আজ : ০৭:৩৮, অগাস্ট ২৪ , ২০১৯, ৯ ভাদ্র, ১৪২৬
শিরোনাম :

যুক্তরাজ্যে স্বর্ণালংকার চুরির লক্ষ্যবস্তু দক্ষিণ এশীয়রা


আপডেট:০৩:৪৩, মার্চ ২৯ , ২০১৯
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে গত পাঁচ বছরে ১৪ কোটি পাউন্ডের সোনা চুরি হয়েছে। আর এসব ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটিতে বসবাস করা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত পরিবারগুলো। ‘ফ্রিডম অব ইনফরমেশন’ আইনের বলে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত সোনার অলংকার চুরির ঘটনা ঘটেছে ২৮ হাজারবার ।

ছেলে-মেয়ের বিয়েতে দেওয়ার জন্য সোনা কিনে রাখার সংস্কৃতি রয়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য দেশের বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের, এদের জমিয়ে রাখা সোনার গহনা আখ্যায়িত হয় ‘এশিয়ান গোল্ড’ নামে। পরিবারগুলো এই সোনা ও সোনার অলংকার বিয়েতে উপহার দেয় যা বংশপরম্পরায় উত্তরসূরিদের কাছে যায়। ফলে এসব পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যজুড়ে কাজ করা ৪৫টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ২৩টির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, গ্রেটার লন্ডন থেকে সোনার অলংকার চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশিবার ঘটেছে; সেখান থেকে খোয়া যাওয়া সোনার মোট আর্থিক মূল্য ১১ কোটি ৫৬ লাখ পাউন্ড। এর পরেই রয়েছে গ্রেটার ম্যানচেস্টার এলাকা। সেখান থেকে খোয়া যাওয়া সোনার আর্থিক মূল্য ৯৬ লাখ পাউন্ড।

লন্ডনের সোনার ব্যবসা করেন সঞ্জয় কুমার। সোনার অলংকারের সঙ্গে রীতি-প্রথার সংযোগ থাকার কথা স্বীকার করে সঞ্জয় বলেছেন, “বাবা-মা, দাদা-দাদিরা বলেন, ‘সোনা কিনতেই হবে,’ ‘এটা একটা বিনিয়োগ,’ ‘এটা সৌভাগ্যের প্রতীক।’ এশীয়দের মধ্যে এরকম চল আছে। ফলে তারা এই রীতি-সংস্কৃতি মেনে চলে।”

চেশায়ার পুলিশের প্রধান অ্যারন ডুগান বলেছেন, সোনা লুটের তদন্তে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যে সমস্যার মুখে সবচেয়ে বেশি পড়েছেন, তা হলো সোনা সহজেই সরিয়ে ফেলা যায়। যে কেউ এশীয় সোনার দোকানগুলোতে গিয়ে এসব ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ অলংকার বিক্রি করে দিতে পারে। তাকে প্রশ্ন করা হয় না যে এগুলো সে কোথা থেকে পেয়েছে। তার ভাষ্য, ‘এই দেশে যত সহজে সোনা বিক্রি করে দেওয়া যায় তত সহজে লোহা-লক্কড় বিক্রি করা যায় না।’

লন্ডন মেট্রোপলিটান পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাধারণত উৎসবের সময় সোনা খোয়া যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে। কারণ তখন সবাই অনেক অলংকার পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, মন্দিরে যাওয়া-আসা করে। ২০১৭-১৮ মেয়াদে মেট্রোপলিটান পুলিশ সোনার গহনা চুরির তিন হাজার ৩০০ ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় দুই কোটি ১২ লাখ পাউন্ড। কেন্ট পুলিশ জানিয়েছে, সোনার অলংকার চুরির ৮৯টি অভিযোগ গেছে তাদের কাছে। এসব অলংকারের মূল্য ১৬ লাখ পাউন্ড। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের কাছে গেছে সোনার গহনা চুরির ২৩৮টি অভিযোগ। এসব গহনার মূল্য ১৫ লাখ পাউন্ড।

মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিটেকটিভ কনস্টেবল লিসা কিলে মনে করেন, ‘চুরির জন্য সোনা অপরাধীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় জিনিস হিসেবে থেকে যাবে, পরিচয় গোপন করে দ্রুত এর বদলে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকার কারণে। চুরি যাওয়া সোনার গহনাগুলো শুধু আর্থিক দিক থেকে মূল্যবান তা নয়, এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর অনুভূতি। ফলে খোয়া গেলে এসব অলংকারের মালিকদের ওপর বড় প্রভাব পড়ে।’

লিসা কিলে আরও বলেন, ‘এমন অপরাধ দমনে আরও অনেক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে আশা করি, প্রতিরোধমূলক যেসব ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি তাতে এমন অপরাধের সংখ্যা কমে আসবে।’ সোনা গহনা চুরিতে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে মেট পুলিশের বিশেষ এক পরিকল্পনার নাম ‘অপারেশন নাগেট’। ধারাবাহিক বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সোনা চুরির সংখ্যা কমিয়ে আনা এই পরিকল্পনার লক্ষ্য।



সাম্প্রতিক খবর

সিলেটের প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবি গোলাম রব্বানি চৌধুরীর ইন্তেকাল

photo লন্ডনবিডিনিউজঃ সিলেটের খুরুমখলা নিবাসি প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট সমাজসেবি গোলাম রব্বানি গত ১৭ আগস্ট ইন্তেকাল করেন। গোলাম রব্বানী চৌধুরী (আমুদ মিয়া), তার এলাকায় একজন সুপরিচিত ব্যাক্তি ছিলেন। তিনি সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সস্পৃক্ত ছিলেন। তিনি মানুষের সুখে,দুখে আজীবন পাশে থাকতেন এবং মানুষকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্যে, সহযোগিতা করতেন। তার মৃত্যুর সংবাদ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment