আজ : ১০:০৪, ফেব্রুয়ারি ২৫ , ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন, ১৪২৪
শিরোনাম :

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পৈশাচিকতায় নির্বাক মানবতা


আপডেট:১২:০৩, সেপ্টেম্বর ৮ , ২০১৭
photo

মোহাম্মেদ এ আজিজঃ রাজপথে ব্যাধিগ্রস্ত বৃদ্ধ ও অবহেলিত ভাবে মানুষের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে মানবজীবনের শোক, দূঃখ, জরা, ব্যাধি, মৃত্যুর হাত থেকে পরিত্রান লাভ এবং জগতের সকল স্বাধিকার-বঞ্চিত, শোষিত, নিপীড়িত মানব ও মানবতাকে মুক্ত করার জন্য রাজসিংহাসন ত্যাগী গৌতম বুদ্ধ ছিলেন বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক। তারই ধর্মালম্বী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী সহ বাঙ্গালী ও রাখাইনদের বসতি বার্মা যা বিশ্ব মানচিত্রে বর্তমানে মিয়ানমার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। গত বছর যাবত সেখানে চলছে জাতিগত সহিংসতা। মানবতা বিরোধী এই সহিংসতায় হাজার হাজার নর-নারী, শিশু-যুবক-যুবতী ও বৃদ্ধদেরকে গুলি করে, আগুনে পুড়িয়ে হাত-পা বেধে, গলা কেটে বর্বরোচিত ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। বর্বরোচিত গণহত্যার সাথে মিয়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ ভিক্ষু সহ রাষ্ট্রযন্ত্র ও সেনাবাহিনী সরাসরি জড়িত। এই নরপিশাচদের হাতে যেমন নিরপরাধ শিশুরা রক্ষা পাচ্ছেনা তেমনি অসহায় নারীরাও সেনাবাহিনীর হাতে ধর্ষিতা হচ্ছে । বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সেনাবাহিনীর কর্তৃক রোহিঙ্গাদের উপর বর্বরোচিত নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষন এবং গণহত্যাযজ্ঞে মানবতা আজ বিহ্বল । কিন্তু নিরীহ রোহিঙ্গাদের রক্ষায় আজ কোন পরাশক্তিদেশ এগিয়ে আসছে না। মানবতার চরম দূর্দিনে জাতিসংঘ, বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাসহ গণতান্ত্রিক দেশ সমূহ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার জন্য কার্যকরী কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছেনা । বরং নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার কারনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ মায়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর নির্মমতা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে । আজ বাংলাভাষী রোহিঙ্গারা যেভাবে অত্যাচারের শিকারে পরিনত হয়েছে বহুকাল আগে তার চেয়ে বহু গুণ বেশী অত্যাচার নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষনের শিকারে পতিত হয়েছিল বৌদ্ধ র্ধমালম্বীরা । তখন বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদেরকে কে বা কারা অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়িন, হত্যা, ধর্ষন করেছিল এবং বৌদ্ধদেরকে রক্ষা করার জন্য নির্যাতিতদের পাশে কে অবতার হিসাবে ভূমিকা পালন করেছিলেন সে বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করা যাক ।

ইতিহাস থেকে জানা যায় যে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে পাল বংশের প্রথম রাজা গোপালের মাধ্যমে বৌদ্ধদের শাসনামল শুরু হয় এবং বৌদ্ধদের শাসন ৪শ বছর পর্যন্ত স্থায়ী ছিল । তখন বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিল । বাংলায় বৌদ্ধদের একটানা ৪ শত বছর শাসনামলকে পাল শাসনামল নামে পরিচিত ছিল । পরবর্তিকালে দক্ষিন ভারত থেকে আগত সেন বংশের (ব্রাহ্মন) লোকেরা পালদের কাছ থেকে জোর করে ক্ষমতা কেড়ে নেয় । দক্ষিন ভারতীয় সেন ব্রাহ্মনরা ক্ষমতায় এসে বৌদ্ধদের উপর সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যা, নারী ধর্ষন শুরু করে । সেন রাজাদের অত্যাচারে বৌদ্ধদের একটা অংশ নেপালে গিয়ে আশ্রয় গ্রহন করেছিল । বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে দেশত্যাগী বৌদ্ধদের একটা অংশ হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে । যারা ভয়ে বাধ্য হয়ে ধর্মান্তরিত হয়েছিল তাদেরকে হিন্দু ধর্মের বর্ণ প্রথা অনুযায়ী সর্বনিন্মে পর্য্যায়ে স্থান দেওয়া হয়। অপরদিকে বৌদ্ধদের আরেকটি অংশ দিল্লির মুসলিম শাসক কুতুবুদ্দিন আইবেকের শরণাপন্ন হয়ে ব্রাহ্মন সেন রাজাদের অত্যাচার থেকে বৌদ্ধদেরকে রক্ষা করার জন্য বাংলায় মুসলিম সেনাবাহিনী পাঠানোর অনুরোধ করেন। ঐতিহাসিক কুলাচার্য জ্ঞানানশ্রীর বিবরনী থেকে জানা যায় মগধ থেকে এক দল তিব্বতী বৌদ্ধ ভিক্ষু মির্জাপুরে গিয়ে বখতিয়ারের সংগে দেখা করে মগধকে মুক্ত করতে অনুরোধও আবেদন করেন । বৌদ্ধদের অনুরোধে বখতিয়ার খিলজি তার বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং সেন বংশের রাজা লক্ষণ সেন কে পরাজিত করে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। ব্রাহ্মণ কর্তৃক নিপীড়িত বৌদ্ধরা মুসলমান কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের মাধ্যমে মুক্তিলাভ করায় বখতিয়ার খিলজীকে ভগবানের দানস্বরূপ মনে করিয়াছিল। অপরদিকে শূন্যপুরাণের ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ নামক অধ্যায়ে দেখা যায়-তাহারা (বৌদ্ধরা) মুসলমানদিগকে ভগবানের ও নানা দেবদেবীর অবতার মনে করিয়া তাহাদের কর্তৃক ব্রাহ্মণ দলনে নিতান্ত আনন্দিত হয়েছিল। নির্যাতিত বৌদ্ধরা উৎফুল্ল হয়ে বখতিয়ার খিলজি ও তার বাহিনীকে দু-বাহু বাড়িয়ে বরণ করে নিয়েছিল ।

আরেক ঐতিহাসিক ডঃ দীনেশ চন্দ্র সেন তার রচিত বৃহৎ বঙ্গ বইতে উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গবিজয়ের পরে বিশেষ করিয়া উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে শতসহস্র বৌদ্ধ ও নিম্নশ্রেণীর হিন্দু, নব ব্রাহ্মণগণের ঘোরতর অত্যাচার সহ্য করতে না পারিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণপূর্বক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল । ঐতিহাসিক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তার রচিত বৌদ্ধধর্ম বইতে লিখেছেন যে মুসলমান হওয়ার প্রক্রিয়াটি রাতারাতি হয়ে যায়নি। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ-মুসলিম সংমিশ্রনে এবং মুসলিম শাসকদের উদারতা, বৌদ্ধদের ও হিন্দুদের প্রতি মুসলিমদের ভালো ব্যবহারের ফলে বৌদ্ধ ও হিন্দুরা আস্তে আস্তে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। পরবর্তিতে দলে দলে বৌদ্ধরা ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। এবং হিন্দু ধর্মে উচ্চ-নিম্ন বর্ণ বৈষম্যের কারণে হিন্দু ধর্ম থেকেও হিন্দুরা দলে দলে ইসলাম গ্রহন করতে থাকে। কিন্তু ব্রিটিশ উপনিবেশকালে পশ্চিমা ওরিয়েন্টালিষ্ট এবং ভারতীয় ইতিহাসবিদরা মিথ্যাচার করতে থাকে যে মুসলমানদের সাথে বৌদ্ধদের দ্বন্দ্বের কারনে বাংলা থেকে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী পালিয়ে গেছে । তবে ব্রিটিশ ঐতিহাসিক প্রফেসর যোয়ান অ্যালবারস্কোগ তাঁর 'বুড্ডিজম ও ইসলাম অন দ্যা সিল্ক রোড' বইয়ে ভারতে বৌদ্ধ- মুসলিম সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত এই মিথ্যাচার ও ধারাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন । বৌদ্ধদের উপর মুসলিম সেনাপতি ও শাসকগন অত্যাচার করেছেন এই ধারণাকে তিনি নাকচ করে দেন । তিনি দাবী করে বলেন; বৌদ্ধদের সাথে মুসলমানদের শত্রুতার প্রচলিত ধারণা পশ্চিমে তৈরি হয়েছিল এবং এটাকে পূণঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয় তালেবান কর্তৃক ২০০১ সালে (আফগানিস্তানের বামিয়ানে) বিশাল বৌদ্ধমুর্তি ধ্বংসের মাধ্যমে। তিনি এও দাবী করেন যে, বৌদ্ধদের সাথে মুসলিমদের রাজনৈতিক সমঝোতা, সামাজিক সখ্যতা গড়ে উঠা এবং ইসলাম দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে বুদ্ধরা বৌদ্ধ ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ এবং বর্ণ বৈষম্যের কারণে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহন করেছে নির্যাতিত বৌদ্ধ ও হিন্দুরা ।
২০০১ সালে তালেবান কর্তৃক বৌদ্ধমূর্তি ধ্বংসলীলাকে ইস্যূ করে ওপারের সাহিত্য রেনেসাঁ এক সদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহন করে । সে মোতাবেক বার্মার বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের মাঝে প্রতিবেশী আধিপত্যবাদী শক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাহিত্যে সাম্প্রদায়ীকতার বিষবাস্প ছড়াতে থাকে । এরই সূত্র ধরে বর্তমানে মায়নমারে রাখাইনদের উপর চলছে বৌদ্ধ ভিক্ষুক ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতন । অথচ ইতিহাসবিদ নরেশ কুমার বলেন, “বুদ্ধের নাম কলুষিত করার পাশাপাশি এহেন ব্রাহ্মণ্য পুনর্জাগরণবাদীরা নিরপরাধ বৌদ্ধদের নিপীড়ন কিংবা এমনকি মেরে ফেলার তাগিদও হিন্দু রাজাদের দিতেন । বাংলার শৈব ব্রাহ্মণরাজা শশাঙ্ক শেষ বৌদ্ধ সম্রাট হর্ষবর্ধনের বড় ভাই রাজ্যবর্ধনকে ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে হত্যা করেন। এরপরে শশাঙ্ক বোধি গয়াতে গিয়ে বোধি বৃক্ষকে উপড়ে ফেলেন – যার নিচে বসে ধ্যান করে গৌতম বোধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন । পাশের বৌদ্ধ বিহারে থাকা বৌদ্ধের প্রতিকৃতি তিনি সরিয়ে ফেলে তার জায়গাতে শিবের প্রতিকৃতি ঝুলিয়ে দেন । এরপরে শশাঙ্ক কুশিনগরের সব বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নির্বিচারে হত্যা করেছিলেন । আরেক শৈব হিন্দু রাজা মিহিরকুল ১৫০০ বৌদ্ধ তীর্থস্থান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিলেন । শৈব রাজা তরামন কৌসম্বিতে থাকা বৌদ্ধ মঠ ঘষিতরাম ধ্বংস করেন বলে জানা যায়। [নোট: শেতাঙ্গ হুন ]
ইতিহাস থেকে জানা যায় যে “অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থের রচয়িতা ব্রাহ্মণ বর্ণের চাণক্য ঘোষণা করেছিলেন “যদি কেউ শক্য (বৌদ্ধ), অজিবিকাশ, শুদ্র বা নিষ্ক্রান্ত ব্যক্তিদের ঈশ্বর বা পূর্ব–পুরুষদের পূণ্যার্থে উৎসর্গিত ভোজসভায় যোগদান করে – তবে তার উপর একশ পানা অর্থদণ্ড আরোপিত করা হবে ।অপরদিকে ব্রাহ্মণ্যবাদের পুনরুজ্জীবনের পুরোধা শঙ্করাচার্য বৌদ্ধবাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড নিন্দামূলক কথার মাধ্যমে বৌদ্ধদের মনে সীমাহীন ভীতির সঞ্চার করেন । শুধূ তাই নয় পুরানের অনেক রচয়িতাও বৌদ্ধদের উপর মিথ্যা কলঙ্ক, অপবাদ, চরিত্রহরণের মাধ্যমে ঘৃণার এই পরম্পরা অব্যাহত রাখেন। এমনকি বিপন্ন সময়েও কোনো বৌদ্ধের বাড়িতে প্রবেশ করাকে ব্রাহ্মণদের জন্যে মহাপাপ হিসেবে তাদের ধর্মগ্রন্থ নারদীয় পুরানে আজ্ঞায়িত করা হয়। বিষ্ণু পুরানে বৌদ্ধদের মহা-মোহ হিসেবে উপাধিত করা হয়। এতে ‘বৌদ্ধদের সাথে কথা বলাও পাপকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, “যারা বৌদ্ধদের সাথে কথা বলবে – তাদের নরকে যেতে হবে।”
ইতিহাসবিদ এস. আর. গোয়েল তাঁর A History of Indian Buddhism বইয়ে বলেন, পুরোহিত বর্ণের ব্রাহ্মণদের শত্রুতার জন্যেই ভারতবর্ষে বৌদ্ধবাদের অবলুপ্তি ঘটেছে । গৌড়ের শাসক হিন্দু শৈব রাজা শশাঙ্ক (৫৯০-৬২৬) বোধি বৃক্ষ ধ্বংস করেন – যার নিচে বসে ধ্যান করে গৌতম বোধিপ্রাপ্ত হয়েছিলেন । পুস্যমিত্র শুঙ্গ (১৮৫-১৫১ পূর্বাব্দ) বৌদ্ধদের প্রতি বৈরী ছিলেন। তিনি ধর্মীয় সূত্র লেখনিগুলোসহ বৌদ্ধ প্রার্থনালয় জ্বালিয়ে দেয়া ছাড়াও অসংখ্য বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পাইকারী হারে হত্যা করেন । ঐতিহাসিক নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের সাথে কোনভাবেই বখতিয়ার খিলজি জড়িত ছিলেন না । বরং তাঁর সময় ও পরবর্তী মুসলিম শাসনে অনেক বৌদ্ধ বিহারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান চর্চা অব্যাহত থাকলেও নালান্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের জন্য বখতিয়ার খিলজির উপর মিথ্যা আরোপ লাগানো হয় । মূলতঃ নালন্দা ধ্বংস হয় তীরহুতের রাজা অর্জুনের সময়ে একদল ব্রাহ্মণ দুর্বৃত্তের হাতে ।
উপরোক্ত ঐতিহাসিক তথ্য থেকে আশাকরি পরিষ্কার হয়েছে যে, বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদেরকে নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা-ধর্ষন, বৌদ্ধদেবের বোধিবৃক্ষ, ১৫০০ শত প্রার্থনালয়, মপদচিহ্ন সহ নালান্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা হয়েছিল ব্রাম্মন সেন রাজাদের আমলে । মূলতঃ প্রচলিত ইসলামবৈরী গল্পকথার বিপরীতে এটাই সত্য যে, বখতিয়ারের অশ্বারোহীরা যখন হিন্দু রাজাদের পরাভূত করেন তখন স্থানীয় বৌদ্ধরা মুসলিমদেরকে বর্ণবাদী হিন্দুদের নিপীড়ন থেকে তাদের উদ্ধারকর্তা হিসেবেই দেখেছেন । আজ নির্যাতীত, নিপীড়িত, অসহায় রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ- শিশুদেরকে রক্ষা করার কেউ নেই । উল্লেখ্য যে বার্মার নেত্রী অং সান সূকী যখন সামরিক জ্যান্তার আক্রোশে নিপতিত হয়ে প্রায় কুড়ি বছর চার দেয়ালের মাঝে বন্দিদশায় ছিলেন তখন সূকীর মুক্তির জন্য সারা বিশ্বের মানবতাবাদী, গণতান্ত্রিক গণমানুষের সাথে রাখাইন জনগোষ্ঠীও আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল । গণমানুষের স্বাধীকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বার্মায় শান্তি প্রতিষ্ঠা আন্দোলন করার জন্য সূকীকে নোবেল পুরুস্কারে ভূষিত করা হয়েছে । আজ তিনিই রোহিঙ্গাদের উপর বর্বোরোচিত নির্যাতন, হত্যা, নারী ধর্ষন সহ জনপদের পর জনপদ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্হান নিয়েছেন । ফলে বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক গণমানুষ ও সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পরছে । ক্ষমতার মোহে সূকী ইতিহাসের নির্মম পরিনতির কথা ভূলে গেছেন । একদিন তাকে গণরোষে পড়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী হিসাবে সূ চিকে ক্রোয়েশিয়ার মিলোসবিচের মত আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং তার যবনিকা হবে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে । এটাই ইতিহাসের শিক্ষা ।

লেখকঃ কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক সমালোচক

( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

নিম্ন আদালতের নথি হাইকোর্টে এলে খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ

photo ঢাকা প্রতিনিধি: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। নিম্ম আদালত থেকে রায়ের নথি পাওয়ার পর এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার দুপুরে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেন। সংখ্যাধিক্য আইনজীবীর কারণে এজেলাশ কক্ষের পরিবেশ ‘অস্বাভাবিক’ হওয়ায়

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment