আজ : ০৫:১১, অক্টোবর ১৪ , ২০১৯, ২৮ আশ্বিন, ১৪২৬
শিরোনাম :

বিশ্বের প্রত্যাশা পূরণে এশিয়াকেই নেতৃত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


আপডেট:১০:৫৮, মে ৩০ , ২০১৯
photo

ঢাকা প্রতিবেদক: অভ্যন্তরীণ সকল সংকট মোকাবেলা ও বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে এশীয় দেশগুলো কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে, সেই পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্ব আজ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এই উদীয়মান এশিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। উদ্ভাবনে, অনুপ্রেরণায় বিশ্বকে শান্তি আর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এশিয়াকেই নেতৃত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে জাপানের টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

নানা চ্যালেঞ্জ আর সংঘাতে জর্জরিত বর্তমান বিশ্ব কাঠামোতে কীভাবে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে নিজের ভাবনা তিনি তুলে ধরেন।

জাপানি সম্প্রচারমাধ্যম নিকেই-এর এ আয়োজনকে এশিয়ার সম্ভাবনা ও উত্থান নিয়ে এ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ছাড়াও ‘আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি’ হিসেবে পরিচিত মাহাথির মোহাম্মদ, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এবং ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে অংশ নিচ্ছেন এ সম্মেলনে।

শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলার গল্প সম্মেলনে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এশিয়ার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি সমর্থন করে এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণমূলক বাণিজ্য নীতির বাধা ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের ওই সংরক্ষণমূলক বাণিজ্য নীতি বিশ্বে বাণিজ্য যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এশিয়ার ভবিষ্যত নির্ভর করছে টেকসই ও সুষম উন্নয়নের উপর, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং সবার জন্য লাভজনক একটি ফলপ্রসূ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। আমাদের যৌথভাবে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আমরা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি গ্রুপ হিসাবে একত্রিত হতে পারি, যারা একটি বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করবে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলার ওপর জোর দিয়েছে, যা থেকে সরাসরি উপকৃত হবে জনগণ। একটি বহুমাত্রিক বিশ্বে বহু-পক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আমরা জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

এশিয়া ও বাইরের অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ পারস্পরিক নির্ভরতা বৃদ্ধি পেলে সবারই সম্পদের জোগান বাড়বে বলে মত দেন শেখ হাসিনা। তার ভাষায়, বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়েই এটা সম্ভব।

‘মানুষে মানুষে এই যোগাযোগই পারে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করে দিতে। অবকাঠামো, মুক্ত বাণিজ্য এবং উদার বিনিয়োগ নীতিই এশিয়ার বিকাশের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।’

‘অর্থনীতির সহজ কথা হল, শুল্ক যদি বাড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার কমবে। আমি আশা করব, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মধ্যে সংরক্ষণমূলক বাণিজ্য নীতির প্রবণতা কমিয়ে আনতে কী করা যায় এবং এক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়- সেই পথনির্দেশ এই ফোরাম থেকে উঠে আসবে।’

এ বিষয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বিশ্ব নানাভাবে চ্যালেঞ্জ ও সংঘাতের মুখোমুখি। বিশ্বকে আরও উন্মুক্ত করতে, ঐক্যের বন্ধনকে আরও মজবুত করার অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের মোকাবেলা করতে হবে যৌথভাবে; ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকারকে রক্ষা করতে হবে। উদ্ভাবনী ধারণা ও পদক্ষেপ নিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়াতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোতে আরও উদ্ভাবনী অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সবার জন্য লাভজনক হয়, সব মানুষের যাতে মঙ্গল হয়- তেমন একটি কৌশল নির্ধারণ করতে হবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে, যা গড়ে উঠবে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান এবং ঐক্যবদ্ধ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চেতনা নিয়ে।’

সেজন্য উদার, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক, অংশীদারিত্বমূলক যৌথ উন্নয়নের চেতনা নিয়ে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মানবতার স্বার্থে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। আমরা শুধু মানবিক আবেদনেই সাড়া দিচ্ছি না; এই সংকট যেন বিশৃঙ্খলা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার দিকে না যায় সে বিষয়েও সচেতন রয়েছি। তীব্র উত্তেজনা ও সংকটের মুখেও এ সমস্যা সমাধানের জন্য সংলাপ ও ঐকমত্য চেয়েছি আমরা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের সদস্য হিসাবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল ও টেকসই বিশ্ব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সব বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানব সভ্যতাকে যুদ্ধের বিভিষিকার শিকার হতে হয়েছে বহুবার, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।’

শক্তিশালী, যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বে দেশে দেশে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামনের দিনের চ্যালেঞ্জগুলো যদি আমরা মোকাবিলা করতে পারি, তাহলে মানবতার জয় হবেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।



সাম্প্রতিক খবর

বাংলা পোস্ট পত্রিকার ১৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃ বুধবার ৯ অক্টোবর সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট পত্রিকার ১৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পত্রিকার কার্যালয়ে এক আনন্দ সভার আয়োজন করা হয়। বাংলা পোস্টের অনারারী চেয়ারম্যান শেখ মোঃ মফিজুর রহমান ও ফাউন্ডার তাজ চৌধুরীর কেক কাটার মাধ্যমে আনন্দ সভার কাজ শূরু হয়। এসময় বাংলা পোস্ট পরিবারের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শেখ মোঃ মফিজুর রহমান তার স্বাগত বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment