আজ : ১২:১৪, ফেব্রুয়ারি ২৫ , ২০১৮, ১২ ফাল্গুন, ১৪২৪
শিরোনাম :

খালেদা জিয়াকে জেলের ভিতর মেরে ফেলা কিন্তু অমুলক নয় এমন নষ্ট রাজনীতিতে


আপডেট:১০:০২, ফেব্রুয়ারি ৮ , ২০১৮
photo

রোমান বখত চৌধুরীঃ নাজিমুদ্দিন রোডের একেবারে বিচ্ছিন্ন কারাগারে খালেদা জিয়ার কারাবা্স নিয়ে মাথায় একটা খারাপ সন্ধেহ উঁকি দিচ্ছে। তা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে মেরে ফেলা হতে পারে! যদি তা সম্ভব না হয়, তবে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটানো হবে হয়তো। উদ্দেশ্য বিএনপি পরিবারকে ফিনিশ করে দেয়া। এই সরকারের আমলে মাত্র কিছুদিন হয়, যেভাবে নাসির উদ্দিন পিনটুকে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছিলো সেভাবে। কার্যত পিন্টুকে মেরেই ফেলা হয়েছিলো যা পরিবারসহ অনেকের দৃঢ় সন্ধেহ। খালেদা জিয়াকে এমন করা অমুলক নয় শেখ হাসিনার হিংসার রাজনীতি যে গতিতে এগুচ্ছে। কারাগারে খালেদাকে একা ও ফাঁসির আসামীর মতো রাখা হয়েছে শুনেছি। কারণ বেশি মানুষ জনের পাশে রাখলে দুরভিসন্ধি ফাঁস হয়ে যেতে পারে। ওদিকে ফরমায়েশি ডাক্তাররা তো ভিসেরা রিপোর্ট বানিয়ে রেডিই আছেন।

তারপর তারেক জিয়ার পালা। রায় তো ইতোমধ্যেই কয়েকটা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফেরারি আসামী। দেশে গেলেই জেলে। তারপর মায়ের পথ ধরেই পরপারে যাত্রা। তখন বিএনপি পরিবার একেবারে খতম। আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে তখন সবচেয়ে বড় সাফল্য ধরা দেবে। এবার ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা টাইপের কিছু নেতা খোঁজা হবে। পেলেই বগলদাবা। ছিন্ন ভিন্ন বিএনপি তখন নাচের পুতুল হয়ে পড়বে। তখন বেহায়া এরশাদকে ছুটি দেয়া যাবে। সংসদে সবাই সমস্বরে বলে, 'এতিমের টাকা মেরে খেলে এভাবেই খতম হতে হয়। যাও, পরপারে বিধাতার কাছে বিচার দেও। চিন্তা নেই, আমরা নথিপত্র নিয়েই হাজির হব ইনশা আল্লাহ।'
খালেদা জিয়ার অনেক দোষ থাকতে পারে। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অনেক সন্ধেহ উঁকি দিতে পারে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাহসী ভুমিকা রেখে গনতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এই আপোষহীন আখ্যা পাওয়া নেত্রী। তিনি শেখ হাসিনার মতো আপোষ করেন নি ৮৬ সালে এরশাদের সাথে নির্বাচনে যেয়ে। বাংলাদেশে যে দুবার গণতন্ত্রের সুবাতাস বইয়েছেন এই খালেদা জিয়া আর তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার চেতনাধারী আওয়ামী পরিবার কিন্তু এর উল্টোটায় থেকেছেন সব সময়।
নষ্ট রাজনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে এরকম ট্র্যাজেডি আশা করা অমুলক নয়। অতীতে এরকম অনেক উদাহরণ আছে। সবাই বলে থাকেন, কাজী নজরুল ইসলামকে জেলে রেখে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটানো হয়েছিলো ভারতীয় জাতীয়তাবাদ আন্দোলন থামানোর জন্য। ইয়াসির আরাফাতের ঘটনাও এরকমই কিন্তু।
বাংলাদেশের পরিধি জুড়ে আজ হায়েনাদের আধিপত্য। এখানে আজ নিজের প্রাণ সমর্পণ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। আপনার দেহ ও আত্মা যে কারো প্রবৃদ্ধির পুঁজি। গদি টিকানোর মূলমন্ত্র। মেকি গণতন্ত্রের চেতনা।
আইন অমান্য করলে যে কেউ শাস্তি ভোগ করতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীই হন না কেন। সমাজে এর দৃষ্টান্ত রচিত হোক, আমরা চাই। তবে শাস্তির নামে বাংলাদেশে বিরোধী দলের উপর এখন যা হচ্ছে তা জুলুম। এর পাল্টাটিরও প্রত্যাশায় থাকতে হবে কিন্তু। অতি তরঙ্গ নদী বহেনা চিরকাল। আর এসবের মাঝখানে জনগণ নাকাল। প্রাণ বাচাতে দেখেও না দেখার ভান করতে হবে যে।
হিংসা দিয়ে কাউকে জয় করা যায় না। শক্তি দিয়ে কাউকে দাবিয়ে রাখা যায় না। যেমন পাকিস্তান পারেনি সামরিক শক্তি দিয়ে। তেমনি শেখ মুজিবুর রহমানও পারেননি বাকশাল কায়েমের করে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ঐ পরিনতি ভোগ করতে হবে সবাইকে।
সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।
( বিঃ দ্রঃ রাজনীতিতে কোন একটি দল বা মতকে আমি বিশ্বাস করি। এটি আমার অধিকার। সাথে অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করি। তবে নোংরা রাজনীতির খ্যামটা নাচ আমি নাচি না।)
Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

দেশজুড়ে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি সোমবার

photo ঢাকা প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে বাধা এবং পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।আগামী সোমবার রাজধানী ঢাকার সব থানা এবং জেলা ও মহানগরে এই কর্মসূচিপালিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার বিকালে নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment