আজ : ০৮:৪৬, জুন ২৩ , ২০১৮, ৯ আষাঢ়, ১৪২৫
শিরোনাম :

ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও রাজনৈতিক নতুন উত্তেজনা


আপডেট:০৬:৫৬, অগাস্ট ১৬ , ২০১৭
photo

অলিউল্লাহ নোমানঃ ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিমকোর্ট রায় দেওয়ায় আশার আলো দেখছিল এাকটি রাজনৈতিক দল। রায়টি কতটা পাঠ করেছেন তারা সেটা বোধগম্য নয়। রায়টি মনযোগ দিয়ে পাঠ করে, সে স্বপ্ন দেখছেন কিনা অনেক সন্দেহ রয়েছে। কারন বিরোধী জোটের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি'র জন্মকেই অস্বীকার করা হয়েছে এই রায়ে। স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পর ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশে কোন গণতন্ত্র ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ে দুই সামরিক শাসক আমলে দেশকে 'বানানা রিপাবলিকে' পরিণত করেছিল। ১৯৯০ সালের পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এই রায়ে কিন্তু একবারও বলা হয়নি, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকার দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিল। কোথাও বলা হয়নি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হওয়ার পরই কিন্তু শেখ মুজিব কতৃক বিলুপ্ত ঘোষিত আওয়ামী লীগ পুনরায় জন্ম নেওয়ার সুযোগ পায়। তারপরও বিরোধী জোটের নেতারা এই রায়কে ঐতিহাসিক দলীল হিসাবে কেন আখ্যায়িত করছেন, সেটা এখনো বোধগম্য নয়।

এদিকে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতা ও সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগের বাকী ছয়জন বিচারপতি রায়ের পর্যবেক্ষনের সাথে একমত হননি। এটা আওয়ামী লীগের সাধারণ কোন নেতা বললে বেশি গুরুত্ব পেত না। ফজলে নূর তাপস সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী। তিনি আওয়ামী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক। নিশ্চয়ই আপিল বিভাগের বাকী ছয় বিচারপতির সাথে তাঁর কথা হয়েছে। কথা না বলে তিনি জোর দিয়ে এটা বলতে পারতেন না। সুতরাং, বুঝাই যাচ্ছে বাকী ছয় জনকে দিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষনের বিরোধীতা করানো হবে। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যে তাঁর ৬ জন সহকর্মীর তোপের মুখে রয়েছেন সেটাও ফজলে নূর তাপসের বক্তব্যে স্পষ্ট।

এদিকে ১৫ আগষ্ট শোক দিবস উপলক্ষে পিজি হাসপাতালের ডাক্তারদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও আপিল বিভাগের জ্যাষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিঞা। ওই অনুষ্ঠানে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের তদন্ত নাকি সঠিকভাবে হয়নি। সঠিক তদন্ত হলে আরও রাগব বোয়ালরা ধরা পড়তেন। কিন্তু সঠিক তদন্তের অভাবে রাগব বোয়ালদের ধরা যায়নি। তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাগব বোয়াল হিসাবে কার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়?
শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি হিসাবে তিনি একজন রাজনৈতিক নেতার মর্তুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গেলেন। সেখানে গিয়ে ওই নেতার প্রতি তাঁর দরদ দেখালেন। এর আগে রা‍য় নিয়ে বিতর্কের মাঝে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে সরকারি বাসায় নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানালেন। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের জন্য বিদ্যমান আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই যে এই নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। রায় নিয়ে বিতর্কে প্রধান বিচারপতি নিজে যখন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন তখন বুঝাই যায় তাঁর মনোবল কতটা দুর্বল।

অপরদিকে একই অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি ‍আবদুল ওয়াহাব মিঞা যে বক্তব্য রেখেছেন, সেটা দলীয় নেতাদেরও হার মানায়। মাত্র তিনদিন আগে আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু দাবী করেছেন, শেখ মুজিব না হলে ' ছিঁচকে উকিলরা' বিচবারপতি, প্রধান বিচারপতি হতে পারতেন না। আবদুল ওয়াহাব মিঞা তারই প্রতিধ্বনি করেছেন। তিনিও আজ বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানেই তিনি বিচারপতি হতে পেরেছেন। এখন আপিল বিভাগের বিচারপতি হয়েছেন তিনি। এই যখন একটি দেশের সুপ্রিমকোর্টের অবস্থা, তখন ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে যারা ক্ষমতার যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর, তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক!

লেখক: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা: দ্রুত শুনানি চেয়ে আবেদন করবে দুদক

photo ঢাকা সংবাদদাতা: আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার দ্রুত আপিল শুনানি চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামীকাল রবিবার (২৪ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে কমিশনের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত আবেদন করা হবে। শনিবার (২৩ জুন) দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এ তথ্য জানান।খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশের

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment