আজ : ০২:৩৮, জানুয়ারি ২৪ , ২০১৯, ১০ মাঘ, ১৪২৫
শিরোনাম :

বিজয় যেন ম্লান না হয়


আপডেট:১১:১০, জানুয়ারি ৯ , ২০১৯
photo

কামাল লোহানী: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিপুল জয়লাভে ইতিমধ্যে কথাবার্তা বিস্তর হয়ে গেছে। এখনও চলছে নানারকম বিশ্নেষণ। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে সোমবার। এই জয় সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে মহাজোট সরকারের বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিগত এক দশকের সাফল্যচিত্র। এর বিপরীতে দৃষ্টি দেওয়া যাক নির্বাচনের পূর্বাপর সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে। ইতিমধ্যে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবোধক। নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সুশাসন, ন্যায়বিচার ইত্যাদি জরুরি বিষয়ের দিকে দৃষ্টি গভীর করতে হবে। আরও গভীর দৃষ্টি দিতে হবে সাম্প্রদায়িকতার শেকড় উৎপাটনে। এ ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা চাই। নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে ভুগতে থাকেন। নির্বাচনের পর ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ফরিদপুরে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের যে চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে তা উদ্বেগজনক। আমাদের মনে আছে, অতীতে এ রকম ঘটনা কী ভয়ঙ্কর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একজন নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনাটি বর্বরতা-পাশবিকতার ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরেছে। এসব ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সুবর্ণচরের ঘটনাটি এও প্রমাণ করেছে, রাজনীতিকেন্দ্রিক দুর্বৃত্তপনা কত বীভৎস হয়ে উঠছে। ওই নারী কোন সম্প্রদায়ভুক্ত সেটা তো বড় কথা নয়; কথা হলো, এমন ক্ষত তো কলঙ্কের দাগই মোটা করে। সরকার ও প্রশাসনকে এ ব্যাপারে দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার নিশ্চিত করে প্রমাণ করতে হবে ভিন্নমতাবলম্বী হলেও আইনের দৃষ্টিতে দেশের সব নাগরিক সমান। এসব ঘটনা বিজয়ীদের জন্য অবশ্যই গ্লানির। বিজয় যেন ম্লান না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। পরিতাপের বিষয় হলো, এত অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতির পরও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশে এখনও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় তাড়িত হন। সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়টি আবারও সঙ্গত কারণেই আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের ঝাপড়তলী গ্রামের আনন্দ রায়ের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। ২৮ ডিসেম্বর রাতেও ওই এলাকায় কয়েকটি স্থানে একই ঘটনা ঘটে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ নিয়ে এ জেলায় এক সপ্তাহে কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, 'এ ধরনের হামলা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।' তিনি ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন ঘরের চাবিও তুলে দেন। নিঃসন্দেহে তার এই উদ্যোগ সাধুবাদযোগ্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ রকম ক্ষত আর এ দেশে কত সৃষ্টি হবে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের এমন বিপরীত চিত্র এখনও প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে কেন?

আরেকটি ঘটনা ঘটেছে এই নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামের সরকারপাড়ায়। সেখানেও দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি বাড়ি। আমাদের স্মরণে আছে, এর আগে ২০১৬ সালে ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে নাসিরনগর উপজেলা সদরের প্রায় ১০০ বাড়িঘর ও মন্দিরে আগুন দিয়ে লুটতরাজ চালানো হয়েছিল। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নাসিরনগরে ফের দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে যে ক্ষতের সৃষ্টি হলো, এরপর এ প্রশ্নও দাঁড়ায়- এই সাম্প্রদায়িক কীটদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার চিত্র দাঁড় করানো যাচ্ছে না কেন? ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে যে পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছিল, এর যদি দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার হতো, তাহলে নতুন করে সেখানে ক্ষত সৃষ্টির পথটা হয়তো সৃষ্টি হতো না। সেখানে আক্রান্তদের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিনিধিরা। নাসিরনগরের বেলুয়া গ্রামের বাসিন্দা সমীর সরকার ও শৈলেশ চন্দ্র সরকার অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পরদিন রাতে বাড়িতে গিয়ে দুর্বৃত্তরা তাদের দেখে নেওয়ার পুনর্বার হুমকি দেয় (৩০ ডিসেম্বর, সমকাল)। ওই দুর্বৃত্তদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে।

কোনো একটা উপলক্ষ তৈরি করে বা বিনা উপলক্ষেই এলাকা-বিশেষে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা যেন বাংলাদেশি সমাজে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আগে যেসব ঘটনা ঘটল নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ ও অভয়নগরে, তা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার। কারণ দর্শানো ভিন্ন হলেও লক্ষ্য জায়গা-জমি-বাস্তুভিটা এবং সামান্য কিছু সম্পদ-সম্বল দখল। ঘটনার পর সংবাদপত্রের লেখালেখির প্রতিক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু, তাও কখনও লক্ষ্যে পৌঁছেছে বলে জানা যায় না। মাঝপথে সবকিছু ঝুলে থাকে। ততদিনে প্রতিবাদ শেষ হয়ে যায়। মানুষ সব ভুলে যায়। শুধু ভুলতে পারে না ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন। পোড়া গন্ধ নাকে লেগে থাকে। পূর্বোক্ত অঘটনগুলোর পরিণতি দেখে এমন কথাই বলতে হয়। রামুর বৌদ্ধপল্লীতে হামলার তদন্তে সুস্পষ্টভাবে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি ও দু-তিনটি দলের নাম উঠে এসেছিল। তার মধ্যে জামায়াত ছিল। ছিল কিছু সংখ্যক দুর্বৃত্ত রোহিঙ্গা। ছিল স্থানীয় প্রশাসনের মদদ বা উদাসীনতা। শেষোক্ত তথ্যটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবরের পর নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জের ঘটনায়। এ ট্রাডিশন বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। চলছে এই উপমহাদেশের অন্যত্রও।

আমাদের মনে আছে, গত বছরের ১০ নভেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপাড়া গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর ওপর হামলার ঘটনা। ১০ নভেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপাড়ায় যা ঘটেছিল তাতে অনেকেরই ধারণা হয়েছিল, এটি কোনো পরিকল্পিত পরিকল্পনার দুঃসহ ক্ষত। বাড়িঘর-মন্দিরসহ সংখ্যালঘুদের অন্যান্য সম্পদে আগুন দিয়েই স্বার্থান্বেষী মহল, দুর্বৃত্ত চক্র নিবৃত্ত হয়নি, তারা লুটপাটও করেছে সমান্তরালে। ঠাকুরগাঁও, নাসিরনগর, গঙ্গাচড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ রকম ঘটনায় মানবতা পুড়েছে- এটিই হলো সত্য। বিদ্যমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমাদের এই আশঙ্কা অমূলক ছিল না যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টার অংশ হতে পারে এমন ঘটনা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতিতে যারা বারবার কলঙ্কলেপনে বিভিন্ন সুযোগে তৎপর হয়ে ওঠে, তারা দেশ-জাতির শত্রু। প্রশ্ন হচ্ছে, এ রকম অঘটন কি হঠাৎ করেই ঘটেছে? যখন এ রকম বৈরী হাওয়া বইছিল, প্রশাসন তখন কেন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি? প্রশাসন যদি আগাম যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তাহলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব নাও হতে পারত। ঠাকুরগাঁওয়ে পরপর ঘটনাগুলো ঘটার পরও প্রশাসন কি দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা নিতে পেরেছে?

আমাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে আমলে রাখতে হবে যে, গণতান্ত্রিক সংবিধান রচনা করেই রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক করা যায় না। রাষ্ট্র কীভাবে চলবে তা শেষ পর্যন্ত স্থির হয়ে যায় সমাজের প্রকৃতি ও বিন্যাস দিয়েই। উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধান গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষও বটে। তবুও সেখানে বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনা ভারতীয় সংবিধানের উলঙ্গ লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। সংবিধানমাফিক সেক্যুলার রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও চরম সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড ভারত ঠেকাতে পারেনি। তবে এটা ঠিক যে, সংবিধান যতদিন গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ থাকবে, ততদিন ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের পক্ষের শক্তির একটা আলাদা জোর থাকবে। সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ না হলে এই জোরটা পাওয়া সহজ নয়। বাবরি মসজিদ ভাঙার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর বাংলাদেশে পৌঁছতে না পৌঁছতেই এ দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলা হয়েছিল, সেই কলঙ্কের দাগ আমরা আমাদের দেশের ইতিহাস থেকে কোনো দিন মুছে ফেলতে পারব না। সংবিধানের কথা থাক, অত্যন্ত সাদামাটা যুক্তিতেও ওই ঘটনা ঘটার পক্ষে কোনো অজুহাত খাড়া করা যাবে না। বিভিন্ন দেশের মৌলবাদী শক্তি একই কাজ করে। বস্তুত পৃথিবীর সব মৌলবাদী শক্তি এক এবং অভিন্ন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, কোনো কোনো মহল স্বাধীন বাংলাদেশে যেসব ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, এর উপশমে দৃঢ়প্রত্যয়ী হতে হবে। নির্বাচনের পূর্বাপর সংঘটিত প্রত্যেকটি সংঘাত-সহিংসতার ঘটনায় তদন্তক্রমে বিচার করতে হবে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যাতে আর কখনও এ দেশে না ছড়াতে পারে, তাও নিশ্চিত করতে হবে, অপশক্তির উৎস সন্ধানক্রমে দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকারের মধ্য দিয়ে এর যথাযথ প্রতিবিধান নিশ্চিত করে।

প্রকৃতই যদি রাষ্ট্র সেক্যুলার হয়, তাহলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আরও বেশি জোরালো হতে বাধ্য। গণতন্ত্র অবশ্য আমাদের সংবিধানে মৌলিক নীতি হিসেবে আছে। সেজন্য গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের কথা বলা যায়। শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণেই একজন নাগরিক সর্বস্ব হারাবে; কিন্তু এই সুনির্দিষ্ট অত্যাচারের কোনো প্রতিকার সাংবিধানিকভাবে হবে না, এমনটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আমাদের দেশে গণতন্ত্রের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার সহাবস্থান রয়েছে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকুক আর না থাকুক, আমাদের সমাজ যদি প্রকৃতই সুস্থ ও গণতান্ত্রিক হতো, তাহলে ফরিদপুর, ঠাকুরগাঁও, নাসিরনগর, রামু, গঙ্গাচড়ার মতো ঘটনা অশুভ শক্তি ঘটাতে পারত না। তাই আমাদের বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। ক্ষতের ওপর এই যে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে, এর প্রতিবিধান যদি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এর পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। এমনটি তো কখনোই কাম্য হতে পারে না।

প্রবীণ সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগঠক

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

মার্কিন ম্যাগাজিনের জরিপ: বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা

photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা’ বিভাগে ১০ জনের মধ্যে নবম স্থানে রয়েছেন শেখ হাসিনা। ওই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেমানী। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরসোলা ভোন দের লিইয়েন, তৃতীয় স্থানে মেক্সিকোর মন্ত্রী

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment