আজ : ০৫:৩৪, অগাস্ট ২০ , ২০১৮, ৪ ভাদ্র, ১৪২৫
শিরোনাম :

আলোকচিত্রী শহিদুলকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে কিনা পরীক্ষার নির্দেশ


আপডেট:০৩:১২, অগাস্ট ৯ , ২০১৮
photo

ঢাকা সংবাদদাতা: রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা, তা ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ২(৬) ধারা অনুসারে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী সোমবারের মধ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ওই প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশ মতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেই প্রতিবেদনের ওপর বিকালে শুনানি হয়।আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন, ড. শাহদীন মালিক, আদিলুর রহমান, সৈয়দা রেজোয়ানা হাসান।রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন আদালতে শুনানিতে বলেন, শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে সেখানে চারজন ডাক্তারের নাম আছে। তবে তাদের মধ্যে কোনো মনরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। অথচ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ২(৬) ধারায় ‘নির্যাতন’ অর্থ কষ্ট হয় এমন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনকে বোঝায়। এ জন্য আমরা তার মানসিক অবস্থাও পরীক্ষার আবেদন জানাচ্ছি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শহিদুল আলমকে নিয়ে যে রিটটি করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, তাকে সঠিকভাবেই গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড দেয়া হয়েছে। তিনি কোনো ভিকটিম নয় যে এই রিট চলতে পারে। এ সময় মোবাইল ফোন থেকে ডিবি কার্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে শহিদুল আলমের হাঁটার ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি মামলার আরজি ও পুলিশের বক্তব্য নিয়ে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আল জাজিয়া টেলিভিশনে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন সেটি উসকানিমূলক। শহিদুল আলম যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন সেটি ট্র্যাকিং করে ডিবি পুলিশ। পরে রাত ৩টার সময় ডিবি পুলিশ শহিদুল আলমকে আটক করে। শহিদুল আলমের বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে রিমান্ডে রাখা হোক।তিনি বলেন, শহিদুল আলম তো বলেননি যে তিনি অসুস্থ, পাগল। তখন আদালত বলেন, মেন্টালি টর্চার করলে এগুলো বলতে হয় না।

অ্যাটর্নি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার পর চারজন ডাক্তার তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এখানে চারজন ডাক্তারের মধ্যে তিনজনই ছিলেন বিভাগীয় প্রধান। তাকে যারা পরীক্ষা করেছেন তারা একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শহিদুল আলম ইজ ফিজিক্যাল সাউন্ড (শারীরিকভাবে সুস্থ)। ৫২২ নম্বর কেবিনে নিয়ে শহিদুল আলমকে ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়।

জবাবে সারা হোসেন আদালতকে বলেন, তার মুখে ঘুষি মারা হয়েছে। তার নাকের চারপাশে কী অবস্থা তা পরীক্ষা করে শারীরিক অবস্থা নির্ধারণ প্রয়োজন। এছাড়া, মানসিক পরীক্ষাও জরুরি। আইনসম্মতভাবে আটক করা হয়নি। উনার নির্যাতনের জন্য শারীরিক ও মানুষিক পরীক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা করেছেন চারজন ডাক্তার। তাদের মধ্যে একজনও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। অথচ মানসিক বিশেষজ্ঞ ছাড়া উনারা কি করে একটি প্রতিবেদন দিলেন যে বললেন শারীরিক এবং মানসিকভাবে শহিদুল আলম সুস্থ। মানসিক সুস্থতা প্রমাণ বা যাচাই করার কোনো ডাক্তার কিন্তু ছিলেন না। এরপর শুনানি শেষে আদালত রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। ওই ঘটনায় রমনা থানার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। গত ৬ আগস্ট ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ডিবি পুলিশের (পরিদর্শক)কর্মকর্তা। শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও জোতির্ময় বড়ুয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে রাখার আদেশ দেন।

শহিদুল আলমকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাত দিনের রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে ও তার সুচিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে গত ৭ আগস্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে রমনা থানায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে একটি বোর্ড গঠন করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠাতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার বিষয়টি মুলতবি রাখেন।

সকালে আবেদনটি আপিল বিভাগে উঠলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টে আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনটি করা হয়েছে। তখন শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী সারাহ হোসেন বলেন, রিপোর্ট এসেছে। এরপর সোমবার পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রাখেন আপিল বিভাগ।



সাম্প্রতিক খবর

সড়কে প্রাণ গেল নারী-শিশুসহ ৬ জনের

photo ঢাকা প্রতিনিধি: ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার শাহাবুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ছাগলনাইয়ায় উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জে সুলতানা ফিলিং স্টেশনের

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment