আজ : ০৮:৩৫, মার্চ ২৩ , ২০১৯, ৯ চৈত্র, ১৪২৫
শিরোনাম :

ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা: দ্বিতীয় গণভোট প্রশ্নে উভয় সংকটে করবিন


আপডেট:০২:০৪, জানুয়ারি ১৮ , ২০১৯
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রেক্সিট নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা নিরসনে দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তুলেছে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিরোধী দল। এ দাবিতে সামিল হওয়ার জন্য লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনকেও আহ্বান জানানো হচ্ছে। থেরেসার বিরুদ্ধে আস্থা ভোটে করবিনকে সমর্থনদানকারী লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি এরইমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে গণভোটকে সমর্থন না করলে ভবিষ্যতে করবিন তাদেরকে পাশে পাবেন না। আবার দ্বিতীয় গণভোট সমর্থন করলে নিজ দলের শেডো মন্ত্রীদের সমর্থন হারাতে পারেন এ লেবার নেতা। শেডো মন্ত্রীদের অনেকে পদত্যাগও করতে পারেন। সব মিলে দ্বিতীয় গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চাপের মুখে আছেন করবিন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে কোনোরকমে প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকে যাওয়ার পর ব্রেক্সিট পরিকল্পনা অনুমোদনের স্বার্থে সম্ভাব্য বিকল্প পথ নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে,বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন তিনি। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছাড়া আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে লেবার পার্টি। তবে লিবারেল ডেমোক্র্যাট, এসএনপি ও প্লাইড ক্যামরি পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন থেরেসা। প্রথম দিন আলোচনায় অংশ নিলেও বেশিরভাগ দলই থেরেসাকে সম্ভাব্য ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট’ (নো ডিল ব্রেক্সিট) এড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ ও দ্বিতীয় গণভোট আয়োজনের শর্ত বেঁধে দিয়েছে। থেরেসার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে এসব দলের অনেকেরই সমর্থন পেয়েছিলেন করবিন। দ্বিতীয় গণভোটের দাবিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এসব দলের পক্ষ থেকে করবিনের ওপরও চাপ জোরালো হচ্ছে। এরমধ্যেই দ্য গার্ডিয়ান আভাস দিয়েছে, করবিন দ্বিতীয় গণভোটকে সমর্থন দিলে শেডো মন্ত্রীদেরকে পাশে পাবেন না তিনি।

লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শেডো মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, করবিন যদি চাপের কাছে নতি স্বীকার করে গণভোটকে সমর্থন দেন তবে তারা পদত্যাগের কথা ভাববেন।

লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ এক শেডো মন্ত্রী গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমরা যদি দ্বিতীয় গণভোটকে সমর্থন দিই তবে সত্যিকার অর্থে নিজের অবস্থান নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়ব আমি। নিজের আসন ধরে রাখা ও আমার এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বটুকু ধরে রাখতে চাইলে পদত্যাগ ছাড়া আমার আর উপায় থাকবে না।’

আরেক শেডো মন্ত্রী গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, করবিনের কার্যালয়কে এবং শেডো ব্রেক্সিট মন্ত্রী কির স্টারমারকে তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা পরিষ্কার করে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ পর্যায়ে গণভোট আয়োজনের পক্ষে সমর্থন দেওয়াটা আমার জন্য অস্বস্তির হবে। সাধারণ নির্বাচনে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেগুলো আমাদেরকে পূরণ করতে হবে। ব্রেক্সিট আটকে দেওয়ার ধারণাটা ঠিক নয়। এতে আমাদের সঙ্গে লাখ লাখ ভোটারের সম্পর্ক ছিন্ন হবে, যারা প্রত্যাশা করে আমরা প্রতিশ্রুতি রাখব।’

লেবার পার্টির চেয়ারপার্সন আয়ান লেভারি ও শেডো আইনমন্ত্রী রিচার্ড বার্গনসহ বেশ কয়েকজন মেডো মন্ত্রী এখনও কী করবেন তা নিয়ে সন্দিহান। তারা মনে করেন, আগাম নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই দলের জন্য সবচেয়ে প্রাধান্যের বিষয় হওয়া উচিত।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) ইউগভ পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্রিটিশ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের থেকে যাওয়ার পক্ষে। ১ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে ওই জরিপ চালানো হয়। দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ মানুষ এখন ব্রেক্সিট না হওয়ার পক্ষে। আর ব্রেক্সিট চান ৪৪ শতাংশ ব্রিটিশ।

এদিকে লেবার পার্টির বেক্সিটবিরোধী অংশ দ্বিতীয় গণভোটের দাবিতে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। বুধবার (১৬ জানুয়ারি) তারা জানিয়েছে, দ্বিতীয় গণভোটের জন্য তাদের দাবির পক্ষে ৭১ জন লেবার এমপির সমর্থন রয়েছে। ব্রেক্সিটবিরোধী লেবারদের দাবি, আরও অনেকে তাদেরকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন।



সাম্প্রতিক খবর

এবার চালক-হেলপার মিলে সিকৃবি শিক্ষার্থী ওয়াসিমকে বাসচাপা দিয়ে হত্যা

photo সিলেট প্রতিবেদক: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুরে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে বাসটির চালক ও তার সহকারী।নিহত ছাত্রের নাম ওয়াসিম আফনান। তিনি সিকৃবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বষের ছাত্র। তার বাড়ি হবিগঞ্জে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়ন রুদ্র গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আবু জাহেদ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment