আজ : ০৯:২২, জুন ২২ , ২০১৮, ৮ আষাঢ়, ১৪২৫
শিরোনাম :

গরু ও প্রকৃতির প্রতিশোধ !


আপডেট:০৭:০৭, অগাস্ট ৯ , ২০১৭
photo

মোহাম্মদ এ আজিজঃ গ্রাম-বাংলায় গরুর অপরিসীম গুরুত্বের কথা আমাদের সবারই কম বেশী জানা আছে । আমরা এও জানি গরু একটি নিরামিষভোজী প্রাণী । মানবকল্যাণে গরুর অনেক অবদান রয়েছে । হাল-চাষ থেকে শুরু করে মনুষ্যজাতীর আহারের উপকরণ বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানোর জন্য হাড়ভাঙ্গা খাটুনি, বাহন হিসাবে ব্যবহার করা হয় । তাছাড়াও পুষ্টিজনক খাদ্য যথা মাংস, দুধ, দধি, মাখন, ঘি, সহ কোরবানী এবং বিয়ে-সাদী, মেঝবানী এমন কি এদেরকে বদ করার পরে তাদের চামড়া, হাড়-মাংস সবকিছুই মানবকল্যাণে ব্যবহার করা হয় । শুধু তাই নয় গরুর বৈর্জ্যও মানবকল্যাণে জ্বালানি ও জৈব সার হিসাবে ব্যবহৃত হয় । কিন্তু আমরা মনুষ্যজাতী সৃষ্ঠির সেরা জীব হয়েও আমাদের মুনাফার জন্য গরুকে আমিষ জাতীয় খাদ্য খাওয়াতে গিয়ে গরুর শরীরে নানা প্রকার মরনব্যাধী সৃষ্টি করে থাকি । ফলে অনেক দেশে গরুর মাংস খাওয়া মানুষের জীবনের জন্য বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছিল এবং এখনো আছে । আমিষভোজী গরুর মাংস খেয়ে ইউরুপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া সহ বহু দেশে মানুষের মানসিক ও দৈহিক রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে । মোনাফা লোভী মনুষ্য জাতীর উপর এটা হয়তো বা মেডকাউ জীবানুর মাধ্যমে প্রকৃতির এক ধরনের প্রতিশোধ । যথাসময়ে প্রতিসেধক ঔষধ উদ্ভাবনের অভাবে লক্ষ লক্ষ গরুকে নির্মম ভাবে হত্যা করে অনলে ভস্ফ করা হয়েছে এবং গর্তে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে । অপরদিকে অতি মুনাফার লোভে হাঁস, মোরগ, ছাগল, ভেড়া এমনকি মাছের ফলনেও আমিষজাতীয় খাবার এবং বিষাক্ত রাসায়নিক বৈর্জ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বার্ডফ্লু সৃষ্টি করে কোটি কোটি নিরীহ প্রাণীকে বদ করা হয়েছে । পৃথিবীর দেশে দেশে মোনাফার লোভে স্হাপন করা ডায়রী ফার্ম ও পল্ট্রি ব্যবসায়ীকে সর্বশান্ত করা হয়েছে ।

অপরদিকে নদী মার্তৃক দেশ বাংলাদেশের নদীগুলি থেকে প্রভাবশালীরা অবিরত বালু উত্তোলন করে এবং রাসায়নিক বৈর্জ্য ফেলে নদীর জল বিষাক্ত করে জলজ প্রাণীকে ধ্বংস করে চলেছে । সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে প্রভাবশালীরা নদীর তীর জবরদখল করে অপরিকল্পিত ভাবে স্হাপনা নির্মানের মাধ্যমে নদীর শ্রুত ধারায় বাধা সৃষ্টি করার ফলে নদীকে বন্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবেশ তৈরী করা হয়েছে । অপরদিকে গ্রাম-গন্জে, শহরে বন্দরে খাল-বিল,ঝিল অবৈধভাবে জবর দখল করে অপরিকল্পিত ভাবে ঘর-বাড়ী, কল-কারখানা স্হাপন করার ফলে বৃষ্টি হলেই শহরবাসী জলবন্দী হয়ে পরে । রাসায়নিকযুক্ত বিষাক্ত পানির কারনে পরিবেশ ও গণস্ব্যাস্হ্য মারাত্মক ভাবে হুমকীর সম্মুখীন । শুধূ তাই নয় পশু-পাখির অভয়ারণ্য যে সুন্দরবন নিজের বুক পেতে সিডর, আয়েলা ও নির্গিসের মত ভয়াবহ সাইক্লোন, টর্নেডোর মরন ছোবল থেকে বাংলাদেশকে ও জনগোষ্ঠিকে রক্ষা করে বিদ্যুতায়নের নামে সাম্প্রসারনবাদী শক্তি তথা পুজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে প্রভাবশালীরা বনাঞ্চল ধ্বংসের চক্রান্তে মেতে উঠেছে । ইতিমধ্যেই পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের এদেশীয় এজেন্টরা গণমানুষের পরিবহন রেলওয়ে ও বিআরটিসির কোচ পরিবহন ব্যবস্হাকে সুপরিকল্পিত ভাবে ধ্বংস করেছে । কালো টাকার মালিকদের স্বার্থে কোটি কোটি টাকার শিততাপ নিয়ন্ত্রিত বিলাশ বহুল কোচ এবং মার্সিডিজ, বিএম,ডব্লিউ কার সহ সীমাহীন পরিমান যানবাহনের অনুমতি দিয়ে যনযাট সৃষ্টির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে । গণমানুষের অভিশাপ এ রেলের কান্নার প্রতিক্রীয়ার ফসল হলো প্রতিদিন সড়ক দূর্ঘটনায় শত শত গরীব অসহায় মানুষের অকাল মৃত্যু । অপরিকল্পিত ভাবে নির্মিত শিল্পস্হাপনা এবং সীমাহীন মটর গাড়ী থেকে নির্গত বিশাক্ত রাসায়নিক ধোয়া গণস্ব্যাস্হ্য ধ্বংস করার কারন শুধুই পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদীদের এবং তাদের এদেশীয় এজেন্টদের কল্যাণে । সুন্দরবন ধ্বংসের মহা-পরিকল্পনা গ্রহন সহ পরিবেশ দূষন ও পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়েছে এদেরই বদৌলতে ।

মূলতঃ এসবই হচ্ছে পুজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাদের এজেন্টদেরকে দিয়ে আমাদের দেশ সহ তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে অবৈধ সরকার সমূহকে ঋণ, দান, অনুদান দিয়ে ও এনজিওর মাধ্যমে লুন্ঠন করার সদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অংশ । এদের আশ্রয়, পশ্রয় ও মদতে শাসক গোষ্ঠী এবং তাদের দলীয় ক্যাডারগণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ, ব্যাঙ্ক, শেয়ার মার্কেট সহ উন্নয়নের নামে বরাদ্ধকৃত হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে । তাদেরই মদদে খাল, বিল, নদী-নালা, হাওর, অবৈধ ভাবে দখল এবং বনাঞ্চল ধ্বংস করার মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্য্যয় করে চলেছে । তাদের সকল গণবিরোধী কাজ ও অন্যায়ের বিরোদ্ধবাদীদেরকে গুম, হত্যা, নির্য্যাতন, নিপীড়ণ, জেল-জুলুম করে স্তব্দ্ধ করা হচ্ছে । ফলে দেশের আইন শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ধ্বংসের দাড় প্রান্তে উপনীত হয়ে নো টার্নিং পয়েন্টের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । ভবিষ্যত পরিস্হিতি আরো সংকটজনক ও ভয়াবহ রুপ নিবে এতে কোন সন্দেহ নাই । নিরামিষভোজী গরুকে কৌশল বা জোর করে আমিষভোজী করার কারনে প্রাকৃতিক ভাবে গরু যে ধরনের প্রতিশোধ নিয়েছিল আমাদের দেশেও এমন মর্মান্তিক ঘটনার উদ্ভব হউক বা পরিবেশের বিপর্য্যয় ঘটুক তা কোন দেশপ্রেমীকেরই কাম্য হতে পারে না। তবে বর্তমান অবস্হা থেকে উত্তরনের জন্য এবং গণতন্ত্র পূনঃরুদ্ধার সহ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংগ্রামকে দ্রুত সংগঠিত এবং এগিয়ে নেওয়া ছাড়া কোন বিকল্প পথ নেই ।

( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

যুক্তরাজ্যে আইএসের নারী-হামলার পরিকল্পনাকারীরা কারাগারে

photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী-হামলার পরিকল্পনাকারী সব নারীকে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। মূল পরিকল্পনাকারী রিজলাইন বৌলারকে ন্যূনতম ১৬ বছর কারাভোগের নিমিত্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আরেকজন মরক্কো বংশোদ্ভূত রিজলাইন বৌলারের মা মিনা ডিচ। তাকে ছয় বছর ৯ মাস কারাদণ্ড এবং পাঁচ বছর নজরদারিতে রাখার সাজা

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment