আজ : ০৩:৫৮, অক্টোবর ২৩ , ২০১৮, ৭ কার্তিক, ১৪২৫
শিরোনাম :

তারেক রহমানের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব কি থাকবে?


আপডেট:১২:৪৭, এপ্রিল ২৬ , ২০১৮
photo

রোমান বখত চৌধুরীঃ সরকারী দলের লোকজনের কথাবার্তায় কেন যেন মনে হচ্ছে, তারেক জিয়ার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়টি পরিষ্কার হলে সরকার প্রয়োজনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন সংস্কার দ্রুত করে নিতে পারে। আর এই সংস্কারটি হতে পারে শুধুমাত্র তারেক রহমানের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্যে। ইতোমধ্যেই নাগরিকত্ব আইন সংস্কার নিয়ে বেশ কাটা ছেড়া চলছে। সেখানে বিদেশে জন্ম নেয়া বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মৌল-নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া আছে।প্রবাসীরা এ নিয়ে আন্দোলন করছেন। সেই সংস্কারে বাংলাদেশের যেসকল নাগরিক আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে নির্যাতনের ভয়ে লুকিয়ে রয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান যুক্ত হয়ে যেতে পারে। গ্রাউন্ড হিসেবে বলা হতে পারে, তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সন্তাসবাদের সাথে জড়িত (বিশেষত জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা), অর্থ পাচারকারি যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি। খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, সরকারের প্রায় সবাই তারেক রহমানকে বাংলাদেশের হুমকি হিসেবেই অধিকহারে প্রচারণা করছেন।

বর্তমান সংসদে সরকারের যে ক্ষমতা তাতে তো বাংলাদেশের পুরো সংবিধান নয় পুরো বাংলাদেশকেই পাল্টে দিতে পারে। ক্ষমতা নিজেরা ধরে রাখতে না পারলে আইন করে অন্য কাউকে দিয়েও দিতে পারে। কারণ সংবিধান সংশোধনের জন্যে পর্যাপ্ত বা বলা যায় পুরো সংসদই আওয়ামীলীগের। বাংলাদেশে আইন পালটিয়ে কারো নাগরিকত্ব বাতিল ( বিশেষত যাদের অন্য দেশের নাগরিকত্ব আছে) করলে যুক্তরাজ্যের তেমন কিছু করার নেই।
এ কাজটি এ জন্যেই করা হবে যে, শেখ হাসিনা জানেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তারেক রহমানকে ব্রিটেন ফেরত দিবেনা মূলত মানবাধিকারের আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে। যদি দেয়াই যেত তাহলে ব্রিটেন বা কানাডা থেকে শেখ মুজিবের খুনিদেরকে অনেক আগেই ফেরত নিতে পারতেন। কারণ শেখ মুজিবের খুনিদের গুরুত্ব তারেক রহমানের চেয়ে অনেক বেশি তা বলাই যায়।

আরেকটি সংবিধান সংশোধনীর অনুমান করছি। জানিনা এটি সম্ভব কিনা। তা হচ্ছে, সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে দশ বছর বাড়িয়ে নেয়া। তবে এটা এবার হয়ত করা হবে না। যদি সরকারী দল জিততে পারে তাহলে আগামী বছর সবকিছু আরও ভালো করে গুছিয়ে পাঁচ বছরের যায়গায় দশ বছর করা হবে। তাতে নির্বাচনের উটকু ঝামেলা থেকে পাঁচ বছর অন্তত পরিত্রান পাওয়া যাবে। আর এভাবে আগামী দশ পনের বছর সরকার চালিয়ে নিতে পারলে বিএনপির সবাই মোটামুটি প্রাণ বাচিয়ে স্বজনদের নিয়ে বেঁচে থাকার জন্যে হলেও আওয়ামীলীগ হয়ে যাবে। বিএনপির নাম গন্ধ তখন থাকার বা রাখার প্রস্ন আসেনা। এসব করতে করতে আওয়ামীলীগ আবার বাকশালি শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারে। যদিও অনেকেই বলে থাকেন বর্তমান গণতন্ত্রের আড়ালে ছায়া বাকশালই চলছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে যে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকার জন্যে আওয়ামীলীগ এই সেদিন অর্থাৎ ১৯৯১ সালে বাকশাল বিলুপ্ত করে। কারো কারো মতে এটি ছিল কৌশলের বিলুপ্তি। বিএনপি তথা বিরোধী দলকে ধ্বংস করে ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করলে কেবল বাকশাল পুনঃপ্রবর্তন করতে পারে বর্তমান শাসক দল। আর তা করতেই বা হবে না কেন, কারণ ওটাই তো ছিল শেখ হাসিনার বাবার আসল স্বপ্ন। দুর্ভাগ্য যে নিজের হাতে বানানো মুশতাকের হাতে এবং সে স্বপ্ন রূপদানের বছরই স্বপ্নদ্রষ্টা নির্মমভাবে নিহত হন।

এ সবই আমার অনুমান। বলা যায় রাজনৈতিক ফিকশন। তা বাস্তবে নাও হতে পারে। বাতাসের বেগ দেখে মেঘ বুঝা যায়, তার ভিত্তিতেই লেখা। এ বিষয়ে এক্সপার্টগণ বিশেষ কিছু বলবেন আশা করছি। তাতে আমি সমৃদ্ধ হবো। আর একটি কথা, বিদেশে আছি বিধায় ফিকশন নিয়ে একটু ফিসফাস করতে পারছি। দেশে থাকলে তো ৫৭ ধারায় আটকে তমাল গাছের ডালে উল্টা করে পা বেঁধে ৭৫ এর নির্মমতা দেখিয়ে দিতো। এখানে একটি কো-ইন্সিডেন্স হল, ৫৭ সংখ্যা পরস্পর স্থান পরিবর্তন করালে কিন্তু ৭৫ হয়। এটি আমার কথা নয়। বর্তমান সময়ের বিখ্যাত রাজনৈতিক (সেট্যায়ার) কবি আখতারুজ্জামানের। তার কাঁটা ভরা সুলিখিত ও সুপাঠ্য কবিতাটি, পরে একবার আমার ওয়ালে পোস্ট করবো ভাবছি।

মধ্যযুগ বলতে কিছু নেই। নিষ্ঠুরতা আর অমানবিকতা যেখানে আজও চলমান, সেটাই মধ্যযুগ। ড্রাকনিয়ানরা সেখানেই বাস করেন।

লেখকঃ লন্ডনবিডিনিউজ২৪.কমের ম্যানেজিং এডিটর।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

ব্রেক্সিট চুক্তির ৯৫ শতাংশই প্রস্তুত: থেরেসা মে

photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মনে করেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তির ৯৫ শতাংশ শর্তই চূড়ান্ত করা গেছে। আর চুক্তির চূড়ান্ত হওয়া না হওয়াটা তার নিজের ভবিষ্যৎ নয় বরং যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। এসব কথা তিনি সোমবার হাউজ অব কমন্সে দেওয়া ভাষণে উল্লেখ করবেন। হাউজ অব কমন্সের জন্য নির্ধারিত ভাষণের বক্তব্য আগাম প্রকাশের বিষয়টিকে ‘বিরল’

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment