আজ : ০৪:৫৫, অক্টোবর ১৫ , ২০১৮, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫
শিরোনাম :

বোরকা নিয়ে বরিস জনসনের বিরদ্ধে ব্রিটিশ এমপি রুপা হকের তীব্র সমালোচনা


আপডেট:০৬:১৮, অগাস্ট ৯ , ২০১৮
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সদ্য পদত্যাগী ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সমালোচনাকারীদের তালিকায় এবার যুক্ত হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুপা হক। পত্রিকায় লেখা নিবন্ধে বোরকা পরা নারীদের চিঠি রাখার ঢাকনাওয়ালা বাক্সের সঙ্গে তুলনা করায় বরিস জনসনকে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বরিস জনসনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিম লন্ডনের ইয়েলিং আসন থেকে নির্বাচিত লেবার পার্টির সংসদ সদস্য রুপা হক ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ওই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় ক্ষমতাসীন দলটির পদাধিকারীদের মধ্যে কতটা ইসলামভীতি বিদ্যমান।

রুপার ভাষ্য, ‘বরিস জনসন ১৯৭০ সালের কোনও ভাঁড়ামিপূর্ণ নাটকের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন না। তার একজন রাষ্ট্রনেতার মতো আচরণ করার কথা, আমরা একুশ শতকে রয়েছি। আমি নিজেও বোরকা পছন্দ করি না। কিন্তু তার মন্তব্যটি বিভিন্ন দিক থেকে নিন্দনীয়। মধ্যবিত্ত এক মোটা ধাঁচের শ্বেতাঙ্গ পরুষ হয়ে নারীদের কী পরা উচিত আর কী পরা উচিত নয়, সে বিষয়ে তাকে উপদেশ দিতে দেখে আমি হতাশ হয়েছি।’

বোরকা সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে বরিস জনসনের ওপর ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে চাপ বাড়ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও ওই নিবন্ধের কারণে অনেকের ‘আহত’ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে স্বীকার করে নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান ব্র্যান্ডন লুইসের পক্ষ থেকে জানানো ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানকে সমর্থন করেছেন। তার ভাষ্য, ‘আমি ব্র্যান্ডন লুইসের সঙ্গে একমত। বরিস লোকজনের পোশাকের বিষয়ে লিখতে গিয়ে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যা নিশ্চিতভাবে অনেককে আহত করেছে। আমরা কি চাই মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকুক? নারীর ক্ষেত্রে বোরকা ও নিকাব পরার স্বাধীনতা কি থাকা উচিত নয়? আমি বিশ্বাস করি, নারী যেভাবে চায় তার সেভাবে পোশাক পরার অধিকার থাকা উচিত। ’

টোরিদের জ্যেষ্ঠ একজন মুসলমান নেতা তো বরিসকে দল থেকে লাথি মেরে বের করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। লর্ড শেইখ মনে করেন, তাকে দলীয় হুইপের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। তেমনটা হলে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবেও আর হাউজ অব কমন্সে বসতে পারবেন না। শেইখের ভাষ্য, ‘তার কাছ থেকে হুইপের দায়িত্ব কেড়ে নিন। কেন সেটা সম্ভব নয়? তিনি কোনও অতিমানবীয় ব্যক্তি নন। তিনি দলের একজন সদস্য মাত্র। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সেই ক্ষমতা আছে। আমি সেটাই কার্যকর হতে দেখতে চাই।’

যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি রিটও মনে করেন তার সাবেক কেবিনেট সহকর্মী বরিস জনসনের ব্যবহৃত শব্দগুলো অবিবেচনাপ্রসূত। তার ভাষ্য, ‘কোনও বিষয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে আমাদের কিছু বিষয় মাথায় রেখেই চলা উচিত।’

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বরিস জনসন নিয়মিত কলাম লেখেন। গত সোমবার তিনি ডেনমার্কে বোরকা নিষিদ্ধের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যেও ইসলামি পোশাক নিষিদ্ধের বিষয়ে কলাম লিখেছিলেন। তার ভাষ্য, ‘আপনি যদি বলেন বোরকা নিপীড়নমূলক, তাহলে আমি সেটার সঙ্গে একমত। আমি বরং আরও বলব, মানুষের লেটার বক্সের মতে দেখতে পোশাক পরাটা একেবারেই উদ্ভট। বোরকা পরা একজন নারী শিক্ষার্থী যদি বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় তাহলে তার শিক্ষকের অবস্থা এমন হবে যেন তিনি কোনও ব্যাংক ডাকাতের দিকে তাকিয়ে আছেন।’

তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যের সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ড্রেস কোড প্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে সবার মুখ উন্মুক্ত থাকে। তবে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করে এটাও বলেছেন, ‘এমন উদ্যোগ কার্যকর করার প্রস্তাব আর স্বাধীন কোনও নারীর পোশাক পাবলিক প্লেসে কী হবে তা নির্ধারণ করে দিতে চাওয়া এক বিষয় নয়।’

বরিস জনসন অক্সব্রিজ অ্যান্ড রুইসিলপ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি লন্ডনের মেয়রও ছিলেন। ব্রেক্সিটের সমর্থনে তৎপর বিশাল জনপ্রিয় বরিসকে এক সময় কনজারভেটিভ পার্টির সম্ভাব্য প্রধান মনে করা হতো।

এখনাকার অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, বরিস তার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাড়তে থাকা সমালোচনার পরও মুখ খুলতে নারাজ। নিজে সমালোচনার বিষয়ে মুখ না খুললেও বরিস জনসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র তার বিরুদ্ধে হওয়া সমালোচনাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘আমাদের এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। আমরা যদি উদারনৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হই তাহলে তা প্রতিক্রিয়াশীল ও চরমপন্থীদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সমান হবে।’



সাম্প্রতিক খবর

প্রত্যেকটা উৎসবে সবাই ভাই বোনের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা উদযাপন করে যাই: প্রধানমন্ত্রী

photo ঢাকা সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্থ করে বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে জমি নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। ইতোমধ্যেই সেই সমস্যাটা আমরা সমাধান করে ফেলেছি। বাকী কাজটা আপনাদের ওপরই নির্ভরশীল।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment