আজ : ১০:০১, ফেব্রুয়ারি ২৫ , ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন, ১৪২৪
শিরোনাম :

প্রসঙ্গঃ খেলাফত ও খলিফা


আপডেট:০৭:০৫, অগাস্ট ১১ , ২০১৭
photo

এএল এম ফজলুর রহমানঃ ৬২২ খৃঃ মদিনাতে আমাদের নবী মোহাম্মদ সাঃ কতৃক শাসন প্রতিষ্ঠার পরে ৬৩২ খৃঃ তিনি ইন্তেকাল করেন। ৬৫৭ খৃঃ হযরত আলী রাঃ মদিনা থেকে ইরাকের কুফাতে খেলাফত এর রাজধানী সরিয়ে নেন। এর পরে ৭৫০ খৃঃ উমাইয়া খেলাফত প্রতিষ্ঠা হয় রাজধানী দামেষ্ক পরে আব্বাসিয় খেলাফত প্রতিষ্ঠা পায় বাগদাদে এবং ৯২১ খৃঃ শিয়া ইসমাইলিয়া ফাতেমাইড খেলাফত মিশরের কায়রোতে রাজধানী করে স্থিত হয়।

আল্লাহর খলিফা কারা? সুরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ দুনিয়াতে তাঁর খলিফা সৃষ্টির বিষয়ে ফেরেশতাদের বলছেন । এদিক থেকে দেখলে দুনিয়ার সব বিশ্বাসী মানুষ আল্লাহর খলিফা। সুরা নূরের ৫৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাকে শাসন ক্ষমতা দানের বিষয়ে ঘোষনা দিচ্ছেন। হযরত দাউদ আঃ কে আল্লাহ খলিফা হিসাবে উল্লেখ করেছেন ( সুরা সাদ আয়াত ২৬ ) ।

তাহলে আমরা দেখছি সব মানুষ দুনিয়ায় আল্লাহর খলিফা। সৎকর্মশীল মানুষকে আল্লাহ খেলাফত বা শাসন ক্ষমতা দানের কথা যেমন বলছেন তেমনি আল্লাহ নবী হযরত দাউদ আঃ কে তাঁর খলিফা হিসাবে উল্লেখ করে সকল নবী ও রাসুলদের তাঁদের কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে আল্লাহর খলিফার মর্যাদা দিয়েছেন। অর্থাৎ সব নবী ও রাসুল আল্লাহর খলিফা। অর্থাৎ যথা শাব্দিক অর্থে বললে দাঁড়ায় সৎ মানুষের শাসনই হলো খলিফার শাসন এবং সেটাই খেলাফত। কোরআন যেহেতু আরবীতে নাজিল হয়েছে তাই সৎ মানুষের শাসন এবং নবী রাসুলদের শাসনকে খেলাফত এবং খলিফা হিসাবে উল্লেখ করেছেন আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা তাঁর কালামে পাকে ।

এখন প্রশ্ন হলোঃ

  • খলিফা ও খেলাফতকে আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র শাসন ব্যবস্থা হাসাবে উল্লেখ করা সমীচীন হবে কিনা?
  • এর বিকল্প বা খেলাফতের ধারনার বাইরে কোনো সৎ মানুষের শাসন ব্যবস্থা খেলাফতের প্রতিস্থাপক হতে পারে কিনা?

আমরা যদি হযরত দাউদ আঃ এর উদাহরন দেখি তাহলে দেখবো আল্লাহ তায়ালা হযরত দাউদ আঃ কে জনগনের মধ্যে ন্যায় বিচার ( ন্যায় ) প্রতি প্রতিষ্ঠার আদেশ দিচ্ছেন। আদেশ দিচ্ছেন নিজের খেয়ালখুশির অনুসরন না করার জন্য। অর্থাৎ একজন খলিফা বা শাসক দেশে এবং জনগনের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন এবং একটি জনকল্যানমুলক রাষ্ট্র গঠনের ব্রতী হবেন। এমন শাসন ব্যবস্থাই খেলাফত ও খলিফার শাসন। এমন শাসন ব্যবস্থা যেকোন ন্যায়পরায়ন শাসকের পক্ষে আনজাম দেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে তাঁকে এবং তার শাসন ব্যবস্থাকে খলিফা ও খেলাফত বলা সমীচীন হবে কিনা ভেবে দেখার সময় এসেছে মনে করি।
যারা খলিফা এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে জড়িত তারা বলতে চান খোলাফায়ে রাশেদার শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেক্ষেত্রেঃ

  • মুসলিম বিশ্বের সব দেশ স্বেচ্ছায় খেলাফতের উলাইয়া বা প্রদেশে রুপান্তরিত হবে;
  • খলিফা খেলাফতের ক্ষমতা গ্রহন করবেন;

(ক) কিভাবে ক্ষমতা গ্রহন করবেন সচ্ছ নয়। তবে তিনি বাহুবলে ক্ষমতা করায়ত্ব করবেন এটা প্রায় নিশ্চিত।
(খ) খলিফা কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন যদিও অসচ্ছ তবুও ধরে নেয়া যায় তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন।
(গ) খলিফা যদি কখনো ক্ষমতাচ্যুত হন সেটা হবে অন্য কারো দ্বারা সেও বাহুবলে।
অর্থাৎ খলিফার ক্ষমতা গ্রহনের দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত ক্ষমতার দন্দ্ব ও অস্ত্রের ঝনঝনানি পরিদৃশ্যমান থেকে শান্তির জন্য চরম হুমকির কারণ হবে খলিফা এবং খেলাফতের জন্য যারা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চান তাদের প্রেসক্রিপশন যদি গ্রহন করা হয়। এটা এ জন্য বলছি আজকে কোনো স্বাধীন মুসলমান দেশ স্বেচ্ছায় নিজ দেশের স্বাধীনতা বিলুপ্ত করে খেলাফতের উলাইয়া বা প্রদেশ হতে চাইবেনা। তাই খেলাফত প্রতিষ্ঠার পরে সব স্বাধীন মুসলিম দেশসমুহকে উলাইয়া করার মতো পদক্ষেপ গ্রহন করলে একটি অনন্ত যুদ্ধের সূচনা হবে, যা মুসলিম দুনিয়ার ধ্বংস ডেকে আনবে নিশ্চিত করে বলা যায়।

প্রশ্ন হতে পারে খোলাফায়ে রাশেদার সময় বিজিত সব দেশ খেলাফতের উলাইয়া বা প্রদেশ ছিলো। এটা হতো কারণ মুসলমানদের দ্বারা বিজিত দেশের স্বাধীন থাকার কোনো প্রশ্ন ছিলোনা। ফলে বিজিত দেশ স্বাধীনতা হারিয়ে খেলাফতের উলাইয়া বা প্রদেশে পরিনত হতো। আজ ২১ শতকে তেমন চিন্তা কি বাস্তব সম্মত? আলোচনা দীর্ঘ নাকরে আমার নাবলা কথা বলবার ভার আপনাদের উপরে দিয়ে সমাপ্তি তে যাচ্ছি।

প্রশ্ন হতে পারে যদি আজ ২১ শতকে সংঘাত এড়িয়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হয় তবে তা কিভাবে সম্ভব? এটা সম্ভবঃ

  • মুসলিম বিশ্বের ওআইসি ভুক্ত দেশসমুহের সরকার প্রধানরা ওআইসি প্রধানকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ৫ বছরের জন্য। এবং তার জন্য একটি আচরণবিধি সর্বসম্মত ভাবে নির্ধারণ করবেন।
  • ওআইসি প্রধানের অধীন একটি সুপার পার্লামেন্টে থাকবে যার সদস্যরা ওআইসি ভুক্ত দেশসমুহের সরকার মনোনীত করবেন।
  • এই সুপার পার্লামেন্টের যুদ্ধ ঘোষনা করার ক্ষমতা থাকবে।
  • এই সুপার পার্লামেন্ট ওআইসি প্রধানকে খলিফা বা আমিরুল মুমিন ঘোষনা করবে।
  • খলিফা বা আমিরুল মুমিনিনের অধীনে একটি শক্তিশালী রেপিড রেসপোন্জ ফোর্স থাকবে যার সৈনিক ও কমান্ডার ওআইসিভুক্ত দেশসমুহের সেনাবাহিনী থেকে নিয়োজিত করা হবে।
  • ওআইসি প্রধানের পদটিসহ ওআইসিভুক্ত সব পদ ও পদবী পর্যায়ক্রোমে ওআইসি ভুক্ত সব দেশ থেকে নেয়া যেতে পরে।
  • যৌক্তিকভাবে ওআইসি সদর দপ্তর কাবাশরীফের নিকটতম সৌদিআরবের যেকোনো শহরে বা অঞ্চলে গড়ে তুলতে হবে।

ইসলাম শ্বাশত জীবন ব্যবস্থা। এই জীবন ব্যবস্থার মধ্যে থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে যৌক্তিকভাবে ধারন করে এই জীবন ব্যবস্থার স্বর্ণশিখরে আরোহণের পথে অগ্রসর হতে হবে। আমি যা বলেছি এটা আমার চিন্তা। আশা করি আপনারা আরো সুন্দর ধারনা সামনে নিয়ে আসবেন।

লেখকঃ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও সাবেক বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) প্রধান

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

স্থগিত থাকছে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন, রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ

photo ঢাকা প্রতিনিধি: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও ১৮টি নতুন ওয়ার্ড এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৮টি নতুন ওয়ার্ডের নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি)

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment