আজ : ০৫:০৬, জুন ৪ , ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
শিরোনাম :

" আত্মানং বিদ্ধি "!


আপডেট:১১:২৭, অগাস্ট ৩ , ২০১৭
photo

মোহাম্মেদ এ আজীজঃ সমাজে গণমানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে সঙ্কট ও সমস্যা উপলব্ধি করে তার সমাধানের উপায় খোজে বের সেবা প্রদান করা হচ্ছে সত্যিকারের জনদরদী ও মানবহিতৈষী সমাজকর্মীদের কাজ । আশরাফুল মাকলুকাত সৃষ্টির পর থেকেই নবী পয়গম্বরগণ সত্যের অন্বেষণে, মানবকল্যাণে ও সমাজ বির্নিমানে ভূমিকা রেখেছেন । এদের মাঝে অন্যতম হলেন হজরত ইউসূফ (আঃ) যিনি খাদ্যজাত দ্রব্যের অভাবে সৃষ্ট সামাজিক বিপর্য্য় ও আসন্ন মৃত্যুর হাত থেকে তার গোত্র ও মিসরবাসীকে রক্ষা করেছিলেন । পরবর্তীকালে ফেরাউনের নির্যাতন নিপীড়ন ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে হজরত মূসা (আঃ) তার গোত্রকে রক্ষা করেছিলেন। সামাজিক বির্পযয় ও খাদ্যাভাবজনিত কারনে সমূহ সংঘর্ষ ও মৃত্যুর হাত থেকে আরববাসীকে সাহায্য ও রক্ষার জন্য সর্বশেষ নবী হজরত মোহাম্মদ (দঃ) সামাজিক সংগঠন হিলফুল-ফুজুল গঠন করেছিলেন ।

কালে কালে সারা বিশ্বে সঙ্কটে পতিত মানব জাতিকে রক্ষা করে সমাজ বিনির্মানে যারা ত্রাণকর্তা হিসাবে ভূমিকা ও অবদান রেখেছেন তাদেরকে নবী বা অবতার বলা হয়না বটে , কিন্তু তাঁরাই সমাজকর্মে ও সমাজ বির্নিমানে অবদান রাখার জন্য সমাজে সম্মান বা শ্রদ্ধা পেয়ে গেছেন । তাদেরকে বিভিন্ন উপাধীতে ভূষিত করা হয়েছে এবং এখনো তা বিদ্ধ্যমান রয়েছে । এরই ধারাবাহীকতায় আজো মানবকল্যাণে ও সমাজ বিনির্মানে অবদান রাখার জন্য জ্ঞানী,গুণী, মানবহিতৈষী শান্তিকামী শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তিবর্গকে পৃথিবীর দেশে দেশে বিভিন্ন সম্মানজনক পদে অলংকৃত করা হয় । বিলাতের মহামাণ্য রাণীও প্রতিবছর গুণীজনদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং সমাজ বিনির্মানে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদবীতে ভূষিত করে থাকেন । মর্যাদাপূর্ণ এই সকল পদবী বাংলাদেশীদের মাঝেও বিতরন করেন । যারা এই সকল পদবীতে ভূষিত হয়েছেন তাদের অনেকে পৈত্রিক নামটার মর্যাদা ভারি করে নিজেদেরকে অন্য গ্রহের মানুষ হিসাবে মনে করেন । সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে তাদের বিচরন পরিলক্ষিত হয় । বিভিন্ন সামাজিক বা রাজনৈতিক সভা/সমাবেশে ঐ সকল পদবীধারীদের অনেকেই এমন ভাবটি প্রকাশ করে থাকেন বলে লক্ষ্য করা যায় । নিজেদের অর্জিত সম্মানসূচক পদবীর অপব্যাবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেদের বা তাদের পছন্দনীয় গোত্রের অগণতন্ত্রীক ও অন্যায় আচরনের বিরুদ্ধে ন্যায় সঙ্গত কথা বলেন না বরং অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়কে সমর্থন ও সাহায্য করেন । তাদের গণবিরোধী ও সমাজবিরাধী আচরনে যে মহামান্য রানীর দেওয়া সম্মানজনক পদবীকে অসম্মান করা হয় সে বিষয়টি বিবেচনা করার হিতাহিত জ্ঞানটা পর্যন্ত তারা রাখেন না । এদের রক্তে স্নায়ূতে সচেতন অপরাধ । এহেন পরিস্হিতিতে তাদেরকে আত্মানং বিদ্ধি বা নিজের মনকে পরীক্ষা করার অনুরোধ করবো । একইসাথে সমাজকর্মে যাদের কোন অঙ্গীকার নেই সেই সকল মেকী বা ভন্ড সমাজকর্মীদের সম্পর্কে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল মেধাসম্পন্ন বিবেকবান মানুষ তথা প্রকৃত সমাজ কর্মীদের সতর্ক হওয়া বান্চনীয় ।

লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো ১৯৭১ সালে বর্বর পাকিস্তানীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনেকেই অস্ত্র হাতে বিদ্রোহ করেছিলেন । নিজেদের জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন । তাদের কিছু লোক নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে নিজেদের পছন্দনীয় স্বগোত্রের লোকদের সকল অন্যায়, অগণতান্ত্রিক আচরন ও ভূমিকাকে সমর্থন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করে চলেছেন । মিথ্যার বেশাতি ও অন্যায়ের সমর্থনকারী এই সকল সুবিধাবাদী বর্ণচোরাদের সম্পর্কেও সকল সচেতন মহলের সতর্ক হওয়া উচিত । সমাজকর্মে যাদের কোন অঙ্গীকার নেই, বিশ্বস্ততা নেই, কোন চরিত্র নেই, নেই কোন সত্য-মিথ্যার, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য চেতনা সেই সকল বহুরুপীদের রুপ ও স্বরূপ উম্মোচন করে সমাজকে কলঙ্কমুক্ত ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রকৃত মানবপ্রেমী, জনহিতৈষী সমাজসেবকদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য হয়ে পরেছে । সর্বত্রই সমাজে দূর্বলের উপর জালিমের ও ভন্ডদের জোর, জুলুম চলছেই । মতলববাজ, প্রবন্চক, সুবিধাবাদী তথাকথিত সমাজকর্মীদের ধমনী শিরায় সুবিধাবাদের পাপ । এদের ভন্ডামী থেকে উদ্ধার পাওয়ার উপায় উদ্ভাবন করতে হবে । দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের প্রত্যয় নিয়ে সমাজকর্মে এই ভন্ডদের মুখোশ উন্মোচন করা প্রয়োজন । সমাজকর্মকে দুষ্ট চক্রের কবল থেকে রাহুমুক্ত করাই হউক প্রকৃত জনদরদী, মানবহিতৈষী সমাজকর্মীদের অঙ্গীকার ।

লন্ডনঃ ৩রা আগষ্ট ২০১৭ইং ।

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্দা : প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত

লন্ডনবিড়িনিউজ২৪ঃবিশেষ প্রতিনিধি: গত ৩১শে মে রবিবার ভারচুয়াল মিডিয়া ঝুমের মাধ্যমে লণ্ডনে অনুষ্ঠিত সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের এক জরুরী প্রতিবাদ সভায় সম্প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশী সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর অশালীন মন্তব্য করার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয় ।সভায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি প্রতিবাদ লিপি প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশিষ্ট

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment