আজ : ০৯:৫৭, এপ্রিল ২৪ , ২০১৮, ১১ বৈশাখ, ১৪২৫
শিরোনাম :

চালকের দুর্বলতাই পুলিশের ‘চাঁদাবাজির’ সুযোগ করে দিচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


আপডেট:০৩:৫২, এপ্রিল ১৫ , ২০১৮
photo

ঢাকা প্রতিনিধি: সড়কে পণ্যবাহী যান আটকে পুলিশের ‘অর্থ হাতানোর’ অভিযোগের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, চালকরা যানবাহন চালানোর শর্তগুলো না মানায় তাদের সেই দুর্বলতাই পুলিশের ‘চাঁদাবাজির’ সুযোগ করে দিচ্ছে।

রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা নিয়ে রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (ডিসিসিআই) বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে একথা বলেন তিনি। রমজানের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে মে মাসের ১৫ বা ১৬ তারিখ থেকে রোজা শুরু হবে। অতীতের মতো এবারও রোজায় পণ্য পরিবহনের সময় যেন পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে না হয় সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “পুলিশ চাঁদাবাজির সুযোগ পায় আমাদের (ব্যবসায়ী) দুর্বলতার জন্য, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ চালকের গাড়ি চালাতে যে শর্তগুলো লাগে তা বাদ দিয়েই গাড়ি চালাচ্ছে...এই কারণেই ঘটছে। “দুই-একজন ‘চাঁদাবাজ পুলিশ’ নেই অস্বীকার করব না। আছে...হয়ত দুই-এক ক্ষেত্রে একটু বেশি বাড়াবাড়িও করে ফেলে, কিন্তু সেটা যেন ব্যবসায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সেটা আমরা দেখব।”

পুলিশের ‘চাঁদাবাজি’ বন্ধে ব্যবসায়ীদের সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “চাঁদাবাজির জন্য আমরা কঠিন ব্যবস্থা নিচ্ছি, কিন্তু আপনাদের (ব্যবসায়ী) বলতে হবে, জানাতে হবে। আমরা ব্যবস্থা নেব, কোনো পুলিশই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, আর শাস্তিটাও কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয়।”

পুলিশের চাঁদাবাজি থামান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আকুতি
পণ্য পরিবহনের সময় পুলিশ বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে এবং এ জন্য পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে পুলিশকে থামাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আকুতি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পুলিশের চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেছ মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে অবৈধ সুবিধা নেয়ার কারণেই পুলিশ এই সুযোগ পায়।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পণ্যমূল্য নিয়ে যেন কোনো কারসাজি না হয়, সে জন্য ব্যবসায়ীদেরকে অনুরোধ করেন। জবাবে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে পুলিশ চাঁদাবাজি করে। আর এই টাকাটা পণ্য বিক্রি থেকেই তুলে নিতে হয়। ফলে চাপটা পড়ে ভোক্তাদের ওপর।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান। তিনি বলেন, ‘রমজানে রাজনৈতিক-অর্থনীতির আরেকটি কালো আলোচনার দিক হলো চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী এবং স্মাগলিং। রমজান, ঈদকে পুঁজি করে বিভিন্ন স্তরের চাঁদাবাজ–সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন খরচও বেড়ে যায়।’

‘চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী এবং স্মাগলারদের এলাকাভিক্তিক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রত্যেক এলাকার চাঁদাবাজির দায়ভার সেই এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক এবং মালিক–শ্রমিক নেতাদেরই নিতে হবে। কারণ এক এলাকার নেতা-কর্মীরা নিশ্চয় আরেক এলাকায় গিয়ে চাঁদাবাজি করে না।’

ব্যবসায়ী নেতা আলাউদ্দিন মালিক বলেন, ‘ঢাকা চকবাজার এলাকায় পুলিশ চাঁদাবাজি করে। তারা মাল বহনকারী ভ্যান ও গাড়ি থেকে চাঁদা নেয়।ভ্যান ও গাড়ি থেকে ট্রাফিক পুলিশ ভ্যাটের চালান দেখতে চায়। ভ্যাট চালান দেখা ট্রাফিক পুলিশের কাজ কি?’

ব্যবসায়ী মো. হাসেম বলেন, ‘ট্রাকে করে পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায নেয়া হয়। মিল গেইট থেকে প্রতি ট্রাকে বিভিন্ন রসিদে চাঁদা উঠানো হয়। আর এর ছত্রছায়ায় আছে পুলিশ।’

ডিসিসিআইর সাবেক পরিচালক মো. শরফুদ্দিন বলেন, ‘দাম বাড়ে চাঁদাবাজিতে। চাঁদাবাজি থামান। পুলিশের মাধ্যমে ১০০ টাকা, ৫০ টাকা নেয়া হয় বিভিন্ন রাস্তায়, এটা সবাই জানে। এটা বন্ধ রাখতে হবে।’

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের তিন যায়গায় কেন সব সময় যানজট লেগে থাকে? এর অন্যতম কারণ হলো চাঁদাবাজি। এটা দেখতে হবে।’

আরেক ব্যবসায়ী নেতা সিরাজউদ্দিন মালিক বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা তো নিজের পকেট থেকে চাঁদা দেয় না। পণ্যের দাম বাড়িয়ে এ চাঁদার টাকা উঠায়। যেটা দিতে হয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের।মো. জামসেদ আলী বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর ভেতরে এক শ্রেণির লোক আছে যারা চাঁদাবাজিতে সহায়তা করে।’

রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান
রোজার মাসে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখারও অনুরোধ করা হয় মতবিনিময় সভায়।ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম গড়ে ১৭.৫১% বেড়েছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির মূলে রয়েছে প্রথাগত বাজার সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি, দুর্বিষহ যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়।

রমজানে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়লে মধ্যবিত্ত আয়-ব্যয়ে সমন্বয় করতে হিমশিম খাবে স্বীকার করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘কোনো কোনো ব্যাংকের ১৬% থেকে ১৭% সুদ হার উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে।মূল প্রবন্ধে জিয়া রহমান পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানির ক্ষেত্রে নীতিমালা করা, অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া, জেলায় খাদ্য আদালত স্থাপনের তাগাদা দেন।

ব্যবসায়ী সামসুন্নাহার বলেন, ‘ভারত থেকে বেনাপোল হয়ে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক আসে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেন আগে আসতে দেয়া হয়।বেনাপোল থেকে দৌলতিয়া-পাটুরিয়া আসতে যেখানে তিন ঘণ্টা লাগে। আর ফেরিঘাটে এসে ফেরির জন্য বসে থাকতে হয় তিন দিন। এতে পণ্য পচে যায় আবার খরচও বেশি হয়। যার জন্য পণ্যের দাম বেড়ে যায়।’

খাদ্যে ভেজালের বিষয়টি নিয়েও বিশেষভাবে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘পণ্যে ভেজাল ব্যবসায়ীরা দেন। আমরা দেই না, কোন পুলিশ দেয় না।’আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবুল কাসেমের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

গুজব প্রচারকারীরা রেহাই পাবে না
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুজব ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রচারকারীদের রেহেই দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ ছাত্ররা কোনো কিছুর দাবি করতেই পারে। কিন্তু ঢাবির ভিসির বাসভবনে যে হামলা হয়েছে এটিসহ ফেসবুকে মিথ্যা, গুজব ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে একটিসহ পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে অপপ্রচারকাররা রেহাই পাবে না।’



সাম্প্রতিক খবর

নাগরিকত্ব নিয়ে দুটি কথা

photo রোমান বখত চৌধুরীঃ আমি কোন লিগ্যাল এক্সপার্ট নই। তারপরও একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সাধারণ জ্ঞানে নাগরিকত্ব নিয়ে যা বুঝি তা পেশ করছি। ভুল হলে মন্তব্যে আপনার মতামত রাখেন। সানন্দে গ্রহণ করবো... পাসপোর্ট হচ্ছে একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট। এটি সাধারণত একজন ব্যক্তি যে দেশে জন্মগ্রহন করেছেন সে দেশ ইস্যু করে। একটি পাসপোর্ট দিয়ে একজন ব্যক্তি কোন দেশের তা চিহ্নিত করা যায়। পাসপোর্ট মূলত আন্তর্জাতিক

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment