খোলেনি। সালমান শাহ’র পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সন্দেহের আঙুল ওঠে স্ত্রী সামিরার দিকে। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সালমান শাহ’র সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন সামিরা। প্রেমের বিয়ে পায় সফল পরিণতি। কিন্তু খুব দ্রুতই পরিণয় রূপ নেয় গভীর শোকে। এতগুলো বছর পর এই প্রথম সামিরা বলেছেন সালমান শাহ’র সঙ্গে তার প্রেম, বিয়ে, দাম্পত্যজীবন এবং স্বামীর মৃত্যুপরবর্তী দুঃসহ সেই দিনগুলোর কথা।

ইমন (সালমান শাহ) আমার কান্না সহ্য করতে পারত না। এখন প্রতিনিয়ত সবাই কত কাদাচ্ছে আমাকে। কত কথাই না বলে বেড়াচ্ছে অনেকে আমার নামে। জেনে, না-জেনে কত অপবাদই না দিচ্ছে আমাকে। ইমন আর আমার সম্পর্ক কত মধুর ছিল তা তারা জানে না। আমরা একে অপরকে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলাম। ইমন জীবিত থাকা অবস্থায় আমাদের সম্পর্ক নিয়ে কোনো নেতিবাচক কথা ওঠেনি। এখন কথা উঠেছে- আমি নাকি পরকীয়া প্রেম করেছি!

আমার পরকীয়া প্রেমের কারণে সালমান শাহ’র সংসারে অশান্তি। আমার প্রশ্ন হলো, ১৯৯৬ সালের আগে এই কথা কেন পত্রিকায় ছাপা হয়নি? সালমান তো তখন সুপারস্টার। এ ধরনের ঘটনা যদি সত্যিই ঘটত তাহলে সে সময় সাংবাদিকরা তা লুফে নিত। অথচ একটু খেয়াল করুন, পেছনে তাকালে দেখবেন, তখন সালমান শাহ শাবনূরকে নিয়ে অনেক সংবাদ ছাপা হয়েছে। এমনকি ১২ জুন অথবা ১২ জুলাই বিনোদন পত্রিকা ‘চিত্রালী’তে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল সালমানের সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে নিয়ে।

ইমন আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসত। আমি পরকীয়া করেছি এ কথা ইমন শুনলে আমাকে খুন করে ফেলত এবং সেই ছেলেকেও ও খুন করত। এ ধরনের কথা আমাকে শুধু কষ্টই দিয়েছে। শুধু তাই নয়, একেকবার একেকজনের সঙ্গে জড়িয়ে আমার বদনাম রটানো হয়েছে; ইচ্ছে করেই এ কাজ করা হয়েছে। অথচ তারা এ কথা একবারও ভাবেনি- সালমান শাহ যার স্বামী তার পরকীয়া করতে হবে কেন? একজন স্ত্রী এরচেয়ে আর কীভাবে সুখী হতে পারে? সম্মান, অর্থ, ভালোবাসা সবই আমাদের ছিল। আমার দিকে কেউ তাকালে ও সেই চোখ তুলে ফেলত। কাছের যারা আছেন তারা এ কথা জানেন। আমাকে ইমন এতটাই ভালোবাসত। আমিও ওকে প্রচণ্ড ভালোবাসতাম।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ডনের সঙ্গে আমার একটি ছবি দেখিয়ে মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে। ওর ভক্তরা না জেনে আমাকে ভুল বুঝছেন। অপবাদ দিচ্ছেন। তারা আসলে ইমনের ভালোবাসার মানুষকেই ছোট করছে। ডন আমার ছোট ভাইয়ের মতো। সে প্রতি ঈদে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করত। তার সঙ্গে জড়িয়ে যে নোংরা কথা ছড়ানো হচ্ছে শুনে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছি। যে ছবিটি নিয়ে কথা হচ্ছে সেটা ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালে তোলা। ডনের সঙ্গে যে মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে, সেটা আমি নই। ছবিটির মেয়ে নায়িকা সাবরিনা। ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার মূল নায়িকা ছিলেন শাবনাজ। নায়ক সালমান শাহ। সাবরিনা ছিল সেই সিনেমার পার্শ্বনায়িকা। ডনের সঙ্গে দুষ্টুমি করে ঘরের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ছবিটি তুলেছিল ইমন। তখন ইমনের পায়ের নিচে টুলটি আমি ধরে রেখেছিলাম। কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি এই ছবি আমার জীবনে এমন দুঃস্বপ্ন নিয়ে হাজির হবে। আমরা দুজনে মিলে দুষ্টুমি করে ছবিটি তুলেছিলাম।

ইমন প্রাণশক্তিতে ভরপুর ছিল। সে সেটে সবাইকে মাতিয়ে রাখত। এ কথা সবাই জানে। এই ছবিটি তারই উদাহরণ। এই ছবি নিয়ে ইমন পরে বিভিন্ন সময় ডনের সঙ্গে দুষ্টুমি করেছে। এছাড়া আরো একটি ছবি রয়েছে সেখানে আমি ম্যাগাজিন দেখছিলাম, ইমন ছবি তুলছিল। তখন ডন হাত বাড়িয়ে দেয় ছবি তোলার জন্য। সে সময়ের একটি ছবি আছে। এর বাইরে ডনের সঙ্গে আমার যে ছবিগুলো আপনারা দেখছেন বা দেখেন সব ফটোশপের কারসাজি। সেগুলো ফটোশপের সাহায্য নিয়ে করা হয়েছে।

ইমনকে নিয়ে বলতে হলে অনেক বিষয়ে কথা বলতে হবে। আমি ইমন ও তার পরিবার নিয়ে নেতিবাচক কোনো কথা বলতে চাই না। তা ছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার ডিবির সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসন যেভাবে চেয়েছে আমি সাহায্য করেছি। তারা এসব বিষয়ে আমাকে বিভিন্ন সময় জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন। আমি সত্য কথাটাই সব সময় বলেছি।



সাম্প্রতিক খবর

নিম্ন আদালতের নথি হাইকোর্টে এলে খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ

photo ঢাকা প্রতিনিধি: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। নিম্ম আদালত থেকে রায়ের নথি পাওয়ার পর এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার দুপুরে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেন। সংখ্যাধিক্য আইনজীবীর কারণে এজেলাশ কক্ষের পরিবেশ ‘অস্বাভাবিক’ হওয়ায়

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment