আজ : ১০:১৯, সেপ্টেম্বর ২২ , ২০১৮, ৭ আশ্বিন, ১৪২৫
শিরোনাম :

ঈদ আনন্দ নেই, গোটা জাতি আতঙ্কিত উৎকণ্ঠিত: রিজভী


আপডেট:০৮:৫৫, অগাস্ট ২০ , ২০১৮
photo

ঢাকা সংবাদদাতা: দেশের মানুষের মনে ঈদের কোনো আনন্দ নেই দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম- মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘একদিন পরই মুসলমানদে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল আযহা। ঈদ মানেই উৎসব, ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু মানুষের মনে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। দেশে যে ভয়াবহ দুঃশাসন ও স্বৈরশাসন চলছে এর যাতাকলে পিষ্ট হয়ে গোটা জাতি আজ আতঙ্কিত উৎকণ্ঠিত’।

সোমবার (২০ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ড. মামুন আহমেদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, ‘শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক আওয়ামী ভাবাপন্ন লোক হয়ত তাদের নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারে, কিন্তু বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, দেশের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধরাণ শিক্ষার্থী, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা এখন অবৈধ সরকারের নানা বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত, ক্ষতবিক্ষত।

এতদিন শুধু বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতন নিপীড়নের খড়গ চলছিল। চলছিল অপহরণ, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা। এখন হামলা, মামলা, রিমান্ড এমনকি তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীহ শিক্ষার্থীদের।

স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না অবৈধ শাসক গোষ্ঠীর হিংস্র আক্রমণ থেকে। নিরীহ ও নিরপরাধ শিক্ষার্থীরা ন্যায় সঙ্গত ও যৌক্তিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে ন্যায্য দাবিতে প্রতিবাদ করে এখন তারা কারাবন্দি’।

বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ছাত্ররা তাদের সহপাঠী জীবন বাঁচাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ন্যায় সঙ্গত প্রতিবাদ করেছিল সেটা কি অপরাধ? শিক্ষার্থীদের ন্যায় সঙ্গত কোটা সংস্কার আন্দোলন কি অপরাধ ? অন্যায়ের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করা কি অপরাধ ? বেআইন অস্ত্রে সজ্জিত হেলমেটধারী সরকারি দলের ক্যাডাররা ধাওয়া করে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা কি ন্যায় সঙ্গত? আওয়ামী ক্যাডারদের হাতে আইন তুলে নেওয়া কি বৈধ কাজ? তাদের নামে মামলা কেন হলো না? তারা কেন গ্রেফতার হলো না? গ্রেফতারের পর তাদের রিমান্ড হলো কেন? তারা কেন এখন কারাগারে নেই?

মনে হয় সরকারি দলের ক্যাডারদের প্রকাশ্যে সহিংস সন্ত্রাসের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। সে কারণে তারা আইনের উর্ধ্বে। সেজন্যেই প্রধানমন্ত্রী নিজ দলীয় ক্যাডারদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন অথচ আহত কোমলমতি শিক্ষার্থী ও আহত সাংবাদিকদের না দেখতে গিয়ে অবজ্ঞা করেছেন। তবে এ অনাচারগুলোর উত্তর একদিন ক্ষমতাসীনদের দিতেই হবে’।

রিজভী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘জবাবদিহিতার দিন ঘনিয়ে আসছে। ঈশান কোনে কালো মেঘ দেখা দিয়েছে, যে কোন মুহূর্তে কালবৈশাখির মত্ত ঝাপ্টায় বিনা ভোটের সরকার হুড়মুড় করে পড়ে যাবে’।

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কিভাবে জালনথির ওপর ভিত্তি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার বন্দি করে রেখেছে। তিনি বার বার উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও নতুন নতুন মামলা ও অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে।

বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলার খড়গ ঝুলছে। কারাবন্দি আছেন হাজারো নেতা-কর্মী। প্রতিনিয়ত চলছে গুম,খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা আর মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার নির্যাতন। এমন পরিস্থিতি আসন্ন ঈদ নিয়ে মানুষের মনে কোন আনন্দ, নেই কোন স্বস্তি’।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত পরশু থেকে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে, পুলিশ আজও অবরোধ তুলেনি। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশেই ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে’।



সাম্প্রতিক খবর

এই অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের, সরকারকে বি. চৌধুরীর প্রশ্ন

photo ঢাকা সংবাদদাতা: সরকারের কাছে অনেক ‘কেন’র উত্তর চেয়েছেন যুক্তফ্রণ্ট চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। শনিবার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব প্রশ্ন করেন। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিকেলে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বি.চৌধুরী বলেন, এক মাস আগে দেশের বাইরে থেকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের দেশে আসার অনুমতি দিতে হবে। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment