আজ : ০১:৫৩, অগাস্ট ২১ , ২০১৮, ৫ ভাদ্র, ১৪২৫
শিরোনাম :

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে 'নজিরবিহীন' অনাস্থা ভারতীয় বিচারপতিদের


আপডেট:০২:৫৯, জানুয়ারি ১২ , ২০১৮
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের চার জন বিচারপতি। সংবাদ সম্মেলনে এই বিচারপতিরা বলেছেন, ভারতের প্রধান বিচারপতি এখন তার ব্যক্তিগত মর্জিমাফিক বিভিন্ন বেঞ্চে মামলা পাঠাচ্ছেন। তাদের দাবি, যেভাবে তিনি আদালত চালাচ্ছেন তা ভারতের গণতন্ত্রকেই হুমকির মুখে ফেলে দেবে। প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার সহকর্মীদের ওপর কর্তৃত্বের স্বীকৃতি নয় বলে দাবি করেন তারা। ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন সংবাদ সম্মেলনের নজির সৃষ্টি হলো।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রীতি মেনে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা অতীতে কখনও সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। আদালতে বিচার কাজ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থের বিচারপতিরা সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন না। তাই চারজন বিচারপতি যেভাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশকে ‘নজিরবিহীন’ আখ্যা দিয়েছে সংবাদমাধ্যম। আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা হয়েছে, গত বছর কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সিএস কারনানের ঘটনা শোরগোল ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। বিচারপতিদের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে, জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছে কারনানকে। এ দিনের ঘটনা ধারে এবং ভারে তাকেও ছাপিয়ে গেল।

শীর্ষ আদালতে মামলা বণ্টন, বিচারপতিদের নিয়োগ থেকে শুরু করে আরও নানান বিষয়ে গরমিলের অভিযোগ তুলেন বিচারপতিরা। তারা মুখ খুললেন ‘বিচারবিভাগের ভিতরে দুর্নীতি’ নিয়েও। ওই চার বিচারপতির দাবি, যেসব মামলার ফল ভারতের রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়, প্রধান বিচারপতি সেই সব মামলা বেছে বেছে তার পছন্দসই কিছু বেঞ্চে পাঠান। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর কাছে এসব বিষয়ে বার বার তাদের উদ্বেগ তুলে ধরার পরও তিনি কর্ণপাত করেননি অভিযোগ করে এই চারজন বলছেন, এরপর জাতির সামনে হাজির হওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোন বিকল্প ছিল না।

কোন কোন মামলা এভাবে প্রধান বিচারপতি তার পছন্দসই বেঞ্চে পাঠিয়েছেন সেটি তারা উল্লেখ করেন নি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা রয়েছে যে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির দুর্নীতির বিষয়টি এর একটি। গত বছরের আগস্টে এই ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ভেতর চলতে থাকা এই টানাপোড়েন প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।

বিচার বিভাগের দুর্নীতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক দিন ধরেই একটা চাপা অসন্তোষ চলছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই চার ক্ষুব্ধ বিচারপতি একটি চিঠিও বিলি করেছেন যেটি তারা এর আগে প্রধান বিচারপতিকে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। চিঠিতে তারা বেশ কিছু বিচারিক নির্দেশের ব্যাপারে তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, এর ফলে ভারতে বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ‘ব্যর্থ’ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিল্লিতে বিচারপতি জে চেলামেশ্বরের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে চেলামেশ্বর ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি মদন লোকুর।

বিচারপতি চেলামেশ্বর বলেন, ‘আদালতের প্রশাসনিক বিষয়টি জানাতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তাকে জানানো হয়েছিল কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। এর একটা বিহিত দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটাই যে, আমাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’ গণতন্ত্রের অস্তিত্ব সঙ্কটের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিচারপতি জে চেলামেশ্বরের মন্তব্য, এখন দেশ ঠিক করুক প্রধান বিচারপতিকে ইমপিচ করা উচিত কিনা।

ভারতের বিচার বিভাগকে ঘিরে তৈরি এই অভূতপূর্ব সংকটের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার আইনমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।



সাম্প্রতিক খবর

অনুমতি ছাড়া ফৌজদারি মামলায় সরকারি চাকুরেদের গ্রেপ্তার নয়

photo ঢাকা সংবাদদাতা: অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ হচ্ছে।সোমবার ঈদের আগে মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে অনুমোদন হওয়া ‘সরকারি চাকরি আইন ২০১৮’ এর চূড়ান্ত খসড়ায় এমন বিধান রাখা হয়েছে। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম এই তথ্য জানান। বলেন, ‘আগে গ্রেপ্তার

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment