আজ : ০৯:২২, ফেব্রুয়ারি ২৫ , ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন, ১৪২৪
শিরোনাম :

স্বাধীনতার স্বাদ নিতে এ কোন ভ্রান্ত-পথযাত্রা


আপডেট:১২:৩৮, অগাস্ট ১৯ , ২০১৭
photo

মোহাম্মদ এ আজিজঃ ধনে ধান্যে পুস্পে ভরা বাংলার বসুন্ধরাকে শতাব্দীর পর শতাব্দী তুর্কী, মোঘল, ইংরেজ বেনিয়া সহ খান-পাঠান শাসকেরা শাসন-শোষন ও লুন্ঠন করেছে । ৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় ধর্মের ডঙ্কা বাজানো মধ্যবিত্ত পশ্চিমা জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে গাঁটছড়া বেধে সোনার বাংলা উপনিবেশে পরিনত হয় । পাঠান-পান্জাবী শাসকগণ লুন্ঠন করে মাত্র তেইশ বছরের ব্যবধানে সোনার বাংলাকে পরিনত করে শ্মশানে। সংখ্যালঘিষ্ট পান্জাবীরা বন্দুকের নলের জোরে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালীকে দাবীয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু তা পারেনি। গর্জে উঠে শান্তি প্রিয় বাঙ্গালী। ৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে সকল ঘটনা ঘটেছিল অনেক বাঙ্গালীর কাছে তা'ছিল অকল্পনীয় ও অসম্ভব। কেউ ভাবেনি এত তাড়াতাড়ি, এত সহজে এমনটি ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে এই অসম্ভবকে বাঙ্গালীরাই সম্ভব করেছিল। অনেক চড়া দামে রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছিল স্বাধীনতা।

একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন আবাস ভূমি অর্জন করার পর ক্ষমতা কি ভাবে ভোগ করা হবে তা নিয়ে শুরু হয় দাবা খেলা । মুক্তিযুদ্ধের বিঘোষিত নীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে একটি সংবিধান রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতে হিজরত থেকে ফিরে আসা ৭০ সালে ( তদানিন্তন পাকিস্তান পার্লামেন্টের ) নির্বাচিত সংসদের কাছে। বাঙ্গালীসহ প্রান্তিক আধিবাসী বা উপজাতিদের জাতীয়তার ভিত্তি দেওয়া হলো বাঙ্গালী জাতীয়তা। রূপ দেওয়া হলো ধর্ম নিরপেক্ষতা। পুঁজিবাদের দেশীয় জাতীয়তাবাদী এজেন্টরা সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখালো জাতিকে। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের বাস্তবসম্মত কোন পরিকল্পনা না করেই দেশের সকল ভারী শিল্প কারখানাকে জাতীয়করন করা হল। যার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সোপর্দ করা হলো দলীয় ক্যাডার ও ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহদের হাতে। সীমাহীন দূর্নীতি, চুরি চামারি করে ধ্বংস করে দেওয়া হলো সকল কল-কারখানাকে। অপরদিকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পূর্ণগঠনের জন্য প্রাপ্ত বিদেশী ঋণ, অনুদান, সাহায্য লুটপাট করে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে সৃষ্টি করা হল খাদ্য সঙ্কট। মানব সৃষ্ট দূর্ভিক্ষে অনাহারে লক্ষ লক্ষ লোকের প্রাণ দিতে হয়েছে। ভারতে আশ্রয় নেওয়া নেতারা শূণ্য হাতে দেশে ফিরে গদিতে বসে। ক্ষমতার দন্ড হাতে পেতেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ, বিদেশী রিলিফ, ঋণ, অনুদান লুটপাট করে রাতারাতি বিত্তবান হয়ে উঠেন অনেকেই । অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ ও রাজনৈতিক স্বার্থ অটুট রাখার জন্য তাদের অনুকুলে গড়ে তোলেন লাঠিয়াল বাহিনী ও বিত্তবান তাবেদার শ্রেনী। এতে সর্বনাশ হয়েছে দেশের ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারন মানুষ।

স্বাধীন দেশের যাত্রার শুরুতেই বাড়তে থাকলো ধনী গরীবের পার্থক্য। বাড়তে থাকলো গণমানুষের ক্ষোভ। বিক্ষোভ তাড়িত জনগোষ্ঠিকে স্তব্দ করার জন্য কালাকানুন জারি করে গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রুদ্ধ করা হল । ইতিমধ্যে উন্নতি যা হয়েছে তা শুধুই বিত্তবানদের। কিন্তু উন্নতির বাহক কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ আগে যেমন ছিল তার চেয়ে অধিকতর খারাপের দিকে চলে গেল।

এমনি পরিস্থিতিতে যে সকল বামপন্থী ও সমাজতন্ত্রীরা শ্রেণি সমস্যা সমাধানকল্পে মেহনতি মানুষের রাজ কায়েমে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। এদের কিছু লোভী অংশ ক্ষমতাসীনদের লুটপাট ও হালুয়ারুটির উচ্ছিষ্ট খাবারের জন্য ক্ষমতাসীনদের বি-টিমে পরিনত হলেন । ক্ষমতা চলে গেল প্রতিক্রীয়াশীল ও পুজিবাদের বাংলাদেশী এজেন্ট জাতীয়তাবাদী অপ-শক্তির দখলে । অপরদিকে যারা ছিল প্রতিক্রিয়াশীল পুজিবাদের বাহক ও সমাজতন্ত্রের শত্রু তাঁরাই সংবিধান রচনাকালে হয়ে গেলেন সমাজতন্ত্রের পূজারী । কৃষক শ্রমিক মেহনতি গণমানুষের উত্থান ও সমাজ বিপ্লবের ভয়ে এবং নিজেদের লুটপাট অব্যাহত রাখা ও নিরাপত্তার তাগিদে গড়ে তোলেন রংবেরঙ্গের প্রাইভেট বাহিনী। গণমানুষকে ভয় দেখানো ও অবৈধ পন্থায় জোর করে শাসন করার জন্য জন্ম দেওয়া হলো ৫০ ধারার কালাকানুন। বিপ্লবী সিরাজ শিকদাররা তাদের শত্রু ছিল বটে কিন্তু মেহনতি মানুষ একবার জেগে উঠলে কোন তন্ত্রমন্ত্র বা শক্তিই তাদেরকে রুখে দাঁড়াতে পারবে না কথাটি তাদের জানা ছিল। তাই কালাকানুন জারী করার সাথে সাথে শ্রমিকশ্রেণির রাজনীতিতে বিশ্বাসী অনেক প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রী দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং অনেক নেতাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

স্বাধীনতা উত্তরকালে দূর্নীতিতে আচ্ছন্ন এবং গণমানুষের অধিকার নিয়ে যারা মত্ত ছিলেন অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্ধে তাদের অবসান হয়েছিল অত্যন্ত নির্মমভাবে । অবৈধপন্থায় আর কামানের জোরে ক্ষমতা দখলকারী আরেকটি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি গণমানুষের রোষানল থেকে বাঁচার জন্য ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছিল। পরবর্তিকালে ক্ষমতাকে নিঃস্কন্ঠক করার মানষে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছিল। ধর্মীয় ডামাঢোলের ফলে আড়ালে চলে গেল শ্রেণী সমস্যা ও সমাজতন্ত্রের মন্ত্রনা। ভিন্ন চরিত্রের শাসক হলেও উভয়ই মেহনতি মানুষকে ভয় পেত। উভয়ই ছিল প্রতিক্রিয়াশীল, পুঁজিবাদের এজেন্ট। অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রতিটি শাসকই কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষকে বাহন হিসাবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু মেহনতি মানুষের গণজোয়ারকে ঠেকানোর জন্য সকলেই অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন ও কালাকানুনের আশ্রয় নিয়েছে। গণমানুষের অভ্যুথানের ভয়ে এবং নিজেদের স্বার্থে ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বানিজ্য করে ঐক্যের পরিবর্তে জাতিকে দ্বি-খন্ডিত করা হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে । নিজেদের সকল দূর্নীতি, খূন-গুম, অত্যাচার, নির্যাতন ও অপকর্মকে হালাল করার এবং ক্ষমতায় ঠিকে থাকার প্রয়োজনে চরম সাম্প্রদায়িক সম্প্রসারণবাদী শক্তির সাথে জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী চুক্তি করে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হুমকির মাঝে নিপতিত করা হয়েছে। গণঅভ্যূত্থান যাতে মাথাছাড়া দিতে না পারে সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাহিনীর মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

সম্প্রতি ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সরকার ও বিচারপতিদের মাঝে যে তান্ডব চলছে তা অব্যাহত থাকলে জাতির বিড়ম্বনা বাড়বে। দেশপ্রেমিকরা বেদনাবোধ করে যন্ত্রনায় কাতর এবং সুযোগ সন্ধানীরা এর থেকে ফায়দা উঠানোর পথ অনুস্মরণ করছে । এতে কোন সন্দেহ নেই। গণমানুষের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে ক্ষমতার দাম্ভিকতা পরিহার করে এবং ভ্রান্ত পথে চলা বন্ধ করাই হবে দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল। অন্যথায় ইতিহাসের পূণরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনাই বেশী বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্বাস।


লেখকঃ কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

photo শিহাবুজ্জামান কামাল; গত ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের এলএমসি হলে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট টিভি ব্যক্তিত্ব আজমল মাসরুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মানুষের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান ও উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করতে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের দানকৃত প্রয়োজনীয় অর্গান প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শতশত অসুস্থ মানুষের জীবন বাচানো

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment