আজ : ০৪:০৩, মে ২৪ , ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬
শিরোনাম :

ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক যুক্তরাজ্যে


ইসলামোফোবিয়ার আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা কি হবে তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মুসলিম সংগঠন ও পুলিশ প্রধানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। দেশটিতে মুসলিমে বিদ্বেষী অপরাধ সামাল দিতে এই সংজ্ঞা ও চিহ্নিতকরণ জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আপডেট:০৬:০২, মে ১৫ , ২০১৯
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ প্রস্তাব দেয়, ইসলামোফোবিয়ার মূল আসলে বর্ণবাদে। এটি এক ধরনের বর্ণবাদ যা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি করে। তবে যুক্তরাজ্যের পুলিশ প্রধানদের জাতীয় পরিষদ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানায় যে এই সংজ্ঞার বিস্তৃতি অনেক বড়। ফলে এতে দ্বিধা তৈরি হতে পারে।

পরিষদের চেয়ারম্যান মার্টিন হেউইট বলেন, আমরা সব ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধ গুরুত্ব সহকারে নেই এবং পূর্ণ তদন্ত করি। ব্রিটিশ মুসলিমদের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ যে সংজ্ঞা দিয়েছে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, আমাদের মনে হয় এই সংজ্ঞাটির বিস্তৃতি অনেক বেশি। এতে করে আইন বাস্তবায়নে দ্বিধা তৈরি হতে পারে।

এছাড়া এই সংজ্ঞায় বাকস্বাধীনতা চ্যালেঞ্জেরর মুখে পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

ব্রিটেনের মুসলিম পরিষদ (এমসিবি) রাজনৈতিক নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন তারা যে এপিপিজির সংজ্ঞা মেনে নেন। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন খান বলেন, ‘পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কাছে থাকা তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তিনি বলেন, বিষয়টি এমন হলে মুসলিম সম্প্রদার্য়ের ওপর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বাস্তবতা সত্যিই উদ্বেগজনক।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ইসলামোফোবিয়ার আনুষ্ঠনিক সংজ্ঞা প্রদানের আহ্বান জানায় এপিপিজির এমপিরা। থেরেসা মে সরকারও আনুষ্ঠারিক সংজ্ঞা অনুমোদনের চাপে রয়েছেন।

ইতোমধ্যে এই সংজ্ঞার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন লেবার পার্টি ও লিবারের ডেমোক্রেটের মতো বিরোধী দল। সমর্থন দিয়েছে লন্ডন মেয়রের দফতরও।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী ৫২ শতাংশ হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমূলক হামলাই হয়েছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। এপিপিজি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞা না থাকায় এটি মোকাবিলয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায় এবং পুরো ব্রিটেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞার উদ্দেশ্য কখনোই বাকস্বাধীনতার হরণ কিংবা ইসলামকে ধর্ম হিসেবে সমালোচনা করা ছিলো না।

কোনও উন্মুক্ত সমাজেই ধর্ম সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। আমরাও মনে করি না ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞার কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে গাঠনিক সমালোচনা বন্ধ হয়ে যাবে।

চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাজ্য সরকারের সামনে ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞা উপস্থাপন করবেন একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী। তবে সেটা গ্রহণ করা হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানান, এপিপিজির সংজ্ঞা সবাই গ্রহণ করেনি। এটাতে আরও কাজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ মুসলিম কিংবা অন্য কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।



সাম্প্রতিক খবর

পদত্যাগের ঘোষণায় থেরেসা মে

photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কনজারভেটিভ দলের এই নেতা আগামী ৭ জুন পদত্যাগ করছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। ব্রেক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের ব্যাপারে তার নতুন পরিকল্পনা তার মন্ত্রীসভায় ও পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে না এটা স্পষ্ট হবার পরই তিনি পদত্যাগ করলেন। শুক্রবার লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment