আজ : ০৫:২৯, অগাস্ট ২০ , ২০১৮, ৪ ভাদ্র, ১৪২৫
শিরোনাম :

কখন কোথায় কি ঘটনা ঘটবে আমরা কেউ জানি না: মওদুদ আহমেদ


আপডেট:১১:৩৫, অগাস্ট ১০ , ২০১৮
photo

ঢাকা সংবাদদাতা: অতিদ্রুত বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তন ঘটবে এমন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘কখন কোথায় কি ঘটনা ঘটবে আমরা কেউ জানি না। শুধু এটুকু জানি দেশে কোন সরকার নেই, যেটুকু আছে সে টুকুরও পরিবর্তনের সময় চলে এসেছে। কারণ এই সরকারের শেষ সময় এসে গেছে।’

শুক্রবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা কেন?’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, ‘সময় আসছে একটা সক্রিয় ঈমানি ভূমিকা পালন করার জন্য। সব কিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই। র‌্যাব আছে পুলিশ আছে, কিন্তু কোনো সরকার আছে বলে মনে হয় না। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা করা হলো, কারা হামলা করেছে আমরা সবাই জানি। কিন্তু অপরাধী কি গ্রেফতার হয়েছে? বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮শ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলো, সোনা থেকে শুরু করে কয়লা পর্যন্ত চুরি করা হলো কিন্তু গ্রেফতার করা হয়নি কাউকে। সরকার থাকলে এগুলো হওয়ার কথা নয়।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমাদের নেত্রী কারাগারে, আমরা সবাই মামলায় জর্জরিত, আমাদের এমন কোনো নেতাকর্মী নেই। যারা কোনো মামলার আসামি নয়। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? প্রকৃতির যে আইন, নিয়ম এগুলো নিজস্ব গতিতে চলে। এসময় তিনি কোটা এবং শিক্ষার্থীর আন্দোলনের কথা বলেন।’

তিনি বলেন, ‘ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সরকার যে নির্যাতন করেছে এটা তাদেরকে (সরকারকে) ভূমেরাং করবে। সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। যতই নির্যাতন করুন শিক্ষার্থীদের মূল্য আপনাদেরকে দিতেই হবে। বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘আগামী দিনে বিএনপির আন্দোলন সফল হবে। কারণ বেগম জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না।’

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদুল আলমের ওপর যে অত্যাচার অকল্পনীয়। সরকার একেবারে বেপরোয়া হয়ে গেছে। জনগণের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। সেজন্য সব শ্রেণির মানুষের ওপর এতো নির্যাতন।’

বর্তমান সরকারের সরকার পরিবর্তনের শেষ সময় চলে এসেছে বলে মনে করেন মওদুদ। বলেন, ‘সময় আসছে, সেখানে সত্যিকার অর্থে একটা ঈমানি ভূমিকা পালন করতে হবে।তবে আমরা মাঝে মাঝে বুঝতে পারি, পুলিশ ও র‌্যাব আছে। কিন্তু সরকার আছে বলে মনে হয় না, সরকার নাই। যেটুকু আছে তার পরিবর্তনের সময় এখন এসে গেছে, শেষ সময় এসে গেছে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এগুলো কী আমরা কখনও কল্পনা করতে পেরেছিলাম? আজকে এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসবে এটা কি আমরা কখনও ভেবেছিলাম? এটাকেই বলে প্রকৃতির আইন।’

সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনেক সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু এরপরে শহিদুল আলমের ওপর যেই অত্যাচার হয়েছে এটা অকল্পনীয়। সরকার একদম বেপরোয়া হয়ে গেছে। সরকার বুঝতে পেরেছে জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আর নেই। জনগণের থেকে তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

‘এই উপলব্ধি আজকে তাদের মধ্যে এসেছে বলেই তারা হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ২২ জন ছাত্রকে রিমান্ডে পাঠানোর পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’

রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিটাকের গাড়িতে হামলা, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়ার কঠিন শিলা প্রকল্পের পাথরের হিসাব না মেলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার না করারও সমালোচনা করেন সাবেক আইনমন্ত্রী। বলেন, ‘দেশে সরকার থাকলে এগুলো হওয়ার কথা নয়।’

চালকের ফাঁসির বিধান না করার সমালোচনায়
প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে বেপরোয়া চালকের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড না করার সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেও সরকার যেটা করেছে, সেটা হলো ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’।

মওদুদ বলেন, ‘এর চেয়ে আর বড় প্রতারণা আর হতে পারে না। শিক্ষার্থীরা সড়কে হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। কিন্তু আইন যা ছিল, তাই রাখা হয়েছে। আইনে শুধু পরিবর্তন হয়েছে- তিন বছরের জায়গায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং হত্যা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে ফাঁসি হবে। এটা অসম্ভব।এটা কে, কীভাবে এবং কখন প্রমাণিত করবে? সুতরাং এটা একটা ফাঁকিবাজি। এই একই প্রতারণা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীর সাথেও করেছে সরকার।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যে নয়টি দাবি তোলা হয়েছিল, তার প্রথমেই ছিল বেপরোয়া চালকের মৃত্যুদণ্ডের বিধান। সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের চূড়ান্ত খড়সায় ইচ্ছাকৃত হত্যা হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধানের কথা বলা আছে। তবে এটি বর্তমানের আইনেও আছে।তবে বেপরোয়া চালনা বা অবহেলাজনিত মৃত্যুর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অনির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানার কথা বলা আছে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের মৃত্যুদণ্ডের বিধান পৃথিবীর কোথাও নেই। উপমহাদেশে কোনো দেশে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধানও নেই। তবে বাংলাদেশে ২০১১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের মৃত্যুর পর ফাঁসির দাবিটি সামনে আনে নাগরিক সমাজের একটি অংশ।

চালকরা অবশ্য এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান হলে তারা ঝুঁকি নিয়ে স্টিয়ারিংয়ে বসবেন না। ফলে সে ক্ষেত্রে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অচলাবস্থার আশঙ্কা রয়েছে।

‘সিইসির আর পদে থাকা উচিত নয়’
নির্বাচনে অনিয়ম হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেয়া যায় না বলে বক্তব্য দেয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার আর পদে থাকা উচিত নয় বলে মনে করেন মওদুদ।

সিইসির এই বক্তব্য বিবেকের তাড়নায় বলে মনে করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম আরও চার জন নির্বাচন কমিশনার সিইসির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। এরপরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তার নিজের পদে থাকার অধিকার থাকতে পারে না।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, যুবদল নেতা কাদের সিদ্দীকি প্রমুখ বক্তব্য দেন।



সাম্প্রতিক খবর

সড়কে প্রাণ গেল নারী-শিশুসহ ৬ জনের

photo ঢাকা প্রতিনিধি: ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার শাহাবুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ছাগলনাইয়ায় উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জে সুলতানা ফিলিং স্টেশনের

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment