আজ : ১২:১৭, অক্টোবর ১৬ , ২০১৮, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫
শিরোনাম :

প্রমাণ হয়েছে খালেদা জিয়া কেন বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে চান না: রিজভী ‌


'শিক্ষার্থীদের ওপর এখন র‌্যাব-পুলিশের ক্র্যাক-ডাউন চলছে’

আপডেট:১০:১২, অগাস্ট ৯ , ২০১৮
photo

ঢাকা সংবাদদাতা: আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেছে দীর্ঘ ৬ মাস যাবত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর ‘অসুস্থ’ হওয়ার পরও কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে চান না। এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় কোনো আস্থা নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সহিংস অপকর্ম ঢাকতে এবং প্রতারণা আড়াল করতে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন অত্যুগ্র মাত্রায় উপনীত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এই নির্দেশ প্রত্যাহার চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এদিন (৮ আগস্ট) সকালে তাকে হাসপাতলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। পরে শহিদুল আলমকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো কোনও অবস্থা হয়নি জানিয়ে তাকে বিকেলেই ফেরত পাঠিয়ে দেয় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তাকে ফের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী এই ঘটনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘নির্যাতিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে উচ্চ আদালত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ সরকারের হুকুমে তাকে ভর্তি নেয়নি। এরা কতটা নিষ্ঠুর যে, একজন নির্যাতনে অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালেত আপিল করেছেন, যেন শহিদুল আলম হাসপাতালে সুচিকিৎসা না পান। এই ঘটনায় আবারও কি প্রমাণ করার দরকার আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারি এই পিজি হাসপাতালে সুচিকিৎসা পাবেন?

‌'শিক্ষার্থীদের ওপর এখন র‌্যাব-পুলিশের ক্র্যাক-ডাউন চলছে’
তিনি বলেছেন, ‘দলীয় পান্ডাদের দিয়ে শিশু-কিশোরদের রক্ত নিঙড়ে নেয়ার পরেও ক্ষান্ত হয়নি সরকার। এখন চলছে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে বর্বর ক্র্যাক-ডাউন। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ১৮ থানায় ৩৫টি মামলা দেয়া হয়েছে, যে মামলায় অজ্ঞাতনামা হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের জড়িত করা হবে এবং ইতিমধ্যে ৪৫ জনকে আটকের কথা পুলিশ স্বীকার করেছে এবং ২২ জন রিমান্ডে আছে। নিরপরাধ এসব শিক্ষার্থীদের আটক করার পর কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করা হচ্ছে। গতকাল সারাদেশ জুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হানাদারি অভিযানে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই অভিযান সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এক নির্মম আগ্রাসন।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী স্কুল-কলেজের পড়ূয়াদের অভিভাবকরা অজানা আতঙ্কে উৎকন্ঠিত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারের ক্রোধের আগুনে পড়া পড়ূয়া সন্তানদের ওপর কি বিভীষিকা নেমে আসবে তা নিয়ে শিহরিত হয়ে উঠেছে অভিভাবকরা। গতকাল বসুন্ধরাসহ ঢাকা মহানগরীতে হাজার হাজার সরকারিবাহিনীর সদস্যরা চিরুনী অভিযান চালিয়েছে। অরাজনৈতিক কিশোর-কিশোরী ছাত্র-ছাত্রীদের এই ন্যায্য আন্দোলনকে দমানোর জন্যই পুলিশ রাতভর সমগ্র বসুন্ধরা এলাকা আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে।’

সরকার এখন প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, সামাজিক অগ্রগতি ও সভ্যতার শত্র“ বর্তমান একদলীয় আওয়ামী সরকার। এরা মানসীক বৈকল্যগ্রস্থ, ক্ষমতায় থাকার জন্য শিশু-কিশোরদের রক্ত ঝরাতেও দ্বিধা করেনি। শিশু-কিশোরদের জেগে ওঠাতে ভয় পেয়েছে সরকার। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন প্রচলিত আন্দোলন নয়, এটি ভিন্ন ধারার প্রতিবাদের এক অনন্য স্বতন্ত্র রুপ। সরকার এখন প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। সরকারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় সবাই বলেছেন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি ন্যায় সঙ্গত। তাহলে এখন তাদের ওপর এই সহিংসতা কেন? প্রশ্ন রিজভীর।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিডিয়া, উন্নয়ন সহযোগী দেশ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের এই সশস্ত্র হামলাকে সহিংস হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ছাত্রলীগ আন্তর্জাতিকভাবে টেরোরিস্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের সাহেবরা সেই ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বাঁচাতেই হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়ে তামাশা করছেন। তাদের বাঁচানোর পাঁয়তারা করছেন। কিন্তু এরা রেহাই পাবে না।’



সাম্প্রতিক খবর

প্রত্যেকটা উৎসবে সবাই ভাই বোনের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা উদযাপন করে যাই: প্রধানমন্ত্রী

photo ঢাকা সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্থ করে বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে জমি নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। ইতোমধ্যেই সেই সমস্যাটা আমরা সমাধান করে ফেলেছি। বাকী কাজটা আপনাদের ওপরই নির্ভরশীল।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment