আজ : ১১:৪৪, ডিসেম্বর ১০ , ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
শিরোনাম :

ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা


আপডেট:০৫:১৮, ডিসেম্বর ১০ , ২০১৭
photo

অলিউল্লাহ নোমান: আগামী বছরটা (২০১৮) নির্বাচনের বছর। সামনে ঢাকা উত্তরের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আরো বেশ কযেকটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হবে বছরের মাঝামাঝি। একেবারে শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন না হলেও পরবর্তি জানুয়ারীতে তো হবেই। তাই নির্বাচনী জাতীয় নির্বাচনের ঝড় উঠবে বছরের শেষ দিকেই। নির্বাচন মানেই বাংলাদেশে একটা সামাজিক উৎসব। নির্বাচনী মারদাঙ্গা তো আছে। থাকবে। তারপরও নির্বাচনকে উৎসব হিসাবে নেয় বাংলাদেশীরা।

প্রশ্ন হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনটা কি উৎসবমূখর হবে? নাকি আতঙ্কের মধ্যে কাটবে নির্বাচনী বছরটা? এ প্রশ্ন গুলোর যথেষ্ট কারনও রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী হয়েছিল সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনটা আসলে উৎসবে কাটেনি। আতঙ্ক ছিল সর্বত্র। বর্জন আর অংশগ্রহনের খেলায় মানুষ ছিল আতঙ্কিত, শঙ্কিত।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর পর থেকেই অনেকে আগাম নির্বাচনের স্বপ্নে বিভোর। কিছুদিন পরপরই আগাম নির্বাচনের আওয়াজ উঠেছিল। তবে সে গুলো ছিল একেবারেই কল্পনাপ্রসূত। আগাম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা যে একেবারেই ক্ষীন আমি অনেকবার লিখেছি। ফেইসবুক স্ট্যাটাস এবং লেখায় স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। শেখ হাসিনা চেষ্টা করবেন মেয়াদ পূরন করতে। ক্ষমতায় থাকার জন্যই তিনি সবকিছু করছেন। সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন আজীবন ক্ষমতার থাকার জন্য। সে প্রতিজ্ঞা নিয়েই তিনি ২০০৮ সালে সেনা শাসিত জরুরী আইনের সরকারের সাথে আপস করেছিলেন। সেটাও বলে আসছি ২০১০ সাল থেকে। বাকীটা তো আল্লাহপাক জানেন।
শেখ হাসিনা নিজের প্রতিজ্ঞার আলোকেই সবকিছু সাজাচ্ছিলেন ২০০৯ সাল থেকে। সেটা বিরোধী জোটের নেতারা অনুধাবন করেন কিনা জানি না। নাকি নিজেদের হিসাবে নিকাশে শেখ হাসিনাকেও মাপেন সেটা তাদের বিষয়।

আমার কথায় যাদের সন্দেহ রয়েছে শেখ হাসিনার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য গুলোতে চোখ বুলিয়ে নেবেন প্লিজ। সম্ভব হলে ভিডিও দেখবেন। সব পরিস্কার হয়ে যাবে তখন। তাঁর বাচনভঙ্গি ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজে অনেক প্রশ্নে জবাব পাওয়া যাবে। কেউ যদি হালকাভাবে দেখেন সেটা তাদের বিষয়। রাজনীতিতে হালকাভাবে দেখার কিছু নেই। গভীরে গিয়েই চিন্তা করতে হয়। হালকা কথায় সবকিছুই উড়িয়ে দিতে দেখছি গত ৯ বছর ধরে। কিন্তু তাদের সেই ধারনা কোনটাই সফল হয়নি। বরং শেখ হাসিনাই সাফল্যের সিড়ি বেয়ে এগিয়ে গেছেন। এবারো সংবাদ সম্মেলনের পর অনেকের মুখে শোনা যায় শেখ হাসিনা ভয়ে কাতর। পাগল হয়ে গেছেন। তাই এমন কথা বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে। কিসের জন্য শেখ হাসিনার ভয়, কেন ভয়ে কারত হবেন সেটা বোধগম্য হচ্ছে না। বরং বলা চলে এমন কি হল শেখ হাসিনার মনে ভয় ঢুকবে? ভয়কাতুরে অবস্থায় এমন কথা বলবেন!!
যারা রাজনীতি বাদ দিয়ে শুধু ক্ষমতার স্বপ্ন দেখেন তারাই বরং এমন হালকা কথা বলতে পারেন শেখ হাসিনাকে নিয়ে। ক্ষমতার স্বপ্ন মাথায় বাসা বাঁধার ফলে নিজেদের অনুকুলে শুধু চিন্তা আসবে। এটাই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনা কিন্তু পাগলও হননি বা ভয় কাতুরেও নন। এমন হয়ে থাকলে দেশের প্রধান বিচারপতিকে লাথি মেরে বের করে দিতেন না। এমন কাজ করার মত হিম্মত লাগে। শেখ হাসিনার সেই হিম্মতের প্রমান দিয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনা হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে অপমানিত করে বের করে দেওয়া।

শেখ হাসিান শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের সভানেত্রী। যা বলার হিসাব কষেই বলেছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে সেই হিসাবটার সঠিক জবাব রাজপথে দেওয়া। হালকা কথায় উড়িয়ে দিয়ে মনে শান্তি নেওয়ার নাম কিন্তু রাজনীতি নয়।

গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে সাফ জানিয়েছেন আগামী নির্বাচন কোন দু:খে দেবেন তিনি! তিনি বলেছেন-‘এমন কোন দৈন্যদশায় পড়িনি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে’!! কথাটা একেবারেই খাটি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা বিরোধী ঝড় নেই। ঝড়ের কবলে পড়ে শেখ হাসিনা কাবু হবেন, এমন নিশানাও নেই। রাজনৈতিক প্রতিকূল ঝড় থেকে রেহাই পেতে আগাম নির্বাচন দেয় শাসকরা। বাংলাদেশে এমন ঝড়ের আগাম কোন পূর্বাভাস নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মহাবিতর্কিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন তিনি। বীরদর্পেই
টিকে আছেন ৪ বছর যাবত। কোন রকমের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়নি তাঁকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঝড়ের দিকে একটু নজর দিলে আরো পরিবস্কার হবে বিষয় গুলো। আসুন সংক্ষেপে একটু চোখ বুলিয়ে নেই।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়েছিল। স্বাধীনতা পরবর্তি সরকারকে অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় ছিল হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে সশস্ত্র গণবাহিনী। আরো অনেক রাজনৈতিক দল তো ছিলই। শেষ পর্যন্ত রাজনীতি, গণমাধ্যম ও সভাসমিতিও নিষিদ্ধ করা হয়েছি রাজনৈতিক ঝড় থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। নানা চড়াই উৎড়াই গেছে। টিকতে পারেননি শেখ মুজিবুর রহমান। রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যেই তাঁকে অস্বাভাকি প্রক্রিয়ায় বিদায় নিতে হয়েছে। তবে আজীবন ক্ষমতায় থেকেই তিনি বিদায় নিয়েছেন।

আসলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার। তিনিও কিন্তু শান্তিতে দেশ পরিচালনা করতে পারেননি। প্রতিকূলতা ছিল প্রতিটি পদক্ষেপে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পাশাপাশি সামাল দিতে হয়েছে ১৯টি সামরিক ক্যু। ১৯টি সামরিক ক্যু সামাল দেওয়া কিন্তু সহজ কথা নয়। শেষ পর্যন্ত সামরিক ক্যূতেই জীবন দিতে হয়েছে তাঁকে।
আসলেন এরশাদ। তাঁর ৯ বছরের শাসন ছিল টালমাটাল। রাজনৈতিক আন্দোলনের জোয়াড় ছিল পুরো শাসন আমাল জুড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রচন্ড রাজনৈতিক আন্দোলনের মুখে সামরিক বাহিনী সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। পতন ঘটে তাঁর। পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এরশাদ। এরপর আসে ১৯৯১ সালের দেশে বিদেশে সর্বজন গ্রহনযোগ্য নির্বাচনে বিএনপি সরকার। শান্তিতে ছিলেন কি! শেখ হাসিনা তো প্রকাশ্যে জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন তখন, শান্তিতে থাকবে দেবেন না সরকারকে। ঝাকুনি দিয়ে গণতন্ত্র শেখাবেন। যেই কথা সেই কাজ। শান্তিতে থাকতে দেয়নি নির্বাচিত সরকারকে। প্রচন্ড ঝাকুনির মধ্যে রেখেছিলেন পুরো ৫ বছর জুড়ে। নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে দেশ টালমাটাল করতে পেরেছিলেন শেখ হাসিনা। প্রচন্ড ঝাকুনিতে তাঁর দাবী মানতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। তত্ত্বাবধায়ক দাবী আদায় করেই নির্বাচনে এসেছিলেন তিনি। তুমুল আন্দোলনে পরাজিত রাজনৈতিক দলের সাথে ১৯৯৬ সালে মার্জিন সীটে বিজয়ী হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এতে বলা যায় ১৯৯১ থেকে ৯৬ সালের গণতান্ত্রিক সরকার মোটেও শান্তিতে কাটাতে পারেনি।

আসুন দেখা যাক ৯১৯৬ থেকে ২০০১ সালের সরকার কেমন ছিল। সেটাও কিন্তু শান্তিতে ছিল না। ১১৬ সীট নিয়ে এপর্যন্ত জাতীয় সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দল ছিল বিএনপি। তারাও সংসদের ভেতরে বাইরে প্রথম দিন থেকেই যথেষ্ট অশান্তিতে রাখতে পেরেছিল শেখ হাসিনা সরকারকে। হরতাল, অবরোধ, লংমার্চে কেটেছিল পুরো ৫টি বছর। ২০০১ সালে আসে আবারো জাতীয় নির্বাচন। সেখানে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসন পায় বিরোধী জোট। মাত্র ৬২ আসন নিয়ে বিরোধী দলে যেতে হয় শেখ হাসিনাকে। সরকারে এসেছিল চার দলীয় জোট। শান্তিতে ছিল না তারাও। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কারের দাবীতে শেখ হাসিনা তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হন আবারো। এটাও ছিল নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতার শেষ দিনে লঙ্কাকান্ড ঘটিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ডাক দিয়েছিলেন সেদিন যেন সবাই রাজপথে লগিবৈঠা নিয়ে মাঠে থাকেন। সেদিন লগিবৈঠার তান্ডবে ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে ৫জন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুরো দেশে ক্ষমতা ত্যাগী ৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মী সেদিন আর রাজপথে নামতে পারেনি। অশান্তির দাবানল ছড়িয়েছিলেন ৫ বছর জুড়ে। এই অশান্তির সূত্রেই আসল জরুরী আইনের সরকার। ২ বছরের জরুরী আইনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবারো শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলেন।

২০০৯ থেকে ১৪ সালের ৫ জানুয়ারী পর্যন্ত বেশ অশান্তিতেই দেশ চালাতে হয়েছে। তারপরও লক্ষ্য অর্জনে ভাটা পড়েনি। বিরোধী জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বের করতে পেরেছেন। পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। সংবিধানকে সাজিয়েছেন তাঁর মত করে। নিজের আন্দোলনে সংবিধানে সংযোজিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান। সেটাকে ঝেটিয়ে বিদায় করেছেন নির্বিঘেœ। সবকিছুই সামাল দিয়েছেন দক্ষতার সাথে।

তবে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তুমুল আন্দোলন ও প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়েছে তাঁকে। বলা যায় গোটা দেশ অচল করতে পেরেছিল চার দলীয় জোট। কিন্তু, ঢাকা শহর ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সেটা সামাল দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে। বিনা ভোটের ১৫৪জন সংসদ সদস্য নিয়ে পার্লামেন্ট গঠিত হয়। সেই পার্লামেন্ট ও সরকার বির্নিঘেœ ৪ বছর পার করতে চলেছে। রাজপথ উত্তপ্ত করার মত কোন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়নি। আগের প্রতিটি সরকার রাজপথে চরম প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেই সময় পার করেছে। শেখ হাসিনার চলমান সরকার সে তুলনায় কিছুই মোকাবেলা করতে হয়নি। বরং একের পর এক রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে এ সরকার। তাই হয়ত: শেখ হাসিনা বলেছেন এমন কি দৈন্যদশায় পড়লাম আগাম নির্বাচন দিতে হবে! তাঁর মুখেই এমন কথা মানায়। তিনি প্রমান করতে পেরেছেন নিজেকে। ১৫৪জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বলা চলে বিশ্ব রেকর্ড। দুনিয়ার কোন জাতীয় সংসদে এমন ঘটনা ঘটেনি। বাকী ১৪৬ আসনে ভোটের নামে বলা চলে তামাশা হয়েছিল। তারপরও স্বাধীনতা পরবর্তি সব সরকারের চেয়ে শান্তিতে দেশ চালাতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনা। রাজনীতির অতীত রেকর্ডের হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়ে বিতর্কিত সংসদ ৫ বছর পার করে দিচ্ছে। বিন ভোটের সংসদ নতুন ইতিহাস তৈরি করছে এমনটাই বলা চলে।

এবার আসুন যথা সময়ে নির্বাচন দিলে কি হবে? শেখ হাসিনা কি বিরোধী জোটের দাবী মেনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা সহায়ক সরকারের বিধান তৈরি করবেন? রাজনীতিতে কি সেই রকম কোন লক্ষণ দেখা যায়, বা অতীত অভিজ্ঞতায় সেটা বলা যায়! যেখানে কোন প্রতিকূলতাই নেই সেখানে শেখ হাসিনা এ দাবী মানবে কেন! তিনি তো চাইবেন ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন দিতে। তাঁর মত করেই নির্বাচন দিয়ে বিজয়ী হতে চাইবেন। এপর্যন্ত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণে বলা যায় শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন দেবেন। তখন বিরোধী জোট কি করবে? সেই নির্বাচনে অংশ নেবে নাকি আবারো বর্জন করবে?

নির্বাচনে অংশ নিলে লাভ কি? বর্জন করলে ক্ষতি কি? সেই হিসাব নিশ্চয়ই বিরোধী জোটের নেতাদের রয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদী সেই হিসাব কষেই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। নির্বাচনে বিশাল ভোটে বিজয়ী সরকার গঠন করেও ক্ষমতায় বেশিদিন টিকতে পারেনি। এমন নজির বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে রয়েছে। আবার ভোটার বিহীন নির্বাচন করে ৫ বছর পার করে দেওয়া যায় সেই নজিরও তৈরি করছেন শেখ হাসিনা। তাই বলা যায় রাজনীতির সমীকরণটা বড়ই জঠিল।

১৯৮৬ সালে বিএনপিকে বাইরে রেখে এরশাদের জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল গুলো নির্বাচন করেছিল। সেই পার্লামেন্ট বেশিদিন টিকত পারেনি। ভেঙ্গে দিতে হয়েছিল ৮৭ সালের ডিসেম্বরেই। আবার ১৯৮৮ সালের মার্চে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীকে বাইরে রেখে এরশাদ নির্বাচন করেছিল। ৭০ দলের সমন্বয়ে সাজানো বিরোধী দল ছিল সেই পার্লামেন্টে। তুমুল আন্দোলনে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে যায় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে। পাকিস্তানে ১৯৭৭ সালের মার্চে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে নির্বাচনে জুলফিকার আলী ভূট্রোর দল পিপিপি জাতীয় সংসদের ২০০ আসের মধ্যে ১৫৫টিতে বিজয়ী হয়েছিল। ক্ষমতায় টিকতে পারেনি ৩মাসও। সেই বছরের ৫ জুলাই তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সেনা প্রধান জিয়াউল হক। সুতরাং কোন কিছুই রাজনীতিতে আগাম হিসাব কষা কঠিন। তারপরও শেখ হাসিনা একটি বিতর্কিত পার্লামেন্ট ৫ বছর পার করতে পারছে। ইতহাস গড়তে যাচ্ছে এই পার্লামেন্ট। তিনি যে চাইবেন নিজে ক্ষমতায় থেকে আবারো নির্বাচন দিতে সেটা পরিস্কার।

শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া সেটার এখতিয়ার বিরোধী জোটের। নিলে কি হবে, না নিলেই বা কি দাড়াবে সেটাও হিসাবে থাকতে হবে তখন। ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা কিন্তু দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানিয়েছেন। পুলিশ কর্তারাও চিৎকার দিয়েই বলেন, তারা সরকার টিকিয়ে রাখেন। গুম, খুন, অপহরণ ২০০৯ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। সেটা অব্যাহত রয়েছে। কোন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। বিরোধী মতের গণমাধ্যম গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। কেউ কথা বলছে না। ক্ষমতায় এসেই সবকিছুর প্রতিকার করা হবে। সেই আশায় নীরবে ভোটের অপেক্ষায় যারা রয়েছেন তাদেরও কিন্তু ভাববার সময় চলে যাচ্ছে।

লেখক: দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি,বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর

photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের প্রতি বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর প্রাক্কালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এবং নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড এই আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার ইউরোপীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নাগরিক অধিকার, মত

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment