আজ : ১২:০৪, অক্টোবর ১৬ , ২০১৮, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫
শিরোনাম :

রোহিঙ্গা সহায়তায় ‘আগ্রহ কমছে’ দাতাদের


আপডেট:০৫:১০, ফেব্রুয়ারি ১৩ , ২০১৮
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দাতাদের আগ্রহ যে কমে আসছে, সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিজলি।তবে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আগের মতই পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রোম সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় তার হোটেলে সাক্ষাৎ করেন বিজলি। পরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।তিনি বলেন, ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। গত ছয় মাসে তারা আট কোটি ডলারের খাদ্যসামগ্রী বণ্টন করেছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে।

“ডব্লিউএফপির মূল্যায়ন হল, প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন কোটি ডলারের খাদ্যের দরকার তাদের (রোহিঙ্গাদের)। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দাতাদের আগ্রহটা যে কমে আসছে সে বিষয়ে উনি (ডেভিড বিজলি) প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।”

গত বছর ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে শুরু থেকেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

রোহিঙ্গাদের নিজেদের আবাসভূমিতে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একটি চুক্তি করলেও সব প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনও শুরু করা যায়নি।আর চুক্তিতে দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করায় অন্তত ওই সময় পর্যন্ত কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলোতে জরুরি সহায়তা চালিয়ে যেতে হবে।

শহীদুল হক বলেন, “তিনি (ডেভিড বিজলি) বলেছেন, ইউএন সিস্টেমের মধ্যে থেকে নিয়মিত এটাকে জিইয়ে রাখতে তারা চেষ্টা করছেন এবং এটা বেশ কঠিন হচ্ছে।”সামনে বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নির্বাহী পরিচালক। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের সরিয়ে সাময়িকভাবে ভাসান চরে রাখার উদ্যোগের কথা তাকে বলেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন শেখ হাসিনা। এর বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করে, সে বিষয়েও তিনি বলেন ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালককে।পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডব্লিউএফপির ক্যাম্পেইনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন নির্বাহী পরিচালক। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে দুবার তিনি ব্রিফ করেছেন।”

বিজলি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গারা যে ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে, সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন।ডব্লিউএফপি ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ৩০ কোটি ডলারের ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা নিয়মিত কাজ করবে বলে ডেভিড বিজলি জানিয়েছেন।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর রোমে বাংলাদেশের অনারারি কনসালদের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।বৈঠকে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ দেখতে অনারারি কনসালদের আহ্বান জানান।

ছয়জন অনারারি কনসালের মধ্যে চারজন দায়িত্ব পাওয়ার পর এখনো বাংলাদেশ সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী তাদের বাংলাদেশে যেতে অনুরোধ করেন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতালীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করতে বলেন।জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণ ও ভ্যাটিকান সফরে রোববার ইতালি পৌঁছান শেখ হাসিনা।

আইএফএডির প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হংবো ও পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে চার দিনের এই সরকারি সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।সোমবার সকালে ভ্যাটিকান সফর করে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।মঙ্গলবার সকালে তিনি রোমে আইএফএডির সদর দপ্তরে গভর্নিং কাউন্সিলের ৪১তম অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।সন্ধ্যায় রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।



সাম্প্রতিক খবর

প্রত্যেকটা উৎসবে সবাই ভাই বোনের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা উদযাপন করে যাই: প্রধানমন্ত্রী

photo ঢাকা সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্থ করে বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে জমি নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। ইতোমধ্যেই সেই সমস্যাটা আমরা সমাধান করে ফেলেছি। বাকী কাজটা আপনাদের ওপরই নির্ভরশীল।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment