আজ : ০৫:২৯, নভেম্বর ২২ , ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

ইউনিভার্সেল ক্রেডিট:চ্যালেঞ্জের মুখে টাওয়ার হ্যামলেটসের পরিবারগুলো


আপডেট:০৮:৪৮, অক্টোবর ৩০ , ২০১৯
photo

লন্ডনবিডিনিউজ২৪ : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে পরিচালিত নতুন এক গবেষনায় দেখা গেছে যে, ছোট ছোট বাচ্চা আছে এমন অভিভাবকরা ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তর হওয়ার পর তাদের উপোস থাকতে হয়েছে এবং পর্যাপ্ত গরম বা হিটিং ছাড়াই শীতকাল কাটাতে হয়েছে। চাইল্ড প্রোভার্টি এ্যাকশন গ্রুপ কর্তৃক তৈরীকৃত কাউন্সিলের এই গবেষনা প্রতিবেদনে সর্বশেষ বেনিফিট সংস্কারের সাথে জড়িত লন্ডনের অন্যতম সুবিধাবঞ্চিত বারার পরিবারগুলো এবং তাদেরকে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

এই রিপোর্টে যে সমস্যাগুলোকে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়, তার মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর বিভ্রান্তি, প্রাপ্ত সুবিধাদি নতুন ব্যবস্থায় স্থানান্তরে বিলম্ব, জটিল অনলাইন ফরম, ভুল হিসাব অনুযায়ি কিংবা অপ্রত্যাশিতভাবে অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেয়া ইত্যাদি।

'কর্মে প্রত্যাবর্তনকে উৎসাহিত করা' - ইউনিভার্সেল ক্রেডিট এর এই মূল লক্ষ্য কাজ করছে কি না তা নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়।

এই গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্যকালে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র জন বিগস বলেন, ইউনিভার্সেল ক্রেডিট সিস্টেমে সম্পূর্ণরূপে স্থানান্তরিত প্রথম বারাগুলোর একটি হচ্ছি আমরা। এই স্থানান্তর আমাদের বাসিন্দাদের জন্য যে গুরুতর চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে, সেসম্পর্কে আমরা ভালোই অবগত আছি।

তিনি বলেন, এজন্য আমি ৬.৬ মিলিয়ন পাউন্ডের দারিদ্র বিমোচন তহবিল গঠন করি, যার মধ্যে রয়েছে ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ তাদের জন্য যারা ইউনিভার্সেল ক্রেডিট সিস্টেমে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে জরুরীভাবে পরামর্শ ও সহায়তা দরকার।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে কার্যকর পন্থায় আমরা যাতে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারি, যা বারার অসহায় বাসিন্দাদের জীবন মান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমাদের অঙ্গিকার বাস্তবায়নে এই প্রতিবেদনটি আমাদের সাহায্য করবে।

চাইল্ড পোভার্টি এ্যাকশন গ্রুপের গবেষকরা ২০১৮ সালের অক্টোবর থৈকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়কালে বেনিফিট আবেদনকারী ও তাদের সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর সাথে দেখা করেন। এসময় তারা দেখতে পান যে, ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তর হওয়াটা বেনিফিট দাবিদারদের জন্য অনেক ঝামেলাপূর্ণ। কখন, কোথায়, কিভাবে কি ক্লেম বা দাবি করতে হবে, তা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার হন এবং একারণেই অনেকেই ট্রান্সিশন বা স্থানান্তর হওয়ার সময়কালে কোনরূপ অর্থ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। পেমেন্ট বা অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা সম্পর্কে রিপোর্ট করা হয়। কিছু কিছু পরিবারের আর্থিক সহায়তার পরিমান অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন হয় এবং প্রায়শই হিসাবে গরমিল বা অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা ঘটে।

বেনিফিট দাবিদাররা, যারা সাধারণত কাজ করতেন, তারা দেখতে পেলেন যে তাদের কর্মঘন্টা বাড়ানোর প্রণোদনা কার্যকর নয়। কারো উপার্জন বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই তার ইউনিভার্সেল ক্রেডিট হ্রাস পেয়েছে, তাই ক্লেমেইন্টরা প্রায়শই অনুভব করছিলেন যে আরও বেশি কাজ করে তাদের আয় বৃদ্ধি করা কঠিন। অনেক দাবিদারই পরিস্থিতির সাথে লড়াই করছেন এবং অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। বিল বকেয়া হয়ে পড়ছিলো। দাবি করার পর ৫ সপ্তাহ অপেক্ষা করার কারণে তা আরো বেড়েছে। কারো কারো ক্ষেত্রে বন্ধু বা পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নিতে হয়েছে, অথবা ক্রেডিট কার্ড বা ঋন নিতে হয়েছে।

একটি পরিবারের সাক্ষাতকার নেয়ার সময় দেখা গেছে ঐ পরিবারের ছোট বাচ্চা থাকা সত্বেও তারা মাত্র একটি রুমকে গরম রাখতে সক্ষম হয়েছিলো। বেনিফিট ক্লেইম বা দাবিদারদের তাদের বাচ্চাদের জন্য লক্ষ্যনীয় ত্যাগ স্বীকার করতে দেখা গেছে।

একটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের অনেক দিন অভূক্ত থাকতে হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন যে, তাদের বাচ্চারা জীবনের সুযোগগুলো হারিয়ে ফেলছে। একজন মা জানান, তার বাচ্চারা স্থানিয় পার্ক ছাড়া গ্রীষ্মের ছুটিতে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেনা, এজন্য তিনি অপরাধ বোধে ভুগেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র এবং কেবিনেট মেম্বার ফর ট্যাকলিং পোভার্টি, কাউন্সিল রাচেল ব্লেইক বলেন, ইউনিভার্সেল ক্রেডিট কার্যকর করার পর পরিবারগুলো, বিশেষ করে যাদের ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে, তারা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, সেটা এই প্রতিবেদনে ফুটে ওঠেছে। আমাদের বরার সবচেয়ে অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণদের সমর্থন করার জন্য আমরা যে ব্যবস্থাদি রেখেছি তা নিয়ে আমি গর্বিত। তবে, এই গবেষনা প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আমাদেরকে অবশ্যই এর সুপারিশগুলোকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে এবং আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে দ্বিগুণ করতে হবে বা যেখানে প্রয়োজন সেখানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সামঞ্জস্য করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা এই পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা শোনার জন্য সরকারের কাছে তদবির চালিয়ে যাবো এবং এই একই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অন্যদের বাঁচাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।

চাইল্ড পোভার্টি এ্যাকশন গ্রুপের চীফ এক্সিকিউটিভ, এলিসন গ্র্যানহাম বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে এমন একটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত যা দারিদ্র্যতার হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করবে এবং ভালো সম্ভাবনাগুলোর সুবিধা লাভে তাদেরকে সাহায্য করবে। কিন্তু এই গবেষণায় দেখ যাচ্ছে যে, ইউনিভার্সেল ক্রেডিট সিস্টেম এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে সক্ষম হচ্ছে না। অনেক বেনিফিট দাবিদারের কাছেই জীবন ধারনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিলো না। বিশেষ করে প্রথম পেমেন্ট লাভের ক্ষেত্রে ৫ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হওয়ায় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন দাবিদাররা। এর মারাত্মক প্রভাব তাদের বাচ্চাদের ওপর পড়ে থাকে।

তিনি বলেন, ইউনিভার্সেল ক্রেডিট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো তদন্ত ও মোকাবেলা করতে টাওয়ার হ্যামলেটসের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছি এবং আমরা আশা করি এই প্রতিবেদনটি এই বারার বেনিফিট দাবিদারদের জন্য আরো ভালো অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকে পরিচালিত হবে। ইউনিভার্সেল ক্রেডিট তার উদ্দেশ্য পূরণে যথাযথভাবে সক্ষম হচ্ছে - এটা মন্ত্রিরা প্রমাণ না করা পর্যন্ত জাতীয়ভাবে ইউনিভার্সেল ক্রেডিট অবশ্য বন্ধ হওয়া উচিত।



সাম্প্রতিক খবর

সমরখন্দের সৌন্দর্যে বিমোহিত ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকরা

photo তূর্কি মেয়ের একটি তিলের বিনিময়ে মহাকবি হাফিজ যে দুই নগরী দিতে চেয়েছিলেন, তার একটি সমরখন্দের সৌন্দর্য আর স্থাপত্যশিল্প দেখে বিমোহিত হয়েছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকরা। বর্তমানে উজবেকিস্থান সফররত ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকরা বুধবার সারাদিন সমরখন্দ ও তার আশেপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। সাপ্তাহিক জনমত এর প্রধান সম্পাদক ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment