আজ : ০৪:৩২, ডিসেম্বর ১২ , ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
শিরোনাম :

রাজনৈতিক মোড়কে তথ্য পরিবেশন এক ভয়ানক চর্চা


আপডেট:১২:৪২, মার্চ ৪ , ২০১৮
photo
রোমান বখত চৌধুরীঃ বাংলাদেশে কোন ঘটনার মূল তথ্য কখনোই আলোর মুখ দেখবে না। জাফর ইকবাল স্যারের ঘটনাটি আপাতত সেভাবেই এগুচ্ছে। কারণ এখন যে কোন বিষয়কেই বিশেষ রাজনৈতিক মোড়কে পরিবেশন করা হয়। আর রাজনীতিটা পক্ষপাতিত্বের এতোটাই কিনারে দাঁড়িয়েছে যে, সেখান থেকে সত্য উচ্চারণের সাহস ও শক্তি যেন থেকেও নেই। কেউ গভীরে যেয়ে বুঝতেও চায় না। সবাই সুইপিং কমেন্ট করতে থাকে। তাছাড়া একদল সাংবাদিক আর সংবাদ মাধ্যম আছে যারা কোন এক দলের পক্ষে থেকে কাজ করতে যেয়ে যাচ্ছেতাই মনগড়া তথ্য ও গল্প পরিবেশন করে চলেছে ক্রমাগত। এটি এমনই ভয়ানক যে, এর মাধ্যমে সত্যিকারের অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। থেকে যায় তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে তারা আরও অপরাধের দিকে চলে যায়।
মাত্র কয়েকদিন হল র‍্যাগিং করা ছাত্রদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করেছে। সেখানে ডঃ জাফর ইকবাল স্যার বহিষ্কারের পক্ষে থেকে বরং পারলে আরও শাস্তি বা দণ্ড আরোপের কথা বলেছেন যা সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। তিনি ঠিকই বলেছেন এবং সবাই জাফর স্যারের এ কথা সমর্থনও করবেন জানি। আমিও করি। অসভ্যদের এমন শাস্তি বরং কম। কিন্তু বহিষ্কার হওয়া ঐ দুঃসাহসী র‍্যাগিং মাষ্টাররা কি জাফর স্যারের এমন মন্তব্যে খুশী হতে পারে? যে র‍্যাগাররা নতুন আসা ছাত্রকে মেরে অর্ধ উলঙ্গ করে ছবি ফেসবুকে দিতে পারে, তারা তো একেবারে মামুলী সাহসের মানুষ নয়। তাদের দ্বারা আরও বড় কিছু ঘটতে পারে। সমাজব্যবস্থা এমন যায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে গাড়িতে একা পাওয়া মহিলা যাত্রীকে ধর্ষণ করে, পরে গলা টিপে মেরে ব্যবহৃত টিস্যু পেপারের মতো রাস্তার পাশে ছুড়ে মারে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাঙ্গন থেকে বহিষ্কার হয়ে কাউকে ছুরি মারা তো খুব সাধারণ ঘটনা। শিক্ষকরা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে আজকাল পরীক্ষার হলে নকলকারীকে ধরতে যান না। তবে শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্ন ফাঁসের দেশে এখন তো আর নকল হতে শুনা যায় না!
আজকের ঘটনায় আঘাতের ধরন ও ব্যবহৃত ছুরির কথা জেনে মনে হয় খুব বড় লেভেল থেকে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়নি। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক লেভেল থেকে করলে অন্য অস্র হয়ত ব্যবহার করতো। খেয়াল করলে দেখা যাবে, এর আগে যেসব বড় জঙ্গি গোষ্ঠী যাদের আঘাত করেছে তারা প্রায় সবাই মারা গেছে। অতীতে ব্যবহার্য অস্রের সাথে আজকেরটার তেমন মিল নেই। আমার ধারণা, যেহেতু জাফর স্যারের উপর জঙ্গি গোষ্ঠীর হুমকির একটা পারসেপশন (জনশ্রুতি) চালু আছে, সুতরাং এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে র‍্যাগাররা প্রতিশোধ নিতে পারে। টাকাপয়সা দিয়ে এই খুনিকে ভাড়াও করতে পারে। সন্ধেহের তালিকায় এদেরকে প্রথম রাখা উচিৎ মনে হয়। পুলিশি হেফাজতে থাকা আক্রমণকারীর জ্ঞান ফিরলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে আশা করছি। এই বেটা বেঁচে আছে কিনা তাও এক সন্ধেহ।
ক্যাম্পাসে সিসিটিভি আছে কি না জানিনা। থাকলে এর সাহায্য নেয়া উচিৎ। যে রাস্তা ব্যবহার করে এরা ক্যাম্পাসে ঢুকেছে সেখানে কোথাও সিসিটিভি থাকলে এর ফুটেজ কাজে লাগানো যেতে পারে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো বা চিহ্নিত করায় সিসিটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। তাই মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি না থাকলে দ্রুত স্থাপন জরুরী। ক্যাম্পাসে কারা ঢুকবে বা বের হবে তাদের তথ্য সংরক্ষণ করাও এখন প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে জেলে আটক রাখার পর থেকে সরকারের আস্থা সাম্প্রতিক সময়ে একেবারে তলানিতে ঠেকে। এমনকি যেসব ইন্টেলেকচুয়ালরা শেখ হাসিনাকে সমর্থন করতেন তারাও বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার জেলদণ্ড কিংবা জামিন না দেয়াকে সমর্থন করছেন না। ক্ষেত্র বিশেষে তারা মনে করছেন এটা হিংসাত্মক রাজনীতির চর্চা। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব খুবই নেতিবাচক। ক্রমেই সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের কথা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে যখন জোর আলোচনা চলছে তখন জাফর স্যারের উপর এরকম ঘটনা সত্যিই অবাক করে। তাছাড়া গতকাল দেখলাম ডঃ কামাল হোসেনও যোগ দিয়েছেন সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আনার জন্য তথা তত্ত্বাবধায়ক (নির্বাচনকালীন) সরকার চালুর জন্যে। তিনি খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুরে মানবিক দিক বিবেচনা করে আইনি সাহায্য দিচ্ছেন। সুতরাং সরকার এ মুহূর্তে বেশ বেকায়দায়।
বেশ কতদিন ধরে বাংলাদেশে একটি ধারা চালু হয়েছে যে সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে বেকায়দায় পড়লে কিংবা আলোচনা তুঙ্গে উঠলে জাতীয় আলোচনার বিষয় পাল্টানোর জন্যে নতুন একটি ঘটনা সামনে এসে হাজির হয়। এর কারণ, মানুষের দৃষ্টি যাতে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা যায়। আমার কেন যেন মনে হয়, দেশের বাইরে থেকে থেকে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী রাজনৈতিক ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণে রেখে এর কলকাঠি নাড়ছে। বাংলাদেশের রাজনীতি তাদের বিপক্ষে গেলেই চটকদার কিছু ইস্যু ঢুকিয়ে দেয়। গণতন্ত্রের পক্ষে মতামত তৈরি হলে, দেশ স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রবর্তী হলে তা বানচাল করাই তাদের উদ্দেশ্য। তাদের কাছে ডঃ জাফর ইকবালের মতো ব্যক্তির আহত বা নিহত হওয়া কোন বিষয় নয়। কারণ মানুষটি তার দেশের কেউ নয়। বাংলাদেশে সরকারে কে থাকবে বা থাকবে না, সেটাই তাদের মূল এজেন্ডা। আমাদের গোয়েন্দা কর্তারাও এদের কাজকর্মের নিশানা খুঁজে পান কি না বুঝি না। আর জানলেও হয়তো বাঁধা দেয়ার ক্ষমতা নেই। যেমন ক্ষমতা দেখা যায় না, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক র‍্যাগিং থেকে। বরং দেখা যায়, তাদের প্রেসক্রিপশন মতে সরকার আওয়াজ তুলে। অভিযোগের ঐ একই তীর, একই পানে।
আমি নিশ্চিত এ বর্বর ঘটনার পর বরাবরের মতো বিএনপি কিংবা জামায়াতের উপর ইঙ্গিত দেয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে। যে কোন ঘটনার পর এটি সরকারের একটি ‘ফ্রি সাইজ প্রেস রিলিজ’। সরকার সমর্থিত সবার মুখে মুখে এই কথা যখন মুহুর্মুহু প্রচারিত হতে থাকবে, তখন তদন্তকারী কর্তারাও বাতাস বুঝে দায়সারা একটা রিপোর্ট দাখিল করবেন। কারণ কেউই রিস্ক নিতে চায় না। সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে সত্য পরিস্ফুটন বরং বুমেরাং হয়ে যাবে। তখন স্বাধীনতা বা সরকার বিরোধী ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে অফিসারগিরি বুঝিয়ে দিবে। তাদের বেঁচে থাকার সব অবলম্বন কেড়ে নেয়া হবে শেষে। ফলে প্রকৃত সত্য লুকিয়ে থেকে কেবলই কাঁদতে থাকবে।
জাফর ইকবাল স্যার আমার শিক্ষক। কম্পিউটারের এবিসিডি তার কাছ থেকেই নেয়া। রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বা বক্তব্যে আমরা অনেক সময় ভিন্নমত পোষণ করতে পারি, তবে তার উপর প্রাণবিনাশী এমন আক্রমণ কখনো সহ্য করতে পারি না। এমন নেক্কারজনক ঘটনার ধিক্কার জানাই। প্রকৃত অপরাধী যেই হোক তাকে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা হোক।
অনেকেই ইসলামী জঙ্গি বলে প্রকারান্তরে ইসলামকে দায়ী করার চেষ্টা করেন যা খুবই গর্হিত কাজ। কেউ দাড়ি রেখে আর পাঞ্জাবী পরে কোন অপকর্ম করলে তার দায় ইসলাম নিতে পারে না। দাড়ি আর পাঞ্জাবী যদি জঙ্গি চেনার উপায় হয় তাহলে কবি নির্মলেন্দু গুণ, আজকের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তকে কি বলে ডাকবেন? এদেরতো দাড়ি আছে, মাঝে মাঝে পাঞ্জাবীও পরেন। অমানবিক এমন অন্যায় আর অবিচারের শিক্ষা কখনো ইসলাম দেয়নি আর ভবিষ্যতে দিবেও না। কিছু লোক আছেন যারা জামায়াত বা ইসলামী নামধারী সংগঠনের উপর দোষ চাপিয়ে পরিকল্পিতভাবে ইসলামের মূল্যবোধকে আঘাত করতে চান। সেজন্যে সবার সজাগ থাকা জরুরী। দুপক্ষই ধর্ম দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। ইসলামের শালীন ও নৈতিক চর্চা কোনকালেই প্রগতির বাঁধা হয়নি। বরং সমাজে চালু হওয়া অশালীন ও অনৈতিক চর্চাই আজকের বখাটেপনার উৎস।
আল্লাহর কাছে দোয়া করি জাফর স্যার যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।
Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

সুষ্ঠু ভোট আদায় করব, শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব: ড. কামাল

photo সিলেট প্রতিনিধি: জাতীয় ঐকফ্রন্টের শীর্ষনেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার লক্ষ্যই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। কিন্তু প্রতিদিনই আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আলামত নয়। আর সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে জনগণের মালিকানা থাকে না। আর জনগণের মালিকানা না থাকলে স্বাধীনতা থাকে না। তিনি বলেন, আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকব। সুষ্ঠু নির্বাচন

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment