আজ : ০১:২২, মে ২৪ , ২০১৮, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫
শিরোনাম :

খালেদা জিয়াকে দুটি মামলায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ


আপডেট:০৪:১৬, ফেব্রুয়ারি ১৩ , ২০১৮
photo

ঢাকা প্রতিনিধি: দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়ে বন্দি খালেদা জিয়াকে দুটি মামলায় হাজির করতে আদালতের নির্দেশনা পৌঁছেছে কারাগারে।জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন চাইতে আইনজীবীরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন খালেদার মুক্তি আটকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগ। ৫ বছরের সাজার রায়ের পর বিএনপি চেয়ারপারসনকে বর্তমানে ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কে পুরনো কারাগারে রাখা হয়েছে।

উপ -কারা মহাপরিদর্শক মো. তৌহিদুল ইসলাম গতকাল সোমবার বলেন, শাহবাগ থানার একটি মামলায় ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং তেজগাঁও থানার আরেক মামলায় ৪ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করাতে আদালত থেকে চিঠি এসেছে।মামলা দুটি ২০০৮ সালের বলে জানান এই কারা কর্মকর্তা; তবে কী অভিযোগে, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি ছাড়াও নাইকো দুর্নীতি, গ্যাটকো দুর্নীতি, বড় পুকুরিয়া খনি দুর্নীতির মামলাগুলো দায়ের হয়েছিল।

>> খালেদা, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী। এই মামলা দায়েরের পরদিনই খালেদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরের বছর ১৩ মে খালেদাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

ঢাকার তিন নম্বরর বিশেষ জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে। গত ২১ জানুয়ারি বিচারক আগামী ৪ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে দিয়েছিলেন।

>> বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলাটিরও অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ হোসনে আরা বেগমের আদালতে। এটির শুনানির পরবর্তী তারিখ জানা যায়নি।

এই মামলাটি দুদক দায়ের করে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি; খালেদা এবং তার মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে।

>> নাইকো মামলাটি হয়েছিল ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায়; দুদক মামলার পর তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল।

বর্তমানে মামলাটিতে ঢাকার নয় নম্বর বিশেষ জজ মাহমুদুল কবীরের আদালতে আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদনের শুনানি চলছে। ১১ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।

>> আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাটি হয় ২০১১ সালের ৮ অগাস্ট; এটিও করে দুদক। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়।

বর্তমানে এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে, যিনি এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় রায় দিয়েছিলেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় শুনানির দিন ধার্য আছে।

>> এছাড়া বর্তমান সরকার আমলে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার অভিযোগের ১১ মামলায় খালেদা জিয়াকে আগামী ২৫ এপ্রিল ঢাকার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বিচারকের।

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় খালেদার আপিল করে জামিনের আবেদন জানাতে গত বৃহস্পতিবার বিচারক আখতারুজ্জামানের দেওয়া ৬ শতাধিক পৃষ্ঠার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি লাগবে।কিন্তু সেই অনুলিপি দিতে সরকার গড়িমসি করছে বলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অন্যতম সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ অভিযোগ করেছেন।

তিনি সোমবার এক আলোচনা সভায় বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বেশি দিন বন্দি রাখার উদ্দেশ্যে সরকার এই ‘গড়িমসি’ করছে।সদিচ্ছা থাকলে একদিনেই রায়ের কপি দেওয়া যেত বলে দাবি করছেন খালেদার আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

সোমবার তিনি রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি নেওয়ার জন্য তিন হাজার পৃষ্ঠার স্ট্যাম্প ফোলিও পেপার বিচারক আখতারুজ্জামানের পেশকার মোকাররম হোসেনের কাছে জমা দেন। এই কাগজেই রায়ের সত্যায়িত কপি লেখা হবে।এর মধ্যেই অন্য মামলায় খালেদাকে গ্রেপ্তার দেখানোর খবর গণমাধ্যমে দেখে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, তার নেত্রীর মুক্তি পাওয়া আটকাতে চাইছে সরকার।

তিনিও সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। এখন তারা আরেকটা ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। বিভিন্ন পুরনো মিথ্যা-বানোয়াট মামলায় নেত্রীকে শোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে।“উদ্দেশ্য একটাই, নেত্রীর জামিন প্রাপ্তিকে দীর্ঘায়িত করার জন্য এসব হচ্ছে সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড।”

তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা খালেদা জিয়ার দণ্ড কিংবা তাকে কারাগারে আটকে রাখা কিংবা তাকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।



সাম্প্রতিক খবর

১০ বছর ধরে অবৈধ বসবাকারীদের সাধারণ ক্ষমার জন্য অনলাইন স্বাক্ষর অভিযান

বিশেষ প্রতিনিধি: ব্রিটেনে অবৈধভাবে বসবাসকারি ইমিগ্রান্ডদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার দাবীটি ক্রমাগত জোরদার হয়ে ওঠেছে। ইতোমধ্যে নব নিযুক্ত হোম সেক্রেটারি ইমিগ্রান্ডদের স্বার্থ বিরোধী দুটি ধারা বাতিল ঘোষণা করেছেন। ব্রিটিশ ফরেন সেক্রেটারি ও লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন বরাবরই ইল্লিগ্যাল ইমিগ্রান্টদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি স্টিভ পার্কার

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment