আজ : ০৫:৩৩, নভেম্বর ২০ , ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
শিরোনাম :

অনুমতি ছাড়া ফৌজদারি মামলায় সরকারি চাকুরেদের গ্রেপ্তার নয়


মন্ত্রিসভায় 'সরকারি চাকরি আইন'-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

আপডেট:০৩:৩৯, অগাস্ট ২০ , ২০১৮
photo

ঢাকা সংবাদদাতা: অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ হচ্ছে।সোমবার ঈদের আগে মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে অনুমোদন হওয়া ‘সরকারি চাকরি আইন ২০১৮’ এর চূড়ান্ত খসড়ায় এমন বিধান রাখা হয়েছে।

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম এই তথ্য জানান। বলেন, ‘আগে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। তবে চার্জশিট হওয়ার পরে অ্যারেস্ট করার জন্য অনুমতি লাগবে না।সচিব জানান, সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য আইন প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু কোনো সরকারই এ আইন প্রণয়ন করেনি। আওয়ামী লীগের টানা দুই মেয়াদের প্রথম মেয়াদে কয়েক দফা খসড়া হলেও তাও আটকে থাকে দীর্ঘ দিন।

২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এই আইন করার উদ্যোগ নেয়। পরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এর একটি খসড়া হয়।২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার টানা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার এক বছর পর ২০১৫ বছরের ১৩ জুলাই ‘সরকারি কর্মচারী আইন ২০১৫’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন পায়নি।

তখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, ‘এটা (সরকারি কর্মচারি আইন) ছিল ১৬ ধারার ছোট আইন। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর এটা ৭১টি ধারার অনেক বড় আইন হয়ে গেছে। এজন্য মন্ত্রিসভা বলেছে এটা একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। কারণ অনেক বড় পরিবর্তন হয়ে গেছে।গত বছরের ৫ ডিসেম্বর প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য খসড়াটি উপস্থাপন করা হয়।

সে সময় প্রস্তাবিত আইনটির বিভিন্ন ধারা আরও চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনকে প্রধান করে ৮ সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন হয়। ওই কমিটি ৫ দফা বৈঠক করে ২৯টি প্রস্তাবসহ প্রতিবেদন জমা দেয়। গত এপ্রিলে সচিব কমিটির বৈঠকে ওই প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

এক বছরের বেশি সাজা হলেই চাকরিচ্যুত
আইনের খসড়া অনুযায়ী ফৌজদারি মামলার কোনো সরকারি চাকুরের এক বছরের বেশি সাজা বা মৃত্যুদণ্ড হলে রায়ের দিনই তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।আর সাজা এক বছরের কম হলে বা অর্থদণ্ড হলে তিরস্কার, বেতন স্থগিত করা বা বেতন কমানোর শাস্তি হবে চাকুরের।

দুর্নীতি দমন কমিশন যেভাবে ‘ফাঁদ পেতে’ দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি চাকুরেদের ধরছে, নতুন আইন কার্যকর হলে সেটি বাধাগ্রস্ত হবে কি না- এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘বাধাগ্রস্ত হবে না, কিছুটা বিলম্বিত হবে।তাহলে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে কাউকে ধরা যাবে না কেন-এমন প্রশ্নে জবাব আসে, ‘আমার মনে হয় যাবে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে (গ্রেপ্তার) করতে হবে।সেই গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ হবে কি না - এ প্রশ্নে শফিউল আলম বলেন, ‘ওটা বড় প্রেক্ষাপটের ছোট অংশ, কাজেই ওটা আর আমরা আলাপ করছি না।’

নিয়োগ মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায়
নতুন আইনে ‘মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে’ সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এই মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ ও সন্তোষজনক কাজ থাকবে বিবেচনায়।সচিব বলেন, ‘আপতত আইনে বলবৎ বিধান অনুসারেই সরকারি কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। আর বেতন-ভাতা ও সুবিধা সরকারি গেজেট দিয়ে নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে।’

খসড়ায় বলা আছে, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ, আবমাননা, মানহানি বা অন্য কোনো মামলা হলে খরচ সরকার বহন করবে সরকার।তবে দুর্নীতির অভিযোগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি মামলা হলে ওই মামলা চালাতে সরকার টাকা দেবে না।

কোন কারণে সেবা দেয়া যায়নি জানাতে হবে
খসড়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবাপ্রার্থীকে সেবা দিতে না পারলে তা কারণসহ সেবাগ্রহীতাকে জানাতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।কোনো ব্যক্তির আবেদন না-মঞ্জুর, প্রত্যাখ্যান বা যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না হলে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়ে তিনি আবেদন করতে পারবেন।

সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে কর্মচারীদের উদ্ভাবনী অবদানের জন্য প্রণোদনা বা সম্মানী দেওয়ার কথাও খসড়ায় বলা আছে।কোনো কর্মচারী অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি না হলে তার বেতন কাটা যাবে।আবার কোনো কর্মচারীর কারণে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। এ জন্য সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

বিদেশি নাগরিকত্ব নিলে চাকরিচ্যুতি
আইনে সরকারি চাকুরেদের বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিত্ব গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া আছে। এমনটি হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে চাকরি অবসানের আদেশ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলা করার প্রয়োজন হবে না, ওই আদেশই চূড়ান্ত হবে।

চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে ৩০ দিনের নোটিস দিয়ে অবসরে যেতে পারবেন চাকরিদাতা। একইভাবে সরকার জনস্বার্থে ২৫ বছর চাকরির পর যে কাউকে কারণ না দেখিয়ে অবসরে পাঠাতে পারবে। আর চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে চাইলে যে কোনো সময় করা যাবে।চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর কেউ বিদেশে চাকরি নিতে বা ব্যবসা করতে চাইলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে না।



সাম্প্রতিক খবর

অবশেষে মুক্তি পেলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

photo ঢাকা সংবাদদাতা: অবশেষে ১০৭ দিন পর মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) রাত সোয়া আটটার দিকে মুক্তি পেয়েছেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডি এলাকায় ফেসবুক লাইভ করেন শহিদুল আলম। এছাড়াও তিনি এই আন্দোলনের

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment