আজ : ০৭:৪৩, নভেম্বর ১১ , ২০১৯, ২৭ কার্তিক, ১৪২৬
শিরোনাম :

ঈদের নামাজ ও কিছু অসঙ্গতির চিত্র


আপডেট:০৩:৩৯, জুন ২৫ , ২০১৭
photo

রোমান বখত চৌধুরীঃ প্ল্যান ছিল বৃকলেন মসজিদেই ঈদের নামাজ পড়ব। কারন আমার বাবা এই মসজিদের মুসল্লি ছিলেন।বয়স আর অসুস্থতায় কাতর আব্বাকে কতবার হাতে ধরে নামাজে নিয়ে গেছি! তা মনে হলেই চোখ জল টলমল হয়ে উঠে। মসজিদের ডান কর্নারে তাঁর অন্য বন্ধুদের নিয়ে বসতেন। আজ সেই কর্নার আগের মতই, বন্ধুরাও অনেকেই আছেন। শুধু...। প্রত্যেক বাবারা তাঁর সন্তানদের সুখের জন্য অনেক ত্যাগ করেন। তাঁরা বেঁচে থাকতে এর মর্ম আমরা বুঝিনা। আজ এই খুশির দিনে কেন যে বাবার ছবিই বারবার ভেসে উঠে, জানিনা? আমার জন্য ঈদের দিনটিই কি বাবা দিবস হয়ে উঠলো? একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই...

ইষ্ট লন্ডন মসজিদ হয়ে বৃকলেন আসছিলাম। এ সময় মসজিদ সম্মুখে ৩য় জামাতের জন্য অপেক্ষারত মুসল্লিদের দেখতে পেলাম। সেখানে একটি অসঙ্গতি চোখে পড়ার মতো, যা উল্লেখ না করে পারলাম না। দলে দলে মুসল্লিদের সংখ্যা বাড়লে তাঁরা ছোট ছোট ছেলে মেয়ে সহ সবাই মিলে ফুটপাথ ও সাইকেলের লেন সহ অবস্থান নিলেন। একসময় পুরোটাই দখলে নিয়ে নিলেন। সাধারন পথচারী ও সাইকেল আরোহীগন এসময় দিশেহারা। তাঁরা অনন্যোপায় হয়ে, শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়েই গেলেন। আমি নিজেও তাই করলাম। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, মসজিদের সামনে ফুটপাথে খণ্ড খণ্ড অনেক যায়গা খালি থাকার পরও একটু জায়গায় ভিড় করছেন। কিন্তু কেউ খালি অংশ পূরণ করছেন না। যা পূরণ করলে ফুটপাথ ও সাইকেল লেন নিরবিচ্ছিন্ন থাকতো। কিন্তু কোন যুক্তিতে সবাই দুটি দরজার সামনে এমন ভিড় করছেন? জানিনা।

জনজীবনকে অচল করে দিয়ে এ কেমন ধর্ম পালন? গত ২৯টি রোযা রেখে এই শিক্ষাই কি আমরা পেলাম? পাবলিক স্পেস ব্যবহারে আমরা যদি অপরের সুবিধা অসুবিধাই না বুঝলাম, তাহলে কিসের এত ইবাদত? কিসের এত উপোষ করা? যে কোন শিক্ষাই মানুষের আচরণের উপর প্রভাব ফেলে। আচরন বদলাতে না পারলে আপনি শ্রেষ্ঠ, আপনার ধর্ম শ্রেষ্ঠ কিভাবে বলবেন? আসলে ইসলামের বাস্তব চর্চা মোটেও হচ্ছেনা।

এর আগে তারাবীর নামাজের সময়ও লক্ষ্য করেছি ইষ্ট ইন্ডিয়া ডক রোডে অবস্থিত পপলারের একটি মসজিদে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় বাহিরে রাস্তায় কিংবা ফুটপাথে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন। এতে পথচারীরা চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। রাস্তা না পেয়ে পথচারীরা দেখলাম রেলিং ডিঙিয়ে মুল রাস্তা ধরে চলে গেলেন। এরকম অসুবিধা তৈরি করা কি সত্যিই দরকার ছিল?

ইষ্ট লন্ডন মসজিদের কোন কর্মীর দেখা মেলেনি আজ, যিনি এই গোলমেলে অবস্থাকে শৃঙ্খলায় আনতে চেষ্টা করবেন। মসজিদটি যেহেতু রাস্তার পাশে তাই লোকজন দরজার সামনে জড়ো হবেন। এটাই স্বাভাবিক। ব্যস্ত ফুটপাথকে চলাচল উপযোগী ও নিরাপদ করা সংশ্লিষ্ট মসজিদেরই দায়িত্ব। নামাজ পড়ার দোহাই দিয়ে সবার ব্যবহার্য ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্য ধর্মের মানুষ মসজিদে আর ঘরে আপনি কেমন ইবাদত করছেন তা দেখতে আসবেনা। আপনার বাহ্যিক ব্যবহার দেখবে। দেখবে অন্যের সুবিধা অসুবিধার প্রতি কতটা নিবেদিত আপনার কর্ম। এসবই প্রমান দেবে আপনার ধর্মের শিক্ষা। তবেই না তাঁরা আরও জানতে চাইবেন ইসলাম সম্পর্কে।

হে মসজিদের মুতাউয়াল্লিগণ, আপনার মসজিদের মুসল্লিরা যদি অন্যের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়, রাস্তা পার হতে যেয়ে চলমান যানবাহন থামিয়ে দেয়, তাহলে যারা বিড়ম্বনার শিকার হলেন তাদের ক্ষোভটি কিন্তু ওই মসজিদের উপরই পড়বে। তখন মসজিদে দেয়া হাজার হাজার লেকচারের তখন কোনই মুল্য থাকবেনা।

ইষ্ট লন্ডন মসজিদ বৃটেনে ইসলামের একটি আইকনিক নিদর্শন। এ মসজিদটি শুধু ইউকের নয় বরং ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত ও বৃহৎ মসজিদ। অনেকে দূর থেকে আসেন এ মসজিদে একবার নামাজ পড়ে এক পলক দেখার জন্যে। অনেক অমুসলিম লোকজনও আসেন অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে ইসলামকে জানার জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ইসলামিক পণ্ডিতগণ এই মসজিদে জড়ো হন। ইসলামের শত্রু যারা তারাও এ মসজিদের কার্যক্রমকে অনুসরণ করেন। সুতরাং এই মসজিদের সকলেরই দায়িত্ব এখান থেকে যেন হাসাহাসি ও গালাগালির কোন উপলক্ষ যেন তৈরি না হয়। আর যদি হয় তাহলে এর দ্বারা ইসলামকেই কলঙ্কিত করা হবে।

এ লিখায় আলোচিত সমস্যার ক্ষেত্রে সার্বিক শৃঙ্খলার জন্যে মসজিদের বাহিরে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা উচিত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জায়গা মার্ক করে সীমারেখা টানা যেতে পারে যাতে এর বাইরে লোকজন নামাজ শেষে জড়ো না হন। তাতে ফুটপাথ মুক্ত থাকবে। সাধারণ জনগণ নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। সাথে সাথে একটি সুন্দর ম্যাসেজও পৌঁছে যাবে নন-মুসলিমদের, এরা কত শৃঙ্খলিত!

(বিঃ দ্রঃ লিখাটি বিশেষ মসজিদের আলেখ্যে লিখলেও অন্যান্য মসজিদে এমন অসঙ্গতি চোখে পড়ে)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিরুদ্ধে কমিউনিটির ক্ষোভ

photo শামসুল আলম চৌধুরী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বলিষ্ট সংগঠক ও খাঁটি দেশপ্রেমিক নেতা বিশেষ প্রতিনিধিঃআজ ১০ ই নভেম্বর রবিবার রাতে বাংলাদেশ সেন্টার লণ্ডন কর্তৃক আয়োজিত শোক সভায় বক্তারা বলেছেন যে- ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে বৃটেনে মুক্তিযুদ্ধের একজন বলিষ্ট সংগঠক ছিলেন মরহুম শামসুল আলম চৌধুরী।তিনি বাংলাদেশ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী ও বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সচিব হিসাবে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment