আজ : ০২:৫৬, নভেম্বর ১৯ , ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
শিরোনাম :

ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় জিডি সেনা সদরের


আপডেট:০৫:১৩, অক্টোবর ১৫ , ২০১৮
photo

ঢাকা সংবাদদাতা: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর এক টকশো’তে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছে সেনা সদর। সেনা সদরের মেজর এম রকিবুল আলম (বিএ৮০০৬) বাদী হয়ে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় গত শুক্রবার (১২ অক্টোবর) এই জিডি করেন, যার নম্বর ৪৯৮। জিডিতে গত ৯ অক্টোবর রাতে সময় টিভির সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপ্রসূত ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যায়িত করা হয় এবং কেন, কি উদ্দেশে এবং কাদের প্ররোচণায় তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন তা তদন্তের দাবি জানানো হয়।

ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘গত শুক্রবার সেনা সদরের একজন মেজর বাদী হয়ে একটা জিডি করেছেন। জিডি নম্বর ৪৯৮। জিডিটি আমরা তদন্ত শুরু করেছিলাম। পরে এটি তদন্তের জন্য ডিবির (ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন এটি ডিবি তদন্ত করবে।’

জিডিতে বলা হয়, ডিএমপি ঢাকার শাহবাগ থানার অধীনস্থ ৮৯ নম্বর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডে অবস্থিত বেসরকারি টিভি চ্যানেল সময় টেলিভিশনে গত ৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি বলেন, ‘দেখেন, এটা ছোট দেশ, আমরা একে-অপরকে চিনি। তবে অনেকগুলো তাদের বিরুদ্ধে পার্শ্ব সারকুমেস্টেনশিয়াল এভিডেন্স যে, আর্জেস গ্রেনেড কোত্থেকে এসেছে? দেখেন, আর্জেস গ্রেনেড, আমি জানি না, সময়টি মিলে কিনা, আমাদের বর্তমান চিফ অব আর্মি আজিজ সাহেব চট্টগ্রামের কমান্ডার ছিলেন, জিওসি ছিলেন, কমান্ড্যান্ট ছিলেন। তার ওখান থেকে একটা ব্যাপক সংখ্যক সমরাস্ত্র, গোলাগুলি চুরি হয়েছিল, হারিয়ে গেছিল, বিক্রি হয়ে গেছিল এবং এজন্য একটা কোর্ট মার্শালও হয়েছিল আজিজের নামে, জেনারেল আজিজের নামে কোর্ট মার্শালও হয়েছিল। আজকে উনি..., কিন্তু উনার কেন এসেছে, উনি হলেন ওভার অল, উনি নিশ্চয়ই এখন তো ওখান থেকে এবং আমরা আরও দেখছি মিরপুরে সম্প্রতি কয়েক বাক্স পুকুরের মধ্যে পাওয়া গেছে, এ সবগুলি আমাদের ব্যর্থতা...।’

জিডিতে বাদী উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যটি ছিল একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসত্য বক্তব্য। কারণ বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকরি জীবনে কখনোই চট্টগ্রামে জিওসি বা কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন না। তিনি ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, ২০১১ সালের জুন থেকে ২০১২ সালের মে পর্যন্ত ঢাকার মিরপুরে ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার এবং ২০১২ সালের মে থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে কোনও সমরাস্ত্র বা গোলাবরুদ চুরি বা হারানোর কোনও ঘটনা ঘটেনি। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তার সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য সামরিক চাকরি জীবনে কখানোই কোর্ট মার্শালের সম্মুখীন হননি। পরবর্তী সময়ে আমি অবগত হই যে, ২০০৩-২০১৮ পর্ডন্ত চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে যথাক্রমে মেজর জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ (পরবর্তীতে সেনাবাহিনী প্রধান) মেজর জেনারেল ইকবাল করিম ভুইয়া (পরবর্তীতে সেনাবাহিনী প্রধান), মেজর জেনারেল সিনা ইবনে জামালী (পরবর্তীতে লে. জেনারেল), মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন (পরবর্তীতে সেনাবাহিনী প্রধান), মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শামিম চৌধুরী, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন, মেজর জেনারেল মো. সফিকুর রহমান (পরবর্তীতে লে. জেনারেল), মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান জিওসি হিসেবে কর্মরত আছেন।’

জিডির ভাষ্য, ‘চাকরিরত সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির এরূপ বানোয়াট, সৃজিত এ অসত্য বক্তব্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা সেনাবাহিনী প্রধানসহ সেনাবাহিনীর মতো রাষ্ট্রীয় একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে জনসম্মুখে হেয় করার হীন অপচেষ্টা। ডা. জাফরুল্লাহর উপরোক্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য বক্তব্য লাইভ টকশোতে উপস্থাপন কেবল সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে জেনারেল আজিজ আহমেদের সামরিক সুনাম ও সামাজিক অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করেনি, বরং তা সেনাবাহিনী প্রধানের সম্মানজনক পদকে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। এ ধরনের বক্তব্য প্রকারান্তরে কর্মরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের মনোবলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া, এরূপ অপপ্রচার সেনাবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর সংহতি ও একতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার নিমিত্তে সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের মনোবলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া, এরূপ অপপ্রচার সেনাবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর সংহতি ও একতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ডা. জাফরুল্লাহ তার বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ঐক্যকে বিনষ্ট করাসহ সাধারণ জনগণের মধ্যেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যমূলক গুজব ছড়িয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিরূপ ও নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলে প্রতীয়মান।’

জিডিতে বলা হয়, ‘উক্ত অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারকালে আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন সেনাবাহিনীর সেনাসদর অফিসার্স মেসের টিভি রুমে একাকী বসে উল্লেখিত অনুষ্ঠানটি দেখছিলাম। অনুষ্ঠান চলাকালে বক্তা জনাব ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মুখে উপরে উল্লেখিত বক্তব্য শুনে আমি বেশ অবাক ও হতভম্ভ হয়ে যাই এবং আমার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। কারণ যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য, সেই বাহিনীর প্রধান সম্পর্কে এরূপ বক্তব্য আমার মতো সেনাবাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও অনুরূপ হতাশা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই স্বাভাবিক। অনুষ্ঠান শেষে আমি বিষয়টি নিয়ে আমার কিছু সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করি। কারণ, আমার জানামতে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান কখনও চট্টগ্রামের জিওসি এবং কমান্ড্যান্ট ছিলেন না এবং তার কোনও কোর্ট মার্শালও হয়নি। পরবর্তী দিনও আমি অফিসে যাওয়ার পর সহকর্মীদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন নিশ্চিত হই যে, সেনাপ্রধান সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহের বক্তব্য আদৌ সত্য ছিল না। এখানে উল্লেখ্য যে, অনুষ্ঠান পরবর্তী সময়ে ও পরদিন সেনাবাহিনীর বাইরে থেকেও অনেকে বিষয়টি আমার কাছে জানতে চায়। সহকর্মী ও বাইরের লোকদের সঙ্গে আলোচনাকালে আমি নিশ্চিত হই যে, যারা অনুষ্ঠানটি দেখেছেন তাদের বেশিরভাগ লোকই ডা. জাফরুল্লার বক্তব্যে সেনাবাহিনী সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করেন এবং তাদের সকালের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তা কাজ করে। অতঃপর প্রচারিত এই বক্তব্যের বিষয়ে আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে জানতে পারি যে, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এহেন বক্তব্য সময় টেলিভিশনের মতো একটি বহুল প্রচারিত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচারের ফলে দেশ-বিদেশের অগণিত দর্শক-শ্রোতা তা দেখেছেন এবং শুনেছেন। সেনাবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল ও দেশপ্রেমিক একটি বাহিনীপ্রধান তথা সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার যাচাই-বাছাই না করে উক্ত টিভি টকশোতে এ ধরনের একটি উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্য বক্তব্যের কারণে সেনাবাহিনীর সুনাম ও ভাবমূর্তি জনগণের নিকট মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।’

জিডিতে বলা হয়, ‘সেনাবাহিনী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সময় টিভিতে বিগত ৯ অক্টোবর রাতে সম্পাদকীয় নামের টকশোতে ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়েরপূর্ব রাতে হঠাৎ অপ্রাসঙ্গিকভাবে সেনাপ্রধান সম্পর্কে প্রদত্ত বক্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপ্রসূত ও ষড়যন্ত্রমূলক, যা সেনাবাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি, তথা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি কেন, কি উদ্দেশ্যে এবং কাদের প্ররোচণায় এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক, বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্য টকশোতে বলেছেন তা তদন্তের দাবি রাখে। উল্লেখিত ঘটনার বিষয়ে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও নির্দেশক্রমে অভিযোগটি দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হলো। উল্লেখিত ঘটনাবলী বিধি মোতাবেক তদন্ত করে উপরে উল্লেখিত ডা. জাফরুল্লাহসহ উক্ত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’



সাম্প্রতিক খবর

কারা সাক্ষাৎকার নেবেন সেটা বিএনপির নিজেদের ব্যাপার: মির্জা ফখরুল

photo ঢাকা সংবাদদাতা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে কারা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেবেন সেটা বিএনপির নিজেদের ব্যাপার। এটা নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার কারও নেই। তারেক রহমান সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, এতে নির্বাচনি আচরণ ভঙ্গ হচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা ইসিতে এমন অভিযোগ দিয়েছেন, বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ইসি নিজেরাই আচরণ ভঙ্গ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment