আজ : ১২:৪৫, অক্টোবর ১৬ , ২০১৮, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫
শিরোনাম :

ভালোবাসি, ভালোবাসি


আপডেট:০৪:০১, ফেব্রুয়ারি ১৪ , ২০১৮
photo

নিউজ ডেস্ক: পাগলিটা হুটহাট রেগে যায়। পাগলটা যেনো দু’চোখের বিষ। ওর অগোছালো চুল, লুকিয়ে সিগারেটে টান, খাওয়া-দাওয়া যেনো না করতে পারলেই বাঁচে। রাত জেগে কী যে করে! এই করে করে চোখ বসে যেনো নতুন কাটা পুকুর। আর আধময়লা শার্ট-পাঞ্জাবি দেখলেই ওর মেজাজ সপ্তমে। অথচ এইসব পাগলামির জন্যই পাগলের প্রতি পাগলির এতো টান, কিন্তু লুকানো। কেননা, পাগলের জন্য যে পাগলির এতো মায়া, সে-ও কী কম পাগলাটে!

সেবার তো সব বাঁধ ভেঙে গেলো পাগলির। কিছুতেই মান ভাঙে না! তার জন্মদিন বলে কথা। অথচ পাগলটা কিনা রাতভর ঘুমিয়ে কাদা হয়ে ভরদুপুরে এসেছে শুভেচ্ছা জানাতে! এমন শুভ দিনটা কেঁদে কাটলো তার। এমনটা করতে পারলো পাগল?

আর পাগলেরও নেহাত কপাল খারাপ। কোথায় সবার আগে পাগলিকে নিয়ে লেখা কবিতা দিয়ে চমকে দেবে বলে বসে ছিলো, ঠিক সময়ের আগেই আসতে হলো এমন বালাই ঘুম। ভাঙলো তো ভাঙলো, একেবারে প্রায় সকাল গড়িয়ে। পাগলির রাগ তো হবেই!

পাগলি: তুই যা সামনে থেকে, বিরক্ত করবি না একদম।

পাগল: তা কী করে সম্ভব?

কেন?

যেখানেই যাই তোকে যে দেখি।

একদম বাজে বকবি না। দূর হয়ে যা!

সেটাও সম্ভব না।

কেন?

তোর সঙ্গে কে যেনো মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছে আমাকে।

কই আমি তো দেখতে পাচ্ছি না! (ভ্রু কুঁচকে)

চোখ বন্ধ কর, পাবি।

এইসব বলে তুই মোটেও ভোলাতে পারবি না আমাকে! যা এখান থেকে, বলে মুখ ঘুরিয়ে রাখে পাগলি।

বেশ তাহলে কবিতাও পড়বি না?

কিসের কবিতা?

তোকে নিয়ে লেখা নতুন কবিতা।

ঠিক আছে দে কিন্তু শুধু কবিতাই পড়বো, তুই দূরে থাকবি।

হ্যাঁ, ঠিক আছে।

পাগলি কোথায় যেনো পড়েছিল, তুমি যদি অমর হতে চাও তবে কোনো কবিকে ভালোবাসো। তার পাগলও কবিতা লেখে কিন্তু অমর হওয়ার সাধ তার নেই। আগামী সাতজন্ম সেটা সাতসমুদ্দুর তেপান্তরের পার, সে এই জন্মেই পাগলের নাক টিপে খুশি। তখন লজ্জারাঙা টিয়ার মতো মুখ সরিয়ে নেয় পাগল। দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাগলি।

“আচমকা-আদর বেয়ে জেগে ওঠে লতা

পত্রপল্লভের যেমন আলোকমুখী সাধ

তাতে ফুল ফোটে…”

কে প্রথম কাছে এসেছিল, কে প্রথম ভালোবেসেছিল— টাইপ নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন তাদের বেলায় খাটে না। তারা একই বৃন্তের দু’টি ফুল। প্রেম পারিজাত। কবে শুরু, কবে শেষ— সে এক সৃষ্টির বিস্ময়। পাগলের জন্য পাগলি আর পাগলির জন্য পাগল।

হ্যাঁ, পাগল কবিতা লেখে। তার উড়ু উড়ু মন। পাগলির চারপাশে ওড়াই তার আজন্ম সাধ। নিজের বেলায় ষোল আনা আনাড়ি হলেও, পাগলির আনমনা রাস্তা পার হওয়া নিয়ে তার বেজায় অভিমান। ইচ্ছে করে পাগলিও উড়ো তর্ক করে যায়, পাগল আরও রেগে বোম! কোনো এক ফাঁকে পাগলি ডায়েরিতে টুকে রাখে, পাগলকে ইচ্ছে করে রাগিয়ে দিয়ে মজা নেওয়ার গোপন ইচ্ছার কথা।

রাগ-অনুরাগ চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়ে। পাগলির কাছে রয়েছে রাগ কমানোর পরশ পাথর। প্রেমময় স্পর্শে পাগল হেসে কুটিকুটি, ‘চল, তোকে আজ চার প্লেট ফুচকা খাওয়াবো’।

চার প্লেট!

হ্যাঁ, খেয়ে কুমড়ো হয়ে যাবি। (বলে আবার হো হো হাসি)

মুখে প্রিয় ফুচকসমেত পাগলির শাসন, ‘এতো চিন্তা করিস কেনো আমায় নিয়ে?’ উত্তরে, ‘তোর কিছু হয়ে গেলে আমার কী হবে’! হেসে তখন উড়িয়ে দেয় পাগলি। সেদিন ডায়েরির পাতা খুলে থম মেরে বসে থাকে। টপটপ নোনাজলে অক্ষরগুলো আরও বড় দেখায়। চোখ মুছে লেখে, ‘সত্যিই তো, কী হবে আমার পাগলটার’?
পাগলির জন্য পাগল কখনও কৃষ্ণ, রোমিও, অ্যান্টোনি, ত্রিস্তান; কখনওবা অরফিয়াস, মজনু, সেলিম বা শাহজাহান। কম যায় না পাগলিও। যুগ যুগের সেও- রাধা, জুলিয়েট, ক্লিওপেট্রা, আইসোলেইড, ইরিডাইস, আনারকলি বা মমতাজ। কিংবা কারারক্ষীর সেই অন্ধ মেয়েটি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে যার জন্য প্রেমিক ভ্যালেন্টাইন রেখে যায় অমর চিঠি।

এরপর কতো বসন্ত, কতো ফাল্গুন কেটে গেলো— পাগলিরা পাগলরূপী ‘ভ্যালেন্টাইন’র কাছ থেকে চিঠি পেতেই থাকলো, পেতেই থাকলো। সে চিঠি প্রেমের, ভরসা আর ভালোবাসার। হৃদয়ের ভাঁজে সেই চিঠি গুঁজে রাখে পাগলিরা। এই চিঠির জন্য টপ টপ জল পড়ে, অপলক চেয়ে থাকা আর অজনা এক দুর্নিবার টান।

পাগলি পড়ে, ভ্যালেন্টাইনের কথা। রাজা ক্লডিয়াস-২ এর রক্তচক্ষু এড়িয়ে যুবক-যুবতীদের যে বিয়ে দেয়। কানে যায় রাজার, সঙ্গে সঙ্গে বন্দি। কারাগারে ভাব হয় কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়ের সঙ্গে। প্রেমের জাদুবলে তার চোখে ফিরিয়ে আনেন ভালোবাসার দৃষ্টি। রাজা ফের রুষ্ট হয়, আদেশ আসে মৃত্যুদণ্ডের। প্রেয়সীর জন্য লেখা ভ্যালেন্টাইনের শেষ চিঠির কথাও পড়ে।

ডায়েরি খুলে ভাবতে বসে পাগলি। কোকিল জানিয়ে গেছে ফাগুন এসেছে ধরায়। শাখে শাখে কুঁড়ি জাগছে। পলাশরাঙা অক্ষরে পাগলের কথা লিখতে বসে কিন্তু মনজুড়ে থাকে ভ্যালেন্টাইনের সেই শেষ চিঠির কথা। সেই অন্ধ মেয়েটির কথা। সেও তো অন্ধ, পাগলের প্রেমে। মন উতলা হয়। ছল ছল করে চোখ। কেন এমন হচ্ছে?

একবার জানলা খুলে চায়, একবার আকাশে গিয়ে ওড়ে। আজ যে কতো কথা লেখার ছিলো। শব্দরা সব গেলো কোথায়! শেষে পাগলকে চিঠিতে একটি কথাই লেখে, ভালোবাসি…।

না, আরেকবার লেখে, ভালোবাসি!



সাম্প্রতিক খবর

প্রত্যেকটা উৎসবে সবাই ভাই বোনের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা উদযাপন করে যাই: প্রধানমন্ত্রী

photo ঢাকা সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্থ করে বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে জমি নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। ইতোমধ্যেই সেই সমস্যাটা আমরা সমাধান করে ফেলেছি। বাকী কাজটা আপনাদের ওপরই নির্ভরশীল।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment