আজ : ০৪:৪৪, নভেম্বর ২২ , ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

" আত্মানং বিদ্ধি "!


আপডেট:১১:২৭, অগাস্ট ৩ , ২০১৭
photo

মোহাম্মেদ এ আজীজঃ সমাজে গণমানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে সঙ্কট ও সমস্যা উপলব্ধি করে তার সমাধানের উপায় খোজে বের সেবা প্রদান করা হচ্ছে সত্যিকারের জনদরদী ও মানবহিতৈষী সমাজকর্মীদের কাজ । আশরাফুল মাকলুকাত সৃষ্টির পর থেকেই নবী পয়গম্বরগণ সত্যের অন্বেষণে, মানবকল্যাণে ও সমাজ বির্নিমানে ভূমিকা রেখেছেন । এদের মাঝে অন্যতম হলেন হজরত ইউসূফ (আঃ) যিনি খাদ্যজাত দ্রব্যের অভাবে সৃষ্ট সামাজিক বিপর্য্য় ও আসন্ন মৃত্যুর হাত থেকে তার গোত্র ও মিসরবাসীকে রক্ষা করেছিলেন । পরবর্তীকালে ফেরাউনের নির্যাতন নিপীড়ন ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে হজরত মূসা (আঃ) তার গোত্রকে রক্ষা করেছিলেন। সামাজিক বির্পযয় ও খাদ্যাভাবজনিত কারনে সমূহ সংঘর্ষ ও মৃত্যুর হাত থেকে আরববাসীকে সাহায্য ও রক্ষার জন্য সর্বশেষ নবী হজরত মোহাম্মদ (দঃ) সামাজিক সংগঠন হিলফুল-ফুজুল গঠন করেছিলেন ।

কালে কালে সারা বিশ্বে সঙ্কটে পতিত মানব জাতিকে রক্ষা করে সমাজ বিনির্মানে যারা ত্রাণকর্তা হিসাবে ভূমিকা ও অবদান রেখেছেন তাদেরকে নবী বা অবতার বলা হয়না বটে , কিন্তু তাঁরাই সমাজকর্মে ও সমাজ বির্নিমানে অবদান রাখার জন্য সমাজে সম্মান বা শ্রদ্ধা পেয়ে গেছেন । তাদেরকে বিভিন্ন উপাধীতে ভূষিত করা হয়েছে এবং এখনো তা বিদ্ধ্যমান রয়েছে । এরই ধারাবাহীকতায় আজো মানবকল্যাণে ও সমাজ বিনির্মানে অবদান রাখার জন্য জ্ঞানী,গুণী, মানবহিতৈষী শান্তিকামী শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তিবর্গকে পৃথিবীর দেশে দেশে বিভিন্ন সম্মানজনক পদে অলংকৃত করা হয় । বিলাতের মহামাণ্য রাণীও প্রতিবছর গুণীজনদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং সমাজ বিনির্মানে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদবীতে ভূষিত করে থাকেন । মর্যাদাপূর্ণ এই সকল পদবী বাংলাদেশীদের মাঝেও বিতরন করেন । যারা এই সকল পদবীতে ভূষিত হয়েছেন তাদের অনেকে পৈত্রিক নামটার মর্যাদা ভারি করে নিজেদেরকে অন্য গ্রহের মানুষ হিসাবে মনে করেন । সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে তাদের বিচরন পরিলক্ষিত হয় । বিভিন্ন সামাজিক বা রাজনৈতিক সভা/সমাবেশে ঐ সকল পদবীধারীদের অনেকেই এমন ভাবটি প্রকাশ করে থাকেন বলে লক্ষ্য করা যায় । নিজেদের অর্জিত সম্মানসূচক পদবীর অপব্যাবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেদের বা তাদের পছন্দনীয় গোত্রের অগণতন্ত্রীক ও অন্যায় আচরনের বিরুদ্ধে ন্যায় সঙ্গত কথা বলেন না বরং অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়কে সমর্থন ও সাহায্য করেন । তাদের গণবিরোধী ও সমাজবিরাধী আচরনে যে মহামান্য রানীর দেওয়া সম্মানজনক পদবীকে অসম্মান করা হয় সে বিষয়টি বিবেচনা করার হিতাহিত জ্ঞানটা পর্যন্ত তারা রাখেন না । এদের রক্তে স্নায়ূতে সচেতন অপরাধ । এহেন পরিস্হিতিতে তাদেরকে আত্মানং বিদ্ধি বা নিজের মনকে পরীক্ষা করার অনুরোধ করবো । একইসাথে সমাজকর্মে যাদের কোন অঙ্গীকার নেই সেই সকল মেকী বা ভন্ড সমাজকর্মীদের সম্পর্কে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল মেধাসম্পন্ন বিবেকবান মানুষ তথা প্রকৃত সমাজ কর্মীদের সতর্ক হওয়া বান্চনীয় ।

লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো ১৯৭১ সালে বর্বর পাকিস্তানীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনেকেই অস্ত্র হাতে বিদ্রোহ করেছিলেন । নিজেদের জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন । তাদের কিছু লোক নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে নিজেদের পছন্দনীয় স্বগোত্রের লোকদের সকল অন্যায়, অগণতান্ত্রিক আচরন ও ভূমিকাকে সমর্থন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করে চলেছেন । মিথ্যার বেশাতি ও অন্যায়ের সমর্থনকারী এই সকল সুবিধাবাদী বর্ণচোরাদের সম্পর্কেও সকল সচেতন মহলের সতর্ক হওয়া উচিত । সমাজকর্মে যাদের কোন অঙ্গীকার নেই, বিশ্বস্ততা নেই, কোন চরিত্র নেই, নেই কোন সত্য-মিথ্যার, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য চেতনা সেই সকল বহুরুপীদের রুপ ও স্বরূপ উম্মোচন করে সমাজকে কলঙ্কমুক্ত ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রকৃত মানবপ্রেমী, জনহিতৈষী সমাজসেবকদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য হয়ে পরেছে । সর্বত্রই সমাজে দূর্বলের উপর জালিমের ও ভন্ডদের জোর, জুলুম চলছেই । মতলববাজ, প্রবন্চক, সুবিধাবাদী তথাকথিত সমাজকর্মীদের ধমনী শিরায় সুবিধাবাদের পাপ । এদের ভন্ডামী থেকে উদ্ধার পাওয়ার উপায় উদ্ভাবন করতে হবে । দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের প্রত্যয় নিয়ে সমাজকর্মে এই ভন্ডদের মুখোশ উন্মোচন করা প্রয়োজন । সমাজকর্মকে দুষ্ট চক্রের কবল থেকে রাহুমুক্ত করাই হউক প্রকৃত জনদরদী, মানবহিতৈষী সমাজকর্মীদের অঙ্গীকার ।

লন্ডনঃ ৩রা আগষ্ট ২০১৭ইং ।

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

সমরখন্দের সৌন্দর্যে বিমোহিত ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকরা

photo তূর্কি মেয়ের একটি তিলের বিনিময়ে মহাকবি হাফিজ যে দুই নগরী দিতে চেয়েছিলেন, তার একটি সমরখন্দের সৌন্দর্য আর স্থাপত্যশিল্প দেখে বিমোহিত হয়েছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকরা। বর্তমানে উজবেকিস্থান সফররত ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকরা বুধবার সারাদিন সমরখন্দ ও তার আশেপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। সাপ্তাহিক জনমত এর প্রধান সম্পাদক ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment