আজ : ০৯:২২, সেপ্টেম্বর ২২ , ২০১৮, ৭ আশ্বিন, ১৪২৫
শিরোনাম :

সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে লাভ নেই, ভারতকে সমস্যার কথা বলুন: মির্জা ফখরুল


আপডেট:০৫:০৬, মে ২৬ , ২০১৮
photo

ঢাকা সংবাদদাতা: শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যার কথা না তোলার সমালোচনা করেছে বিএনপি।

শুক্রবার এই এই ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি ওই আয়োজনে অমীমাংসিত সমস্যার কথা বলতে চান না। পরদিন শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন রাখেন, কেন সেখানে এমন কথা তোলা যাবে না।সন্ধ্যায় রাজধানীর পূর্বানী হোটেলে ২০ দলের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি আয়োজিত ইফতারে যোগ দেন ফখরুল।

প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সফরে শুক্রবার যান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন ছাড়াও আজ চুরুলিয়ার কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি পান তিনি।

এই দুই অনুষ্ঠানের বাইরে শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ঘণ্টা একান্ত বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। তবে এই বৈঠকের বিষয়বস্তু গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি।আর দ্বিতীয় দিন দেশে ফেরার আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।

শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থাকলে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু আমরা কিন্তু সমস্যাগুলো এক এক করে সমাধান করে ফেলেছি। হয়ত কিছু যা বাকি, আমি সে কথা বলে এই চমৎকার অনুষ্ঠান নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু আমি আশা করি যেকোনো সমস্যা আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে সমাধান করতে পারব।’

আর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শান্তিনিকেতনে গেছেন। আমাদের অনেকেরই প্রিয় জায়গা সেটি। সেখানে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেছেন। ভালো কথা। কিন্তু আমাদের অধিকারের কথা বলা যাবে না কেন?’

‘পত্রিকায় দেখলাম প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সমস্যার কথা বলে আজকের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চান না। কেন এটা হবে? নিজেদের অধিকারের কথা বললে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক কেন নষ্ট হবে? এ সম্পর্কের জন্য কি আমরা পানি সমস্যা ভুলে যাব?’

‘১০ বছর ধরে তিস্তা পানির সুরাহা হওয়ার কথা শুনছি। পানির অভাবে অনেকের জীবন জীবিকা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সুরাহা হয়নি। আমরা অত্যন্ত সুসম্পর্ক চাই। কিন্তু পারস্পরিক স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নয়। নিজেদের অধিকার জলাঞ্জলি দিয়ে সুসম্পর্ক জনগণ মেনে নেবে না।’

‘এভাবে মাদক নির্মূল করা যায় না’
মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা চাই মাদক নির্মূল হোক। কিন্তু মানুষ হত্যা করে মাদক দমন করা যায় না। এর জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনগণই মাদক নির্মূল করবে।’

‘মাদকের সম্রাট তো আপনাদের ঘরেই আছে। তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেননি এখনও। উল্টো বলছেন তার অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। অথচ সারাদেশ জানে একজন এমপি মাদকের সম্রাট।’

‘ইফতারে আসতে ইচ্ছা হয় না’
দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ইফতার পার্টিতে আসতে ইচ্ছা করে না ফখরুলের। তারপরও প্রতিদিন তিনি আমন্ত্রণ রক্ষা করে চলছেন।

‘এ সময় হয়তো কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া একাকি ইফতার করছেন। এটি আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত করে। এসময় ইফতার মাহফিলে মন থেকে আসার ইচ্ছা হয় না। তবু রাজনীতির কারণে আসতে হয়।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় জামিন পেলেও খালেদা জিয়ারকে মুক্তি পেতে আরও পাঁচ মামলায় জামিন পেতে হবে। তবে বিএনপি নেত্রীর কারাবাগে ফখরুল দায় দিচ্ছেন সরকারককে। বলেন, ‘বিভিন্ন কৌশলে খালেদা জিয়াকে এ সরকার মুক্তি দিচ্ছে না। নানা কৌশলে তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য চেষ্টা করছে সরকার।‘আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এ কৌশল অবলম্বন করেছে তারা।’

১৯৭১ এর চেতনা ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ একটি দুঃসহ রাষ্ট্র তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘১৯৭১ সালে সমগ্র জাতি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, ঠিক একইভাবে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।আমাদের অধিকারের প্রশ্নে এক হতে হবে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার,যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা। উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা।



সাম্প্রতিক খবর

এই অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের, সরকারকে বি. চৌধুরীর প্রশ্ন

photo ঢাকা সংবাদদাতা: সরকারের কাছে অনেক ‘কেন’র উত্তর চেয়েছেন যুক্তফ্রণ্ট চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। শনিবার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব প্রশ্ন করেন। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিকেলে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বি.চৌধুরী বলেন, এক মাস আগে দেশের বাইরে থেকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের দেশে আসার অনুমতি দিতে হবে। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment