আজ : ০৮:৪১, এপ্রিল ২২ , ২০১৮, ৯ বৈশাখ, ১৪২৫
শিরোনাম :

স্বাধীনতা যুদ্ধ তো ছিল সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের!


আপডেট:১২:৪১, ডিসেম্বর ১৪ , ২০১৭
photo

রোমান বখত চৌধুরীঃ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে যারা বাংলাদেশ এনে দিলো আমরা তাদের দাম দেইনা, দাম দেই যারা সেই পৈশাচিক ও নিষ্ঠুর সময়ে পাকিস্তান সরকারের বেতনে খেয়ে দেয়ে আরামেই ছিলেন। এদের অনেকেই যুদ্ধে যাননি তখন। বস্তুত এই বুদ্ধিবৃত্তির আসল খেলাটাই ছিল তখন কিন্তু মাঠে, ময়দানে আর যুদ্ধে।

আমার মনে হয় যারা যেভাবেই তখন পাকিস্তানী স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন তারা সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এমনকি যে মহিলা, বৃদ্ধ ও শিশু কিছু করতে না পেরে পাকিস্তানী পিশাচদের মুখে ঘৃণার থু থু ছিটিয়েছেন, তিনিও। রাস্তার পাগলটাকেও উপরে স্থান দিবো যে পাগল মৃত্যুকে নিশ্চিত জেনেও দেশমাতৃকা রক্ষায় যুদ্ধে যোগ দিয়ে রক্ত দিয়েছিল, দিয়েছিলো প্রাণও। কিন্তু তাদেরকে নয় যারা বুদ্ধির জোরে চালাকি করে, দেশের তীব্র প্রয়োজনকে হীন জ্ঞান করেছে তখন। খেয়েছেন, পরেছেন আর থেকেছেন নাদুস নুদুস। আসলে কিছু না করেও নায়ক বনা যায় বুদ্ধির জোরে, কিন্তু বীর বনতে হলে বুদ্ধি, সাহস, উদারতা আর উৎসর্গের মানসিকতা থাকতে হয়।
আসলে বুদ্ধিজীবী শব্দটাই কেমন যেন বিদঘুটে। এটি আর দশটি জীবিকা নির্বাহের উপায় বলেই মনে হয়।সাম্প্রতিককালে বুদ্ধির বিশেষ ব্যবহারে পেশাটিকে পতিতাবৃত্তির সমার্থক রূপে হাজির করেছেন অনেকেই। ইংরেজি ইন্টেলেকচুয়াল এর বাংলা প্রতিশব্দ বোধয় এবার অন্যকিছু ভাবার সময় এসেছে। কোন কাজই বুদ্ধি ছাড়া করা যায় না যা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বুদ্ধিজীবী শব্দটি দ্বারা 'এলিটিজম' ( অভিজাততন্ত্র) বা ঘৃণ্য শ্রেণী বৈষম্যের বিস্তৃতি ছাড়া মহান কিছু রচনা করেনা। স্বাধীনতার মত এমন উদার ও উৎসর্গের পুণ্যকর্মে বৈষম্য ও বিভক্তির ধারক, এই এলিটিজম একটি মোটাদাগের কলঙ্ক।
মৃত্যুকে নিশ্চিত জেনে যে যুদ্ধে গিয়েছিল তার উপরে আর কারোরই স্থান হতে পারে না তা তিনি যত বড় বুদ্ধি আর জ্ঞানের অধিকারীই হন না কেন। জাতি যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হওয়া আর ময়দান থেকে ফিরে আসা গাজীদের যেদিন সাবার আগে সম্মান দিতে পারবে, সেদিন স্বাধীনতার লাল সূর্যটি তাঁর সোনালী আলোয় ভরে তুলবে বাংলাদেশকে।
বুদ্ধিজীবী দিবস বলে কিছু রাখাকে স্বাধীনতায় অন্যদের সরাসরি অবদানকে অস্বীকার করারই নামান্তর। স্বাধীনতায় অনেক বিশেষ বাহিনীর বিশেষ অবদান রয়েছে, কই তাদের নিয়ে তো আলাদা কোন দিবস নেই! এটি শ্রেণী বৈষম্যের একটি কদাকার দিক উন্মোচিত করে। কিন্তু সেই যুদ্ধ তো ছিল সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের। আর বুদ্ধিজীবী নামধারীদের অনেকের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের প্রশাসনকে কন্টিনিউ করতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি এরকম যেন, রাস্তায় আপনার সম্ভ্রম রক্ষায় জীবন বাজি রেখে যে রিক্সা ড্রাইভার সাহায্য করেছিল, তাঁর অবদানকে নীচে রেখে, কাছেই থাকা পণ্ডিত ও স্মার্ট সাংবাদিককে, যিনি সাহায্যের বদলে ঘটনার ছবি তুলেছিলেন, তাকে অতি মর্যাদা দেয়া।
সেই বুদ্ধি বা জ্ঞানের কোনই মুল্য নেই যা সময়ের প্রয়োজনে ব্যবহার হয় না। জাতির সূর্য সন্তান তারাই যারা রক্তের বিনিময়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ ও গাজীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

লেখকঃ সাংবাদিক।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

হোয়াইট চ্যাপেল ওয়ার্ডেের এস্পায়ার কাউন্সিলার প্রার্থীদের সমর্থনে মেগা ক্যাম্পেইন

photo সৈয়দা ইশরাত কুইন: টাওয়ার হ্যামলেটস এর হোয়াইট চ্যাপেল ওয়ার্ডের 'এস্পায়ার পার্টি'র কাউন্সিলার পদপ্রার্থী সৈয়দা ইশরাত কুইন, সৈয়দ সফর আলী ও দিপু জায়গিরদার এর সমর্থনে ২১ এপ্রিল শনিবার এক মেগা কেম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। পুর্ব লন্ডনের বার্নার ক্লাবের সম্মুখে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত হন এবং সেখান থেকে এই ক্যাম্পেইনের শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান, এস্পায়ারের

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment